দৈনিক পল্লী বাংলা

‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’

ছেউড়িয়ায় লাখো ভক্তের ঢলে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব

ছেউড়িয়ায় লাখো ভক্তের ঢলে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব

একটি গানও নিজ হাতে লিখে না রেখেও মৃত্যুর দীর্ঘ ১৩৬ বছর পর ভক্তদের কণ্ঠে ও হৃদয়ে পরম মমতায় বেঁচে আছেন মরমি সাধক ও মানবতাবাদী দার্শনিক ফকির লালন সাঁই। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়া আখড়াবাড়িতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে তাঁর তিন দিনব্যাপী তিরোধান স্মরণোৎসব। আগামী ১৯ অক্টোবর (সোমবার) পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।

জাতপাত ও ধর্মীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মানুষকে স্থান দেওয়া লালন সাঁই ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর) ছেউড়িয়ার আখড়ায় প্রয়াণ লাভ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই অনুসারীরা প্রতিবছর ১ কার্তিক দিনটিকে তিরোধান দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন। অধিবাস সেবার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে প্রচলিত প্রাচীন সাধুরীতি মেনে অষ্টপ্রহরের সাধুসঙ্গ, বাল্যসেবা ও পূর্ণসেবা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উৎসব উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে আসা লাখো ভক্ত ও অনুসারীর পদচারণায় এখন মুখরিত ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়ি। আখড়া চত্বরে নিজেদের ঘরানায় ছোট ছোট আসর বসিয়ে দোতারা ও একতারার সুরে সুরে সাঁইজির বাণী ছড়িয়ে দিচ্ছেন সাধুরা। প্রবীণ সাধকদের মতে, বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, সহজ মানুষের সহজ আনন্দ ও আত্মশুদ্ধির সাধুসঙ্গের মধ্যেই এ উৎসবের আসল তাৎপর্য নিহিত।

মাজার প্রাঙ্গণে সাধুসঙ্গের পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে লালন একাডেমি চত্বরে তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও লোকসংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান। আলোচনা সভা শেষে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত মূল মঞ্চে পরিবেশিত হচ্ছে দেশবরেণ্য বাউল শিল্পীদের লালন সংগীত। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো ছেউড়িয়া এলাকায় নেওয়া হয়েছে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক পল্লী বাংলা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


ছেউড়িয়ায় লাখো ভক্তের ঢলে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একটি গানও নিজ হাতে লিখে না রেখেও মৃত্যুর দীর্ঘ ১৩৬ বছর পর ভক্তদের কণ্ঠে ও হৃদয়ে পরম মমতায় বেঁচে আছেন মরমি সাধক ও মানবতাবাদী দার্শনিক ফকির লালন সাঁই। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়া আখড়াবাড়িতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে তাঁর তিন দিনব্যাপী তিরোধান স্মরণোৎসব। আগামী ১৯ অক্টোবর (সোমবার) পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।

জাতপাত ও ধর্মীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মানুষকে স্থান দেওয়া লালন সাঁই ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর) ছেউড়িয়ার আখড়ায় প্রয়াণ লাভ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই অনুসারীরা প্রতিবছর ১ কার্তিক দিনটিকে তিরোধান দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন। অধিবাস সেবার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে প্রচলিত প্রাচীন সাধুরীতি মেনে অষ্টপ্রহরের সাধুসঙ্গ, বাল্যসেবা ও পূর্ণসেবা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উৎসব উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে আসা লাখো ভক্ত ও অনুসারীর পদচারণায় এখন মুখরিত ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়ি। আখড়া চত্বরে নিজেদের ঘরানায় ছোট ছোট আসর বসিয়ে দোতারা ও একতারার সুরে সুরে সাঁইজির বাণী ছড়িয়ে দিচ্ছেন সাধুরা। প্রবীণ সাধকদের মতে, বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, সহজ মানুষের সহজ আনন্দ ও আত্মশুদ্ধির সাধুসঙ্গের মধ্যেই এ উৎসবের আসল তাৎপর্য নিহিত।

মাজার প্রাঙ্গণে সাধুসঙ্গের পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে লালন একাডেমি চত্বরে তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও লোকসংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান। আলোচনা সভা শেষে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত মূল মঞ্চে পরিবেশিত হচ্ছে দেশবরেণ্য বাউল শিল্পীদের লালন সংগীত। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো ছেউড়িয়া এলাকায় নেওয়া হয়েছে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।


দৈনিক পল্লী বাংলা

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শেখ আজমল হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত পল্লী বাংলা