দৈনিক পল্লীবাংলা
প্রকাশ : শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

পারস্পরিক ভেটোতে আজ শেষ হচ্ছে পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের মেয়াদ

পারস্পরিক ভেটোতে আজ শেষ হচ্ছে পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের মেয়াদ

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি ভেটোতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের (মিনুরসো) মেয়াদ আজ শনিবার শেষ হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

১৯৯১ সালে গঠিত ‘মিনুরসো’ নামক এই শান্তিরক্ষা বাহিনীতে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত ৩৫৯ জন বেসামরিক ও সামরিক সদস্য কর্মরত ছিলেন। উল্লেখ্য, পশ্চিম সাহারার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মরক্কো এবং আলজেরিয়ার সমর্থনপুষ্ট পলিসারিও ফ্রন্টের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে গত ৫০ বছর ধরে সংঘাত চলে আসছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। ১৫ সদস্যের মধ্যে ১১টি দেশ এর পক্ষে ভোট দেয়। মার্কিন প্রস্তাবে সংঘাত নিরসনে মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবটি পাস হলে বাহিনীর নাম ‘মিনুরসো’ থেকে পরিবর্তন করে ‘মিনুসো’ করার এবং পশ্চিম সাহারার জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নির্ধারণে গণভোট আয়োজনের বিষয়টি বাদ পড়ার কথা ছিল।

তবে গত শুক্রবার রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটিতে ভেটো দেয়। মস্কো উদ্যোগটিকে ‘একতরফা পদক্ষেপ’ বলে সমালোচনা করে এবং পূর্বের শর্ত বহাল রেখে মিশনের মেয়াদ বাড়ানোর পাল্টা প্রস্তাব উত্থাপন করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও রাশিয়ার প্রস্তাবে ভেটো প্রয়োগ করে। ফলে মার্কিন প্রস্তাবের পক্ষে থাকা দেশগুলো ভোটদান থেকে বিরত থাকে।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ অভিযোগ করে বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি সদস্য দেশ ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন একটি নাম ও প্রতীক ধরে রাখতে চেয়েছে, যা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জাতিসংঘ বহু দশক ধরেই নিচ্ছে না। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রতিনিধি জেরোম বনাফোঁ রাশিয়ার ‘বাধা সৃষ্টির’ তীব্র নিন্দা জানান। তবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সারাহ ম্যাকিনটোশ সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধানের আহ্বান জানান।

এদিকে শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে মরক্কোর রাজকীয় দপ্তর। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের সম্পৃক্ততার অবসান ঘটিয়ে বিষয়টি আলোচ্যসূচি থেকে বাদ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে আলজেরিয়ার প্রতিনিধি আমার বেনজামা এবং নিউইয়র্কে পলিসারিও ফ্রন্টের প্রতিনিধি সিদি ওমর যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর থেকেই পশ্চিম সাহারার বিষয়ে মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে ‘সবচেয়ে বাস্তবসম্মত’ সমাধান হিসেবে বিবেচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা পরিষদ। ২০০৭ সালে রাবাত এই পরিকল্পনা পেশ করেছিল, যেখানে বিশাল মরুভূমি অঞ্চলের ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখেই সীমিত স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক পল্লীবাংলা

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


পারস্পরিক ভেটোতে আজ শেষ হচ্ছে পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের মেয়াদ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি ভেটোতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের (মিনুরসো) মেয়াদ আজ শনিবার শেষ হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

১৯৯১ সালে গঠিত ‘মিনুরসো’ নামক এই শান্তিরক্ষা বাহিনীতে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত ৩৫৯ জন বেসামরিক ও সামরিক সদস্য কর্মরত ছিলেন। উল্লেখ্য, পশ্চিম সাহারার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মরক্কো এবং আলজেরিয়ার সমর্থনপুষ্ট পলিসারিও ফ্রন্টের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে গত ৫০ বছর ধরে সংঘাত চলে আসছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। ১৫ সদস্যের মধ্যে ১১টি দেশ এর পক্ষে ভোট দেয়। মার্কিন প্রস্তাবে সংঘাত নিরসনে মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবটি পাস হলে বাহিনীর নাম ‘মিনুরসো’ থেকে পরিবর্তন করে ‘মিনুসো’ করার এবং পশ্চিম সাহারার জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নির্ধারণে গণভোট আয়োজনের বিষয়টি বাদ পড়ার কথা ছিল।

তবে গত শুক্রবার রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটিতে ভেটো দেয়। মস্কো উদ্যোগটিকে ‘একতরফা পদক্ষেপ’ বলে সমালোচনা করে এবং পূর্বের শর্ত বহাল রেখে মিশনের মেয়াদ বাড়ানোর পাল্টা প্রস্তাব উত্থাপন করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও রাশিয়ার প্রস্তাবে ভেটো প্রয়োগ করে। ফলে মার্কিন প্রস্তাবের পক্ষে থাকা দেশগুলো ভোটদান থেকে বিরত থাকে।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ অভিযোগ করে বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি সদস্য দেশ ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন একটি নাম ও প্রতীক ধরে রাখতে চেয়েছে, যা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জাতিসংঘ বহু দশক ধরেই নিচ্ছে না। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রতিনিধি জেরোম বনাফোঁ রাশিয়ার ‘বাধা সৃষ্টির’ তীব্র নিন্দা জানান। তবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সারাহ ম্যাকিনটোশ সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধানের আহ্বান জানান।

এদিকে শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে মরক্কোর রাজকীয় দপ্তর। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের সম্পৃক্ততার অবসান ঘটিয়ে বিষয়টি আলোচ্যসূচি থেকে বাদ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে আলজেরিয়ার প্রতিনিধি আমার বেনজামা এবং নিউইয়র্কে পলিসারিও ফ্রন্টের প্রতিনিধি সিদি ওমর যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর থেকেই পশ্চিম সাহারার বিষয়ে মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে ‘সবচেয়ে বাস্তবসম্মত’ সমাধান হিসেবে বিবেচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা পরিষদ। ২০০৭ সালে রাবাত এই পরিকল্পনা পেশ করেছিল, যেখানে বিশাল মরুভূমি অঞ্চলের ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখেই সীমিত স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।


দৈনিক পল্লীবাংলা

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শেখ আজমল হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত পল্লী বাংলা