দৈনিক পল্লীবাংলা
আপডেট : শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

গাজীপুর সাফারি পার্কে নীলগাইয়ের নতুন ৪ শাবকসহ মোট সংখ্যা ১৩

গাজীপুর সাফারি পার্কে নীলগাইয়ের নতুন ৪ শাবকসহ মোট সংখ্যা ১৩
নীলগাইয়ের নতুন শাবক

বাংলাদেশের নওগাঁ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার সমতল ও ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকায় একসময় প্রচুর নীলগাই অবাধে বিচরণ করত। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক দশক বিলুপ্ত থাকার পর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ ও পঞ্চগড় অঞ্চলে বেশ কিছু নীলগাই প্রবেশ করে।

ওই সময়ে বাংলাদেশ বন বিভাগ নীলগাইগুলোকে উদ্ধার করে দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যানসহ বিভিন্ন পশু নিধন এলাকায় কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সংরক্ষণের চেষ্টা চালায়।

এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরে সাফারি পার্কে নীলগাই সংরক্ষণ শুরু করে সংশ্লিষ্ঠ কর্তপক্ষ। আর এ নীলগাই পরিবারে এরই মধ্যে যোগ হয়েছে ৪ নতুন নীলগাই শাবক। 

প্রায় এক মাস পূর্বে কোর সাফারি অংশে এগুলোর জন্ম হলেও সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিচর্যার স্বার্থে বিষয়টি এতদিন প্রকাশ্যে আনেনি কর্তৃপক্ষ। নতুন এ অতিথিদের আগমনে সাফারি পার্কে আসা দর্শনার্থী, বিশেষ করে শিশুদের মাঝে বাড়তি উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।

পার্ক প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কোর সাফারির হরিণ সাফারি এলাকায় ৪ শাবকসহ নীলগাইয়ের উপস্থিতি প্রথম শনাক্ত করেন দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। নতুন জন্ম নেয়া শাবকগুলো বর্তমানে শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ রয়েছে। মায়ের দুধ পানের পাশাপাশি এগুলো কোর সাফারির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে অন্যান্য প্রাণিদের সাথে ছোটাছুটি ও খুনসুটি করে সময় পার করছে। তবে বয়স কম থাকায় এখনো এদের লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ ৪ সদস্য যুক্ত হওয়ায় পার্কে নীলগাইয়ের বর্তমান মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে।

বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. রাজু আহমেদ বলেন, প্রায় মাসখানেক আগে প্রথম বাচ্চাগুলোর দেখা মেলে। সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ মাধ্যমে এটি জানানো হয়নি। বর্তমানে শাবকগুলো সম্পূর্ণ সুস্থ আছে এবং সার্বক্ষণিক বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

অনুরূপ তথ্য নিশ্চিত করে পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ৪টি শাবক একসাথে ঘুরে বেড়ানো ও খেলাধুলা করার দৃশ্য আগত দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। নতুন এই প্রাণিদের দেখে দর্শনার্থী এবং শিশুরা বেশ আনন্দ পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, নীলগাই হলো এশিয়ার বৃহত্তম হরিণজাতীয় (অ্যান্টিলোপ) বন্যপ্রাণি। হিন্দি শব্দ ‘নীল’ এবং ‘গাই’ (গাভী) থেকে এর নামকরণ হয়েছে নীলগাই। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নীলগাইয়ের গায়ের চামড়া কালচে নীলচে-ধূসর রঙের হয়, যা থেকে এ নামের উৎপত্তি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক পল্লীবাংলা

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


গাজীপুর সাফারি পার্কে নীলগাইয়ের নতুন ৪ শাবকসহ মোট সংখ্যা ১৩

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের নওগাঁ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার সমতল ও ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকায় একসময় প্রচুর নীলগাই অবাধে বিচরণ করত। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক দশক বিলুপ্ত থাকার পর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ ও পঞ্চগড় অঞ্চলে বেশ কিছু নীলগাই প্রবেশ করে।

ওই সময়ে বাংলাদেশ বন বিভাগ নীলগাইগুলোকে উদ্ধার করে দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যানসহ বিভিন্ন পশু নিধন এলাকায় কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সংরক্ষণের চেষ্টা চালায়।

এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরে সাফারি পার্কে নীলগাই সংরক্ষণ শুরু করে সংশ্লিষ্ঠ কর্তপক্ষ। আর এ নীলগাই পরিবারে এরই মধ্যে যোগ হয়েছে ৪ নতুন নীলগাই শাবক। 

প্রায় এক মাস পূর্বে কোর সাফারি অংশে এগুলোর জন্ম হলেও সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিচর্যার স্বার্থে বিষয়টি এতদিন প্রকাশ্যে আনেনি কর্তৃপক্ষ। নতুন এ অতিথিদের আগমনে সাফারি পার্কে আসা দর্শনার্থী, বিশেষ করে শিশুদের মাঝে বাড়তি উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।

পার্ক প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কোর সাফারির হরিণ সাফারি এলাকায় ৪ শাবকসহ নীলগাইয়ের উপস্থিতি প্রথম শনাক্ত করেন দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। নতুন জন্ম নেয়া শাবকগুলো বর্তমানে শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ রয়েছে। মায়ের দুধ পানের পাশাপাশি এগুলো কোর সাফারির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে অন্যান্য প্রাণিদের সাথে ছোটাছুটি ও খুনসুটি করে সময় পার করছে। তবে বয়স কম থাকায় এখনো এদের লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ ৪ সদস্য যুক্ত হওয়ায় পার্কে নীলগাইয়ের বর্তমান মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে।

বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. রাজু আহমেদ বলেন, প্রায় মাসখানেক আগে প্রথম বাচ্চাগুলোর দেখা মেলে। সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ মাধ্যমে এটি জানানো হয়নি। বর্তমানে শাবকগুলো সম্পূর্ণ সুস্থ আছে এবং সার্বক্ষণিক বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

অনুরূপ তথ্য নিশ্চিত করে পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ৪টি শাবক একসাথে ঘুরে বেড়ানো ও খেলাধুলা করার দৃশ্য আগত দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। নতুন এই প্রাণিদের দেখে দর্শনার্থী এবং শিশুরা বেশ আনন্দ পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, নীলগাই হলো এশিয়ার বৃহত্তম হরিণজাতীয় (অ্যান্টিলোপ) বন্যপ্রাণি। হিন্দি শব্দ ‘নীল’ এবং ‘গাই’ (গাভী) থেকে এর নামকরণ হয়েছে নীলগাই। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নীলগাইয়ের গায়ের চামড়া কালচে নীলচে-ধূসর রঙের হয়, যা থেকে এ নামের উৎপত্তি।


দৈনিক পল্লীবাংলা

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শেখ আজমল হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত পল্লীবাংলা