গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় একটি সাধারণ আবাসিক ভবনের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ কারখানায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর বিপুল পরিমাণ নকল ঔষধ ও প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করেছে পুলিশ। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বা ড্রাগ প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমোদন এবং বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এসব মানহীন ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন করে অবাধে বাজারজাত করা হচ্ছিল। জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এই ভয়ংকর প্রতারণা চক্রের তিন সদস্যকে পুলিশ হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাছা থানাধীন দক্ষিণ খাইলকুর বগারটেক এলাকার চায়না ফ্যাক্টরির পাশে আবদুল জলিল গাজীর আবাসিক ভবনের একটি ফ্ল্যাটে গাছা থানা পুলিশ এই দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলো— খালিদ সাইফুল্লাহ সা-আদ (২২), মো. ইব্রাহিম হোসেন (২৭) এবং রাসেল আহমেদ (১৮)। তবে পুলিশের উপস্থিতি আগে থেকেই টের পেয়ে এই অবৈধ কারখানার মূল হোতা মো. মাহমুদ হাসান (৩৮) সুকৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অভিযানকালে পুলিশ ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ প্রস্তুতকৃত নকল পণ্য, মোড়ক এবং মেশিনপত্র জব্দ করে। জব্দকৃত এসব বিপজ্জনক মালামালের মধ্যে রয়েছে দশ কৌটা ন্যাচারাল লিকুরিন, আঠাশ কৌটা মরিঙ্গা, ছাব্বিশ কৌটা এলার্জির জম, চল্লিশটি ন্যাচারাল আঁচিল, চব্বিশটি পেইন কিউর, দশটি তামান্না এলোভেরা শ্যাম্পু, ষোলটি তামান্না ন্যাচারাল হেয়ারওয়েল, চারটি হোমমেড সেরেলাক, তেরোটি মেসওয়াক প্লাস টুথ পাউডার, বারোটি নাইট কিং, বিশটি চুলকানির লোশন, চব্বিশটি আবে হায়াত, পঁয়তাল্লিশটি আবে নিয়ামত, বিশটি আবে শিফা, চৌত্রিশটি হজমি এবং বাইশটি মেথি মিক্স। প্রতারণার কাজটি নিখুঁত করতে তারিখ ও লেবেল বসানোর জন্য ব্যবহৃত একটি ডাইরেক্ট হিট কোডিং মেশিনও উদ্ধার করা হয়।
এর পাশাপাশি কারখানায় বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ লেবেলবিহীন ভেজাল পণ্য। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বারো কৌটা লেবেলবিহীন ন্যাচারাল লিকুরিন, আঠাশ কৌটা এলার্জি জম, চৌদ্দ শিশি লেবেলযুক্ত ও পঞ্চাশ শিশি লেবেলবিহীন পঞ্চগনি, পঞ্চাশ কৌটা তামান্না এলোভেরা শ্যাম্পু, ত্রিশ প্যাকেট হোমমেড সেরেলাক, দুই শত বোতল মেসওয়াক প্লাস, পঞ্চাশ কৌটা নাইট কিং, এক শত আশিটি চুলকানির লোশন, নয়টি স্প্রে, দশ কৌটা মেথি মিক্স, আঠাশ কৌটা ন্যাচারাল এলার্জি বিনাশ, এক শত পঞ্চাশ কৌটা চর্মরোগ বিনাশ ক্রিম, দুই শত পিস মুলতানি মাটি, এক শত পঁয়তাল্লিশ কৌটা হালুয়া, সত্তর প্যাকেট খিচুরী মিক্সড চাউল, দশ পিস ডেন্টা ড্রপ, পঁচাত্তর কৌটা গুড হেলথ-২৪, দুই শত বিশ বোতল স্কিন ক্লিন শ্যাম্পু, আট কৌটা লেবেলযুক্ত ও এক শত পঁয়তাল্লিশ কৌটা লেবেলবিহীন গুড বাই ডায়াবেটিকস। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ভুয়া নাম ব্যবহার করার জন্য বিপুল পরিমাণ লেবেল বা স্টিকার ভর্তি একটি ছোট কার্টুনও পুলিশ জব্দ করেছে।
এ ঘটনায় জনস্বার্থ রক্ষার্থে গাছা থানায় এসআই (নিঃ) নয়ন আহমেদ বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের (The Special Powers Act, 1974) ২৫-সি/২৫-ডি ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক প্রধান আসামিসহ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই ভয়ংকর ভেজাল কারখানার সন্ধান পাওয়ার পর সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আবাসিক ভবনের আড়ালে গড়ে ওঠা এমন নকল ঔষধ ও প্রসাধনীর কারখানাগুলো সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব ঘাতক। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন তৎপরতা প্রশংসনীয় হলেও, এই ধরনের অসাধু চক্রকে সমূলে উৎপাটন করতে প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা। জনসচেতনতা এবং প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে আমাদের সমাজকে এমন ভয়ংকর প্রতারকদের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় একটি সাধারণ আবাসিক ভবনের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ কারখানায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর বিপুল পরিমাণ নকল ঔষধ ও প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করেছে পুলিশ। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বা ড্রাগ প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমোদন এবং বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এসব মানহীন ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন করে অবাধে বাজারজাত করা হচ্ছিল। জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এই ভয়ংকর প্রতারণা চক্রের তিন সদস্যকে পুলিশ হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাছা থানাধীন দক্ষিণ খাইলকুর বগারটেক এলাকার চায়না ফ্যাক্টরির পাশে আবদুল জলিল গাজীর আবাসিক ভবনের একটি ফ্ল্যাটে গাছা থানা পুলিশ এই দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলো— খালিদ সাইফুল্লাহ সা-আদ (২২), মো. ইব্রাহিম হোসেন (২৭) এবং রাসেল আহমেদ (১৮)। তবে পুলিশের উপস্থিতি আগে থেকেই টের পেয়ে এই অবৈধ কারখানার মূল হোতা মো. মাহমুদ হাসান (৩৮) সুকৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অভিযানকালে পুলিশ ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ প্রস্তুতকৃত নকল পণ্য, মোড়ক এবং মেশিনপত্র জব্দ করে। জব্দকৃত এসব বিপজ্জনক মালামালের মধ্যে রয়েছে দশ কৌটা ন্যাচারাল লিকুরিন, আঠাশ কৌটা মরিঙ্গা, ছাব্বিশ কৌটা এলার্জির জম, চল্লিশটি ন্যাচারাল আঁচিল, চব্বিশটি পেইন কিউর, দশটি তামান্না এলোভেরা শ্যাম্পু, ষোলটি তামান্না ন্যাচারাল হেয়ারওয়েল, চারটি হোমমেড সেরেলাক, তেরোটি মেসওয়াক প্লাস টুথ পাউডার, বারোটি নাইট কিং, বিশটি চুলকানির লোশন, চব্বিশটি আবে হায়াত, পঁয়তাল্লিশটি আবে নিয়ামত, বিশটি আবে শিফা, চৌত্রিশটি হজমি এবং বাইশটি মেথি মিক্স। প্রতারণার কাজটি নিখুঁত করতে তারিখ ও লেবেল বসানোর জন্য ব্যবহৃত একটি ডাইরেক্ট হিট কোডিং মেশিনও উদ্ধার করা হয়।
এর পাশাপাশি কারখানায় বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ লেবেলবিহীন ভেজাল পণ্য। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বারো কৌটা লেবেলবিহীন ন্যাচারাল লিকুরিন, আঠাশ কৌটা এলার্জি জম, চৌদ্দ শিশি লেবেলযুক্ত ও পঞ্চাশ শিশি লেবেলবিহীন পঞ্চগনি, পঞ্চাশ কৌটা তামান্না এলোভেরা শ্যাম্পু, ত্রিশ প্যাকেট হোমমেড সেরেলাক, দুই শত বোতল মেসওয়াক প্লাস, পঞ্চাশ কৌটা নাইট কিং, এক শত আশিটি চুলকানির লোশন, নয়টি স্প্রে, দশ কৌটা মেথি মিক্স, আঠাশ কৌটা ন্যাচারাল এলার্জি বিনাশ, এক শত পঞ্চাশ কৌটা চর্মরোগ বিনাশ ক্রিম, দুই শত পিস মুলতানি মাটি, এক শত পঁয়তাল্লিশ কৌটা হালুয়া, সত্তর প্যাকেট খিচুরী মিক্সড চাউল, দশ পিস ডেন্টা ড্রপ, পঁচাত্তর কৌটা গুড হেলথ-২৪, দুই শত বিশ বোতল স্কিন ক্লিন শ্যাম্পু, আট কৌটা লেবেলযুক্ত ও এক শত পঁয়তাল্লিশ কৌটা লেবেলবিহীন গুড বাই ডায়াবেটিকস। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ভুয়া নাম ব্যবহার করার জন্য বিপুল পরিমাণ লেবেল বা স্টিকার ভর্তি একটি ছোট কার্টুনও পুলিশ জব্দ করেছে।
এ ঘটনায় জনস্বার্থ রক্ষার্থে গাছা থানায় এসআই (নিঃ) নয়ন আহমেদ বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের (The Special Powers Act, 1974) ২৫-সি/২৫-ডি ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক প্রধান আসামিসহ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই ভয়ংকর ভেজাল কারখানার সন্ধান পাওয়ার পর সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আবাসিক ভবনের আড়ালে গড়ে ওঠা এমন নকল ঔষধ ও প্রসাধনীর কারখানাগুলো সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব ঘাতক। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন তৎপরতা প্রশংসনীয় হলেও, এই ধরনের অসাধু চক্রকে সমূলে উৎপাটন করতে প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা। জনসচেতনতা এবং প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে আমাদের সমাজকে এমন ভয়ংকর প্রতারকদের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে।

মতামত