জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। নির্ধারিত দোকান ও গুদাম না থাকা, পণ্যের ওজনে কম দেওয়া, নির্ধারিত প্যাকেজ মূল্যের বাইরে ব্যাগের দাম আদায় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে পণ্য বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারি ভর্তুকিতে স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনতে গিয়ে ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন নিম্নআয়ের উপকারভোগীরা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় টিসিবির পণ্য বিতরণের জন্য আটটি ডিলারের নামে পণ্য বরাদ্দ রয়েছে। বরাদ্দের তালিকায় রয়েছে পিংনা ইউনিয়নের মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রবিন এন্টারপ্রাইজ, দৌলতপুরের মেসার্স মিলন ট্রেডার্স, মহাদানের মেসার্স এস এ রাইস ফ্লাওয়ার প্রসেসিং, কামরাবাদের মেসার্স আরহাম এন্টারপ্রাইজ, চর জামিরার মেসার্স জাহান এন্টারপ্রাইজ এবং ভাটারার মেসার্স আনোয়ার এন্টারপ্রাইজ।
অভিযোগ রয়েছে, তালিকাভুক্ত অনেক ডিলারের নিজস্ব কিংবা ভাড়ায় নেওয়া নির্ধারিত স্থায়ী দোকান ও পণ্য সংরক্ষণের উপযুক্ত গুদাম নেই। তাঁরা বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে পণ্য বিতরণ করছেন। অথচ টিসিবির নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ডিলারদের পণ্য সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য উপযুক্ত দোকান বা গুদাম থাকার কথা। এ অবস্থায় পণ্য সংরক্ষণ, পরিমাপ ও বিতরণ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা আলোচনা -সমালোচনা উঠেছে।
ভুক্তভোগী পৌরসভার শিমলা বাজার এলাকার জুলেখা বেগম এবং মহাদান ইউনিয়নের করগ্রাম গ্রামের জামাল উদ্দিন ও আকবর আলীসহ কয়েকজন উপকারভোগীর অভিযোগ, কোনো কোনো ডিলার নির্ধারিত প্যাকেজের মূল্যের বাইরে ব্যাগের দাম আদায় করছেন। এমনকি পণ্য নিতে হলে ব্যাগ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্যাকেজে নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় চিনি ও ডালসহ বিভিন্ন পণ্য ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। এতে স্বল্পমূল্যে সরকারি পণ্য পাওয়ার উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
এদিকে পণ্য বিতরণকেন্দ্রে টিসিবির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্যসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন না করার অভিযোগও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্যাকেজের নির্ধারিত মূল্য, পণ্যের পরিমাণ ও বিবরণ এবং উপকারভোগীর সংখ্যা উল্লেখ করা হচ্ছে না। ফলে পণ্যের সঠিক ওজন ও মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছেন না ক্রেতারা। এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি ছাড়াই পণ্য বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি পণ্য বিতরণ কার্যক্রমে তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ডিলার নির্বাচনের যোগ্যতা ও শর্ত নিয়েও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, নিয়মিত মুদি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, এমন ব্যক্তিরাও ডিলারশিপ পেয়েছেন। কোনো কোনো ডিলারের মুদি দোকানের পরিবর্তে রয়েছে রাইস অ্যান্ড ফ্লাওয়ার মিল। ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স জাহান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জগলু মন্ডল বলেন, ‘সয়াবিন তেল, ডাল, চিনি ও লবণের প্যাকেজের জন্য ৪৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সবাই নিচ্ছে, তাই আমিও নিচ্ছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট টিসিবি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোনো ডিলার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ডিলারদের দোকান ও গুদাম থাকার বিষয়টি যাচাই, প্রতিটি বিতরণকেন্দ্রে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত, পণ্যের সঠিক ওজন ও নির্ধারিত মূল্য প্রকাশ্যে প্রদর্শন এবং নিয়মিত তদারকি জোরদার করতে হবে।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। নির্ধারিত দোকান ও গুদাম না থাকা, পণ্যের ওজনে কম দেওয়া, নির্ধারিত প্যাকেজ মূল্যের বাইরে ব্যাগের দাম আদায় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে পণ্য বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারি ভর্তুকিতে স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনতে গিয়ে ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন নিম্নআয়ের উপকারভোগীরা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় টিসিবির পণ্য বিতরণের জন্য আটটি ডিলারের নামে পণ্য বরাদ্দ রয়েছে। বরাদ্দের তালিকায় রয়েছে পিংনা ইউনিয়নের মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রবিন এন্টারপ্রাইজ, দৌলতপুরের মেসার্স মিলন ট্রেডার্স, মহাদানের মেসার্স এস এ রাইস ফ্লাওয়ার প্রসেসিং, কামরাবাদের মেসার্স আরহাম এন্টারপ্রাইজ, চর জামিরার মেসার্স জাহান এন্টারপ্রাইজ এবং ভাটারার মেসার্স আনোয়ার এন্টারপ্রাইজ।
অভিযোগ রয়েছে, তালিকাভুক্ত অনেক ডিলারের নিজস্ব কিংবা ভাড়ায় নেওয়া নির্ধারিত স্থায়ী দোকান ও পণ্য সংরক্ষণের উপযুক্ত গুদাম নেই। তাঁরা বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে পণ্য বিতরণ করছেন। অথচ টিসিবির নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ডিলারদের পণ্য সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য উপযুক্ত দোকান বা গুদাম থাকার কথা। এ অবস্থায় পণ্য সংরক্ষণ, পরিমাপ ও বিতরণ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা আলোচনা -সমালোচনা উঠেছে।
ভুক্তভোগী পৌরসভার শিমলা বাজার এলাকার জুলেখা বেগম এবং মহাদান ইউনিয়নের করগ্রাম গ্রামের জামাল উদ্দিন ও আকবর আলীসহ কয়েকজন উপকারভোগীর অভিযোগ, কোনো কোনো ডিলার নির্ধারিত প্যাকেজের মূল্যের বাইরে ব্যাগের দাম আদায় করছেন। এমনকি পণ্য নিতে হলে ব্যাগ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্যাকেজে নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় চিনি ও ডালসহ বিভিন্ন পণ্য ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। এতে স্বল্পমূল্যে সরকারি পণ্য পাওয়ার উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
এদিকে পণ্য বিতরণকেন্দ্রে টিসিবির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্যসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন না করার অভিযোগও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্যাকেজের নির্ধারিত মূল্য, পণ্যের পরিমাণ ও বিবরণ এবং উপকারভোগীর সংখ্যা উল্লেখ করা হচ্ছে না। ফলে পণ্যের সঠিক ওজন ও মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছেন না ক্রেতারা। এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি ছাড়াই পণ্য বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি পণ্য বিতরণ কার্যক্রমে তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ডিলার নির্বাচনের যোগ্যতা ও শর্ত নিয়েও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, নিয়মিত মুদি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, এমন ব্যক্তিরাও ডিলারশিপ পেয়েছেন। কোনো কোনো ডিলারের মুদি দোকানের পরিবর্তে রয়েছে রাইস অ্যান্ড ফ্লাওয়ার মিল। ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স জাহান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জগলু মন্ডল বলেন, ‘সয়াবিন তেল, ডাল, চিনি ও লবণের প্যাকেজের জন্য ৪৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সবাই নিচ্ছে, তাই আমিও নিচ্ছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট টিসিবি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোনো ডিলার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ডিলারদের দোকান ও গুদাম থাকার বিষয়টি যাচাই, প্রতিটি বিতরণকেন্দ্রে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত, পণ্যের সঠিক ওজন ও নির্ধারিত মূল্য প্রকাশ্যে প্রদর্শন এবং নিয়মিত তদারকি জোরদার করতে হবে।

মতামত