ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে ছয়টি গ্রাম কেটে অন্য উপজেলায় যুক্ত করা এবং সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন তারা। সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ সর্বস্তরের জনগণের এই বিক্ষোভে আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়কেও যান চলাচল ব্যাহত হয়, ফলে ভারতগামী যাত্রী ও পণ্য পরিবহন থমকে দাঁড়ায়।
আজ রবিবার (৮ নভেম্বর ২০২৬) সকাল থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলামের আশ্বাসে ৭২ ঘণ্টার জন্য আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বছরের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল—এই ছয়টি গ্রাম আলাদা করে ‘বরিশল’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয় এবং গত ৪ জুন এসংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে তা আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। গেজেট প্রকাশের পর থেকেই গ্রামবাসী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, গ্রামগুলোকে পুনরায় পূর্বের বাসুদেব ইউনিয়নেরই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এরই মধ্যে সম্প্রতি সদর উপজেলার বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ইউনিয়নের অংশবিশেষ নিয়ে ‘বরিশল’ নামের আরেকটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব সামনে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা বিএনপির নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দাফতরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। কোনো ধরনের জনমত যাচাই বা স্থানীয়দের মতামত না নিয়ে জনস্বার্থের পরিপন্থী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে অবিলম্বে এই উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানান তারা।
সকালের এই আকস্মিক অবরোধের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। পারাবত এক্সপ্রেস, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলি ও সুবর্ণ এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পাশাপাশি আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভারতগামী যাত্রী ও পণ্যবাহী যান আটকে যায়।
খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বাসুদেব ইউনিয়ন পুনর্বহালের দাবিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে এর একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান করা হবে।”
প্রশাসকের এই আশ্বাসে সাড়া দিয়ে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের স্বার্থে আন্দোলনকারীরা আপাতত ৭২ ঘণ্টার জন্য তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে ছয়টি গ্রাম কেটে অন্য উপজেলায় যুক্ত করা এবং সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন তারা। সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ সর্বস্তরের জনগণের এই বিক্ষোভে আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়কেও যান চলাচল ব্যাহত হয়, ফলে ভারতগামী যাত্রী ও পণ্য পরিবহন থমকে দাঁড়ায়।
আজ রবিবার (৮ নভেম্বর ২০২৬) সকাল থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলামের আশ্বাসে ৭২ ঘণ্টার জন্য আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বছরের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল—এই ছয়টি গ্রাম আলাদা করে ‘বরিশল’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয় এবং গত ৪ জুন এসংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে তা আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। গেজেট প্রকাশের পর থেকেই গ্রামবাসী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, গ্রামগুলোকে পুনরায় পূর্বের বাসুদেব ইউনিয়নেরই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এরই মধ্যে সম্প্রতি সদর উপজেলার বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ইউনিয়নের অংশবিশেষ নিয়ে ‘বরিশল’ নামের আরেকটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব সামনে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা বিএনপির নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দাফতরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। কোনো ধরনের জনমত যাচাই বা স্থানীয়দের মতামত না নিয়ে জনস্বার্থের পরিপন্থী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে অবিলম্বে এই উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানান তারা।
সকালের এই আকস্মিক অবরোধের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। পারাবত এক্সপ্রেস, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলি ও সুবর্ণ এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পাশাপাশি আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভারতগামী যাত্রী ও পণ্যবাহী যান আটকে যায়।
খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বাসুদেব ইউনিয়ন পুনর্বহালের দাবিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে এর একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান করা হবে।”
প্রশাসকের এই আশ্বাসে সাড়া দিয়ে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের স্বার্থে আন্দোলনকারীরা আপাতত ৭২ ঘণ্টার জন্য তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।

মতামত