নেত্রকোনায় হারিয়ে যাচ্ছে ভাদ্রে তালের পিঠা বানানোর চিরচেনা উৎসব
নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
৩১ আগস্ট, ২০২৬, 8:28 PM
নেত্রকোনায় হারিয়ে যাচ্ছে ভাদ্রে তালের পিঠা বানানোর চিরচেনা উৎসব
গ্রামবাংলার বর্ষভিত্তিক পিঠা সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ ভাদ্র মাসের তালের পিঠা। তবে সময়ের বিবর্তনে গাছ কমে যাওয়া এবং কচি অবস্থাতেই তালের শাঁস বিক্রি হয়ে যাওয়ায় নেত্রকোনা অঞ্চল থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে পাকা তালের পিঠা বানানোর এই চিরচেনা ঐতিহ্য।
বাংলা লোকসংস্কৃতিতে ভাদ্রের পাকা তালের সাথে গ্রামীণ জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ‘ভাদ্র মাসে তালের পিঠা, খাইতে লাগে জবর মিঠা’ কিংবা ‘ভাদ্র-আশ্বিন মাসের তালের পিঠা, খায় যে রাজা-প্রজা’—এমন বহু লোকগান ও প্রবাদ ছ ছড়িয়ে রয়েছে পল্লীসাহিত্যে। তবে সেই ঐতিহ্য এখন অনেকটাই স্মৃতিকাতরতায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে নেত্রকোনা জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, ভাদ্রের শুরুতে বাজারে পাকা তাল পাওয়া গেলেও তা অত্যন্ত অপ্রতুল ও ব্যয়বহুল। বড় আকারের পাকা তাল ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং মাঝারি-ছোট সাইজের তাল ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ভোজনরসিকদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নিরঞ্জন সরকার, পরিমল দাস ও জজ মিয়াসহ প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পূর্বে প্রতিটি গ্রামে প্রচুর তালগাছ ছিল এবং পাকার পর কুড়িয়ে এনে ঘরে ঘরে পিঠা তৈরি হতো। কিন্তু বর্তমানে তালের বাগান মালিকেরা জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতেই গাছের সব কচি তাল শাঁস ব্যবসায়ীদের কাছে এককালীন বিক্রি করে দেন। ফলে গাছে তাল পাকার সুযোগই থাকছে না।
এ প্রসঙ্গে বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক বিজয় চন্দ্র দাস বলেন, “বর্ষা শেষে ভাদ্রের গরমে মূলত তাল পাকতে শুরু করে। কিন্তু শৈশবের সেই তাল কুড়ানো ও পিঠা উৎসব আজ স্মৃতির পাতায় বন্দি। স্ব-উদ্যোগে বেশি করে তালগাছ রোপণ করা না গেলে এই ঐতিহ্য পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।”
বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামস উদ্দিন বাবুল শৈশবের স্মৃতিচারণ করে জানান, একসময় ভাদ্রে পিঠা বানিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার যে আনন্দ ছিল, তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং সামাজিক পরিবর্তনের কারণে তা এখন একেবারেই ম্লান হয়ে গেছে।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
৩১ আগস্ট, ২০২৬, 8:28 PM
গ্রামবাংলার বর্ষভিত্তিক পিঠা সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ ভাদ্র মাসের তালের পিঠা। তবে সময়ের বিবর্তনে গাছ কমে যাওয়া এবং কচি অবস্থাতেই তালের শাঁস বিক্রি হয়ে যাওয়ায় নেত্রকোনা অঞ্চল থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে পাকা তালের পিঠা বানানোর এই চিরচেনা ঐতিহ্য।
বাংলা লোকসংস্কৃতিতে ভাদ্রের পাকা তালের সাথে গ্রামীণ জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ‘ভাদ্র মাসে তালের পিঠা, খাইতে লাগে জবর মিঠা’ কিংবা ‘ভাদ্র-আশ্বিন মাসের তালের পিঠা, খায় যে রাজা-প্রজা’—এমন বহু লোকগান ও প্রবাদ ছ ছড়িয়ে রয়েছে পল্লীসাহিত্যে। তবে সেই ঐতিহ্য এখন অনেকটাই স্মৃতিকাতরতায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে নেত্রকোনা জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, ভাদ্রের শুরুতে বাজারে পাকা তাল পাওয়া গেলেও তা অত্যন্ত অপ্রতুল ও ব্যয়বহুল। বড় আকারের পাকা তাল ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং মাঝারি-ছোট সাইজের তাল ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ভোজনরসিকদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নিরঞ্জন সরকার, পরিমল দাস ও জজ মিয়াসহ প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পূর্বে প্রতিটি গ্রামে প্রচুর তালগাছ ছিল এবং পাকার পর কুড়িয়ে এনে ঘরে ঘরে পিঠা তৈরি হতো। কিন্তু বর্তমানে তালের বাগান মালিকেরা জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতেই গাছের সব কচি তাল শাঁস ব্যবসায়ীদের কাছে এককালীন বিক্রি করে দেন। ফলে গাছে তাল পাকার সুযোগই থাকছে না।
এ প্রসঙ্গে বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক বিজয় চন্দ্র দাস বলেন, “বর্ষা শেষে ভাদ্রের গরমে মূলত তাল পাকতে শুরু করে। কিন্তু শৈশবের সেই তাল কুড়ানো ও পিঠা উৎসব আজ স্মৃতির পাতায় বন্দি। স্ব-উদ্যোগে বেশি করে তালগাছ রোপণ করা না গেলে এই ঐতিহ্য পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।”
বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামস উদ্দিন বাবুল শৈশবের স্মৃতিচারণ করে জানান, একসময় ভাদ্রে পিঠা বানিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার যে আনন্দ ছিল, তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং সামাজিক পরিবর্তনের কারণে তা এখন একেবারেই ম্লান হয়ে গেছে।