দৈনিক পল্লীবাংলা
প্রকাশ : শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েছেন তাওহিদ হৃদয়। দলের বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে উইকেটে নেমে অপরাজিত দৃষ্টিনন্দন ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়েছেন তিনি। ৩৫৯ বলে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় সাজানো তাঁর অপরাজিত ২৪২ রানের এই ইনিংসটি শুধু টাইগারদের শঙ্কা থেকে মুক্তই করেনি, গড়েছে একাধিক নতুন রেকর্ড।

হৃদয়ের এই ঐতিহাসিক ইনিংসটি টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এর মাধ্যমে তিনি ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের করা ২১৯ রানের আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট শতককেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়া প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়লেন হৃদয়। এর আগে দেশের হয়ে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা অন্য তিন ব্যাটার হলেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।

ইনিংসজুড়ে ছক্কার ঝড় তুলে বিশ্বরেকর্ড ও জাতীয় রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন হৃদয়। তাঁর মারা ১১টি ছক্কা টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর তালিকায় তাঁকে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে বসিয়েছে। এই তালিকায় টেস্টের ইতিহাসে এক ইনিংসে ১২টি করে ছক্কা মেরে সবার ওপরে আছেন কেবল ওয়াসিম আকরাম ও যশস্বী জয়সওয়াল। বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এর আগে ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে সাতটি ছক্কা মেরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডটি ছিল তামিম ইকবালের দখলে।

দলের মোট রানের শতকরা অবদানের দিক থেকেও নতুন ইতিহাস গড়েছেন হৃদয়। বাংলাদেশের মোট ৩৮৬ রানের মধ্যে তাঁর একাই অবদান ৬২.৬৯ শতাংশ (২৪২ রান), যা টেস্ট ইনিংসে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ। এর আগের রেকর্ডটি ছিল লিটন দাসের দখলে; ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৪৩ রানে অলআউট হওয়া সেই ইনিংসে লিটনের ২৫ রান দলের মোট রানের ৫৮.১৩ শতাংশ ছিল।

এছাড়া বাউন্ডারি থেকে রান সংগ্রহের ক্ষেত্রেও দেশসেরা হয়েছেন হৃদয়। তাঁর ইনিংসে চার ও ছক্কা মিলিয়ে বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ১৫৪ রান, যা টেস্ট ইনিংসে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ বাউন্ডারি রান। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রানের ইনিংসে ৩১টি চারের সাহায্যে ১২৪ রান করে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন সাকিব আল হাসান। পাশাপাশি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের আগের রেকর্ডও (২০২৫ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রান) পেছনে ফেলেছেন তিনি।

৬ উইকেটে ১৮৪ রান থেকে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটাও ছিল দারুণ নাটকীয়। নিচের সারির ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে হৃদয়ের লড়াকু জুটি থেকে সপ্তম উইকেট পতনের পর যোগ হয় আরও ২০২ রান। টেস্ট ইনিংসে শেষ তিন উইকেট থেকে বাংলাদেশের এটিই সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ তিন উইকেটে ১৯৮ রান করেছিল বাংলাদেশ।

দিনের খেলা শুরুর সময় ২৯ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয় ওই দিন যোগ করেন আরও ২১৩ রান। এর মাধ্যমে টেস্টে একদিনে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের আগের রেকর্ডটিও ভেঙেছেন তিনি, যা ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১২ রান করে নিজের করে রেখেছিলেন সাকিব আল হাসান।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক পল্লীবাংলা

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েছেন তাওহিদ হৃদয়। দলের বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে উইকেটে নেমে অপরাজিত দৃষ্টিনন্দন ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়েছেন তিনি। ৩৫৯ বলে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় সাজানো তাঁর অপরাজিত ২৪২ রানের এই ইনিংসটি শুধু টাইগারদের শঙ্কা থেকে মুক্তই করেনি, গড়েছে একাধিক নতুন রেকর্ড।

হৃদয়ের এই ঐতিহাসিক ইনিংসটি টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এর মাধ্যমে তিনি ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের করা ২১৯ রানের আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট শতককেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়া প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়লেন হৃদয়। এর আগে দেশের হয়ে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা অন্য তিন ব্যাটার হলেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।

ইনিংসজুড়ে ছক্কার ঝড় তুলে বিশ্বরেকর্ড ও জাতীয় রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন হৃদয়। তাঁর মারা ১১টি ছক্কা টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর তালিকায় তাঁকে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে বসিয়েছে। এই তালিকায় টেস্টের ইতিহাসে এক ইনিংসে ১২টি করে ছক্কা মেরে সবার ওপরে আছেন কেবল ওয়াসিম আকরাম ও যশস্বী জয়সওয়াল। বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এর আগে ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে সাতটি ছক্কা মেরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডটি ছিল তামিম ইকবালের দখলে।

দলের মোট রানের শতকরা অবদানের দিক থেকেও নতুন ইতিহাস গড়েছেন হৃদয়। বাংলাদেশের মোট ৩৮৬ রানের মধ্যে তাঁর একাই অবদান ৬২.৬৯ শতাংশ (২৪২ রান), যা টেস্ট ইনিংসে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ। এর আগের রেকর্ডটি ছিল লিটন দাসের দখলে; ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৪৩ রানে অলআউট হওয়া সেই ইনিংসে লিটনের ২৫ রান দলের মোট রানের ৫৮.১৩ শতাংশ ছিল।

এছাড়া বাউন্ডারি থেকে রান সংগ্রহের ক্ষেত্রেও দেশসেরা হয়েছেন হৃদয়। তাঁর ইনিংসে চার ও ছক্কা মিলিয়ে বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ১৫৪ রান, যা টেস্ট ইনিংসে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ বাউন্ডারি রান। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রানের ইনিংসে ৩১টি চারের সাহায্যে ১২৪ রান করে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন সাকিব আল হাসান। পাশাপাশি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের আগের রেকর্ডও (২০২৫ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রান) পেছনে ফেলেছেন তিনি।

৬ উইকেটে ১৮৪ রান থেকে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটাও ছিল দারুণ নাটকীয়। নিচের সারির ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে হৃদয়ের লড়াকু জুটি থেকে সপ্তম উইকেট পতনের পর যোগ হয় আরও ২০২ রান। টেস্ট ইনিংসে শেষ তিন উইকেট থেকে বাংলাদেশের এটিই সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ তিন উইকেটে ১৯৮ রান করেছিল বাংলাদেশ।

দিনের খেলা শুরুর সময় ২৯ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয় ওই দিন যোগ করেন আরও ২১৩ রান। এর মাধ্যমে টেস্টে একদিনে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের আগের রেকর্ডটিও ভেঙেছেন তিনি, যা ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১২ রান করে নিজের করে রেখেছিলেন সাকিব আল হাসান।


দৈনিক পল্লীবাংলা

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শেখ আজমল হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত পল্লীবাংলা