কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় ‘টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কক্সবাজারস্থ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজন হলে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারেই ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস। টানা সাত ঘণ্টার অভিযান শেষে ২টা ৪০ মিনিটে ১০টি মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে তাদের কার্যক্রম শেষ হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে ছয়জনকে একই কক্ষে পাওয়া গেছে। তাঁরা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকি চারজনের মরদেহ পাওয়া গেছে ওয়াশরুমে। আগুন থেকে বাঁচতে তাঁরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রিসোর্ট ভবনটিতে প্রচুর কাঠ, বোটসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভেতরে অবস্থানরত অতিথিদের বের হওয়ার পর্যাপ্ত সময় মেলেনি। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মরদেহগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে রিসোর্টটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের হতাহতের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই রিসোর্টে একই পরিবারের নয়জন অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের চিকিৎসাধীন সদস্যদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য চারজনকে উড়োজাহাজে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু আব্দুল্লাহ জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া বোর্ডার তালিকা অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে ১৮ জন অতিথি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সকালে মর্নিং ওয়াকে বের হওয়ায় দুজন নিরাপদে ছিলেন, সাতজন চিকিৎসাধীন এবং নয়জন নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তবে ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের নাম বোর্ডার তালিকার সঙ্গে মেলেনি।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় ‘টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কক্সবাজারস্থ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজন হলে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারেই ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস। টানা সাত ঘণ্টার অভিযান শেষে ২টা ৪০ মিনিটে ১০টি মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে তাদের কার্যক্রম শেষ হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে ছয়জনকে একই কক্ষে পাওয়া গেছে। তাঁরা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকি চারজনের মরদেহ পাওয়া গেছে ওয়াশরুমে। আগুন থেকে বাঁচতে তাঁরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রিসোর্ট ভবনটিতে প্রচুর কাঠ, বোটসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভেতরে অবস্থানরত অতিথিদের বের হওয়ার পর্যাপ্ত সময় মেলেনি। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মরদেহগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে রিসোর্টটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের হতাহতের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই রিসোর্টে একই পরিবারের নয়জন অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের চিকিৎসাধীন সদস্যদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য চারজনকে উড়োজাহাজে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু আব্দুল্লাহ জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া বোর্ডার তালিকা অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে ১৮ জন অতিথি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সকালে মর্নিং ওয়াকে বের হওয়ায় দুজন নিরাপদে ছিলেন, সাতজন চিকিৎসাধীন এবং নয়জন নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তবে ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের নাম বোর্ডার তালিকার সঙ্গে মেলেনি।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

মতামত