দৈনিক পল্লীবাংলা

এপেক সম্মেলনের আগে আলোচনায় ট্রাম্প-কিম বৈঠক

এপেক সম্মেলনের আগে আলোচনায় ট্রাম্প-কিম বৈঠক

আগামী নভেম্বরে চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সমবেত হওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন বৈঠকের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

২০১৯ সালে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্থবির হয়ে পড়ে। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার কিমের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করলেও পিয়ংইয়ং নীরবতা বজায় রাখছে। ট্রাম্প সম্প্রতি জানান, আগামী মাসে এশিয়া সফরের সময় কিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ‘হতে পারে’। তবে সিউল থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্পের ভাষ্য—কোনো বৈঠকের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন; যদিও কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করে কিমের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান তৈরি হওয়াতেই মার্কিন আলোচনার প্রতি উত্তর কোরিয়ার আগ্রহ কম। দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ফলে ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি টানা তৃতীয় বছরের মতো ৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম উল-চুল এএফপিকে বলেন, “আমি এই মুহূর্তে কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না। বর্তমান কৌশলগত পরিস্থিতি বজায় রাখাই কিম জং উনের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প।” এছাড়া কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে মার্কিনবিরোধী শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও সামরিক বলয় তৈরি হওয়ায় উত্তর কোরিয়ার জন্য নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ‘চূড়ান্ত’ এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। ফলে নীতিগত বড় পরিবর্তন ছাড়া দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নতুন কোনো সমঝোতা বা বহুল আলোচিত বৈঠকের সম্ভাবনা বেশ অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক পল্লীবাংলা

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


এপেক সম্মেলনের আগে আলোচনায় ট্রাম্প-কিম বৈঠক

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

আগামী নভেম্বরে চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সমবেত হওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন বৈঠকের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

২০১৯ সালে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্থবির হয়ে পড়ে। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার কিমের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করলেও পিয়ংইয়ং নীরবতা বজায় রাখছে। ট্রাম্প সম্প্রতি জানান, আগামী মাসে এশিয়া সফরের সময় কিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ‘হতে পারে’। তবে সিউল থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্পের ভাষ্য—কোনো বৈঠকের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন; যদিও কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করে কিমের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান তৈরি হওয়াতেই মার্কিন আলোচনার প্রতি উত্তর কোরিয়ার আগ্রহ কম। দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ফলে ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি টানা তৃতীয় বছরের মতো ৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম উল-চুল এএফপিকে বলেন, “আমি এই মুহূর্তে কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না। বর্তমান কৌশলগত পরিস্থিতি বজায় রাখাই কিম জং উনের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প।” এছাড়া কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে মার্কিনবিরোধী শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও সামরিক বলয় তৈরি হওয়ায় উত্তর কোরিয়ার জন্য নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ‘চূড়ান্ত’ এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। ফলে নীতিগত বড় পরিবর্তন ছাড়া দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নতুন কোনো সমঝোতা বা বহুল আলোচিত বৈঠকের সম্ভাবনা বেশ অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


দৈনিক পল্লীবাংলা

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শেখ আজমল হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত পল্লী বাংলা