পরিচয় : রমেন্দ্র নারায়ণ রায় ভাওয়াল এস্টেটের দ্বিতীয় কুমার (রাজপুত্র) ছিলেন, যিনি "মেজো কুমার" নামে পরিচিত ছিলেন।
জীবনযাপন : ১৮৮৪ সালের ২৮ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিকার ও ভোগ-বিলাসে অভ্যস্ত ছিলেন এবং ১৯০৫ সালের দিকে সিফিলিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
আপাত মৃত্যু : ১৯০৯ সালের ৭ মে দার্জিলিংয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দাবি করা হয়েছিল, পিত্তথলির সমস্যায় তার মৃত্যু হয়েছে এবং পরদিন তার মৃতদেহ দাহ করা হয়।
ফিরে আসা ও দীর্ঘ আইনি লড়াই।
সন্ন্যাসীর বেশে আবির্ভাব : মৃত্যুর ১২ বছর পর ১৯২১ সালে ঢাকার বাকল্যান্ড বাঁধে এক হিন্দু সন্ন্যাসী আবির্ভূত হন, যিনি দেখতে রমেন্দ্রের মতোই ছিলেন।
নিজেকে রাজ কুমার দাবি : ওই সন্ন্যাসী দাবি করেন, দার্জিলিংয়ে তাকে বিষ দেয়া হয়েছিল এবং দাহ করার সময় শিলাবৃষ্টির কারণে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে হিমালয়ের সন্ন্যাসীরা তাকে সুস্থ করে তোলেন।
মামলা : ১৯৩০ সালে তিনি নিজেকে প্রকৃত রমেন্দ্র নারায়ণ রায় হিসেবে দাবি করে মামলা করেন। এই মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণে তিনি তার শৈশবের দুধমা'র নাম বলতে পারায় অনেকেই তাকে চিনতে পারেন।
রায় : নিম্ন আদালত তার পক্ষে রায় দিলেও রানী বিভাবতী দেবী আপিল করেন। শেষে লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত মামলা গড়ায়।
ঐতিহাসিক তাৎপর্য :
তৎকালীন প্রভাব : ভাওয়াল এস্টেট ছিল তৎকালীন বাংলার অন্যতম বৃহৎ জমিদারি (প্রায় ৫৭৯ বর্গমাইল)। রমেন্দ্রের মৃত্যুর পর এস্টেটটি কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীনে চলে যায়।
সাংস্কৃতিক প্রভাব : এই ঘটনা বাংলার সাহিত্য ও সিনেমায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। "সন্ন্যাসী রাজা" (উত্তম কুমার অভিনীত) এবং "এক যে ছিলো রাজা" (শ্রীজিৎ মুখার্জি পরিচালিত) সিনেমা এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই নির্মিত।
ঘটনার শেষ পরিণতি ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিলের চূড়ান্ত রায়ে সন্ন্যাসীর পক্ষে রায় আসে, কিন্তু সেই রায়ের আনন্দ তিনি বেশিদিন উপভোগ করতে পারেননি।
চূড়ান্ত রায় ও মৃত্যু।
প্রিভি কাউন্সিলের রায় : ১৯৪৬ সালের ৩০ জুলাই লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিল রমেন্দ্র নারায়ণ রায়ের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেয় যা পূর্ববর্তী আদালতের রায়কে বহাল রাখে।
মৃত্যু : রায়ের খবর পেয়ে তিনি কলকাতার ঠানঠানিয়া কালী মন্দিরে পূজা দিতে যান। সেখান থেকে বেরোনোর সময় তার স্ট্রোক হয় এবং দুই দিন পর অর্থাৎ ১৯৪৬ সালের ৩১ জুলাই বা তার কিছু পরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার দাবিতে জয়ী হয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু সেই জয় উপভোগ করার সুযোগ পাননি।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
পরিচয় : রমেন্দ্র নারায়ণ রায় ভাওয়াল এস্টেটের দ্বিতীয় কুমার (রাজপুত্র) ছিলেন, যিনি "মেজো কুমার" নামে পরিচিত ছিলেন।
জীবনযাপন : ১৮৮৪ সালের ২৮ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিকার ও ভোগ-বিলাসে অভ্যস্ত ছিলেন এবং ১৯০৫ সালের দিকে সিফিলিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
আপাত মৃত্যু : ১৯০৯ সালের ৭ মে দার্জিলিংয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দাবি করা হয়েছিল, পিত্তথলির সমস্যায় তার মৃত্যু হয়েছে এবং পরদিন তার মৃতদেহ দাহ করা হয়।
ফিরে আসা ও দীর্ঘ আইনি লড়াই।
সন্ন্যাসীর বেশে আবির্ভাব : মৃত্যুর ১২ বছর পর ১৯২১ সালে ঢাকার বাকল্যান্ড বাঁধে এক হিন্দু সন্ন্যাসী আবির্ভূত হন, যিনি দেখতে রমেন্দ্রের মতোই ছিলেন।
নিজেকে রাজ কুমার দাবি : ওই সন্ন্যাসী দাবি করেন, দার্জিলিংয়ে তাকে বিষ দেয়া হয়েছিল এবং দাহ করার সময় শিলাবৃষ্টির কারণে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে হিমালয়ের সন্ন্যাসীরা তাকে সুস্থ করে তোলেন।
মামলা : ১৯৩০ সালে তিনি নিজেকে প্রকৃত রমেন্দ্র নারায়ণ রায় হিসেবে দাবি করে মামলা করেন। এই মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণে তিনি তার শৈশবের দুধমা'র নাম বলতে পারায় অনেকেই তাকে চিনতে পারেন।
রায় : নিম্ন আদালত তার পক্ষে রায় দিলেও রানী বিভাবতী দেবী আপিল করেন। শেষে লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত মামলা গড়ায়।
ঐতিহাসিক তাৎপর্য :
তৎকালীন প্রভাব : ভাওয়াল এস্টেট ছিল তৎকালীন বাংলার অন্যতম বৃহৎ জমিদারি (প্রায় ৫৭৯ বর্গমাইল)। রমেন্দ্রের মৃত্যুর পর এস্টেটটি কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীনে চলে যায়।
সাংস্কৃতিক প্রভাব : এই ঘটনা বাংলার সাহিত্য ও সিনেমায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। "সন্ন্যাসী রাজা" (উত্তম কুমার অভিনীত) এবং "এক যে ছিলো রাজা" (শ্রীজিৎ মুখার্জি পরিচালিত) সিনেমা এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই নির্মিত।
ঘটনার শেষ পরিণতি ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিলের চূড়ান্ত রায়ে সন্ন্যাসীর পক্ষে রায় আসে, কিন্তু সেই রায়ের আনন্দ তিনি বেশিদিন উপভোগ করতে পারেননি।
চূড়ান্ত রায় ও মৃত্যু।
প্রিভি কাউন্সিলের রায় : ১৯৪৬ সালের ৩০ জুলাই লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিল রমেন্দ্র নারায়ণ রায়ের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেয় যা পূর্ববর্তী আদালতের রায়কে বহাল রাখে।
মৃত্যু : রায়ের খবর পেয়ে তিনি কলকাতার ঠানঠানিয়া কালী মন্দিরে পূজা দিতে যান। সেখান থেকে বেরোনোর সময় তার স্ট্রোক হয় এবং দুই দিন পর অর্থাৎ ১৯৪৬ সালের ৩১ জুলাই বা তার কিছু পরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার দাবিতে জয়ী হয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু সেই জয় উপভোগ করার সুযোগ পাননি।

মতামত