ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দলীয় কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে মতবিনিময় ও পরামর্শমূলক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগামী ছয় মাসের জন্য চরভদ্রাসন ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত্র ৮ ঘটিকায় উপজেলার চরহাজীগঞ্জ বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু। প্রধান বক্তা জেলা সদস্যসচিব সাইফ হাসান খান শাকিব।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির ফরিদপুর জেলা সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় যুবশক্তি এনসিপির ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক জুনায়েদ মাহমুদ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি এনসিপির ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক সাইদুর রহমান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি চরভদ্রাসন উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নজরুল আহমেদ বেপারী। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উপজেলা শাখার সদস্যসচিব আল মামুন ও সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সেলিম রানা। এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, “আমরা সরকারের বন্ধু, শত্রু নই। সরকার ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করব, আর ভুল বা অন্যায় করলে সমালোচনা করব। ভালো কাজের যেমন প্রশংসা করতে হবে, তেমনি খারাপ কাজেরও সমালোচনা করতে হবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে কথা বলা এবং অন্যায়-অনিয়ম তুলে ধরা আমাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব।”
তারা বলেন, সমাজ থেকে মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে এনসিপির নেতাকর্মীদের মানুষের কাছে যেতে হবে এবং দলের নীতি, আদর্শ ও নৈতিকতার বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সেই প্রত্যাশা পূরণে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তাঁরা বলেন, শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে নীতি, আদর্শ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে রাজনীতি করতে হবে।
তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মানুষের মন জয় করে এনসিপিকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দলে পরিণত করতে হবে। জনগণের সমর্থন অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনের উপযোগী সংগঠন হিসেবে দলকে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা। বৈষম্য, দুর্নীতি, অন্যায় ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, লোভ-লালসা, অন্যায়-অত্যাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দলের নীতি-আদর্শ তুলে ধরতে হবে এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে হবে।
সভায় আগামী ছয় মাসের জন্য চরভদ্রাসন ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে ইকবাল মণ্ডলকে আহ্বায়ক, রাকিব খানকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং এরশাদ মণ্ডলকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। পাশাপাশি সদস্যসচিব, যুগ্ম সদস্যসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।
সভায় নেতৃবৃন্দ চরভদ্রাসনে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, নতুন কর্মী যুক্ত করা এবং জনগণের সমস্যা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দলীয় কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে মতবিনিময় ও পরামর্শমূলক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগামী ছয় মাসের জন্য চরভদ্রাসন ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত্র ৮ ঘটিকায় উপজেলার চরহাজীগঞ্জ বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু। প্রধান বক্তা জেলা সদস্যসচিব সাইফ হাসান খান শাকিব।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির ফরিদপুর জেলা সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় যুবশক্তি এনসিপির ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক জুনায়েদ মাহমুদ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি এনসিপির ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক সাইদুর রহমান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি চরভদ্রাসন উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নজরুল আহমেদ বেপারী। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উপজেলা শাখার সদস্যসচিব আল মামুন ও সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সেলিম রানা। এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, “আমরা সরকারের বন্ধু, শত্রু নই। সরকার ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করব, আর ভুল বা অন্যায় করলে সমালোচনা করব। ভালো কাজের যেমন প্রশংসা করতে হবে, তেমনি খারাপ কাজেরও সমালোচনা করতে হবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে কথা বলা এবং অন্যায়-অনিয়ম তুলে ধরা আমাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব।”
তারা বলেন, সমাজ থেকে মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে এনসিপির নেতাকর্মীদের মানুষের কাছে যেতে হবে এবং দলের নীতি, আদর্শ ও নৈতিকতার বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সেই প্রত্যাশা পূরণে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তাঁরা বলেন, শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে নীতি, আদর্শ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে রাজনীতি করতে হবে।
তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মানুষের মন জয় করে এনসিপিকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দলে পরিণত করতে হবে। জনগণের সমর্থন অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনের উপযোগী সংগঠন হিসেবে দলকে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা। বৈষম্য, দুর্নীতি, অন্যায় ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, লোভ-লালসা, অন্যায়-অত্যাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দলের নীতি-আদর্শ তুলে ধরতে হবে এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে হবে।
সভায় আগামী ছয় মাসের জন্য চরভদ্রাসন ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে ইকবাল মণ্ডলকে আহ্বায়ক, রাকিব খানকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং এরশাদ মণ্ডলকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। পাশাপাশি সদস্যসচিব, যুগ্ম সদস্যসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।
সভায় নেতৃবৃন্দ চরভদ্রাসনে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, নতুন কর্মী যুক্ত করা এবং জনগণের সমস্যা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মতামত