অনন্য সৌন্দর্যের আধার হাকালুকি হাওর
হানিফ পারভেজ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :
২২ আগস্ট, ২০২৬, 8:52 PM
অনন্য সৌন্দর্যের আধার হাকালুকি হাওর
বর্ষা কিংবা শীত—দুই মৌসুমেই ভিন্ন আঙ্গিকের রূপমাধুর্য আর জীববৈচিত্র্যের সরল সৌন্দর্যে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকে ঐতিহ্যবাহী হাকালুকি হাওর। মিঠাপানির মাছ আর জলজ প্রাকৃতিক সম্পদের অভয়াশ্রম হিসেবে খ্যাত এ হাওরটি দেশের সর্ববৃহৎ এবং এশিয়ার অন্যতম প্রধান হাওর।
শনিবার (২২ আগস্ট) জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতার শাখার সহ-সভাপতি বদরুল ইসলামের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হলো এক অনন্য হাওর ভ্রমণ। বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার ১৭ জনের একটি চৌকস ভ্রমণপিপাসু দল এবং গুণী শিল্পীদের নিয়ে নৌকাযোগে দিনভর গান, নাচ ও আড্ডার মধ্য দিয়ে উপভোগ করা হয় হাকালুকির অনাবিল সৌন্দর্য। ক্লান্তি ও কাজের সমস্ত চাপ ভুলে প্রকৃতির কাছে হারিয়ে যাওয়ার মতো একটি চমৎকার দিন উপভোগ করেন ভ্রমণকারীরা।
সিলেট বিভাগের দুটি জেলার ৬টি উপজেলা (কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) জুড়ে ছোট-বড় ২৩৮টি বিলের সমন্বয়ে গঠিত হাকালুকি হাওরের আয়তন প্রায় ২০ হাজার ৪০০ হেক্টর। এটি কেবল আয়তনেই বিশাল নয়, হাওরটি দেশীয় বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির অসংখ্য জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের স্থায়ী আবাসস্থল। পাশাপাশি হাওরতীরের কৃষি, মৎস্য ও শ্রমজীবী প্রায় ৪ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকায় সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এই জলাভূমি।
স্থানীয় বাসিন্দারা হাকালুকিতে বোরো ধান ও শীতকালীন নানা ফসল চাষাবাদ, গরু-মহিষের বাতান পরিচালনা, হাঁস পালন এবং মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দেশের অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও রাজস্ব আয়ের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এই হাওরকে ঘিরে।
ঋতুভেদে হাকালুকির রূপ বদলায় নাটকীয়ভাবে। শুষ্ক মৌসুমে হাওরজুড়ে চোখে পড়ে অতিথি পাখির কলকাকলি, গরু-মহিষের অবাধ বিচরণ, সরিষা ও ভুট্টার সবুজ খেত এবং হাওরের বুকে পায়ে হাঁটা পথ ধরে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে এর ঠিক বিপরীত রূপ ধারণ করে হাকালুকি। দিগন্তজোড়া সুবিশাল জলরাশির উত্তাল ঢেউ আর আফালের থই থই পানি হাওরকে যেন সমুদ্রে পরিণত করে। এ সময় হিজল, করচ, জারুল, বরুণ ও মূর্তাসহ নানা জাতের জলজ বন অর্ধেক নিমজ্জিত থাকে এবং মাছ শিকারে ব্যস্ত ছোট-বড় নৌকার আনাগোনায় মুখরিত থাকে চারপাশ।
প্রকৃতির সান্নিধ্যে মানসিক প্রশান্তি পেতে এবং জীববৈচিত্র্যের অপরূপ রূপ প্রত্যক্ষ করতে যে কেউ ঘুরে আসতে পারেন সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি হাকালুকি হাওরে।
হানিফ পারভেজ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :
২২ আগস্ট, ২০২৬, 8:52 PM
বর্ষা কিংবা শীত—দুই মৌসুমেই ভিন্ন আঙ্গিকের রূপমাধুর্য আর জীববৈচিত্র্যের সরল সৌন্দর্যে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকে ঐতিহ্যবাহী হাকালুকি হাওর। মিঠাপানির মাছ আর জলজ প্রাকৃতিক সম্পদের অভয়াশ্রম হিসেবে খ্যাত এ হাওরটি দেশের সর্ববৃহৎ এবং এশিয়ার অন্যতম প্রধান হাওর।
শনিবার (২২ আগস্ট) জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতার শাখার সহ-সভাপতি বদরুল ইসলামের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হলো এক অনন্য হাওর ভ্রমণ। বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার ১৭ জনের একটি চৌকস ভ্রমণপিপাসু দল এবং গুণী শিল্পীদের নিয়ে নৌকাযোগে দিনভর গান, নাচ ও আড্ডার মধ্য দিয়ে উপভোগ করা হয় হাকালুকির অনাবিল সৌন্দর্য। ক্লান্তি ও কাজের সমস্ত চাপ ভুলে প্রকৃতির কাছে হারিয়ে যাওয়ার মতো একটি চমৎকার দিন উপভোগ করেন ভ্রমণকারীরা।
সিলেট বিভাগের দুটি জেলার ৬টি উপজেলা (কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) জুড়ে ছোট-বড় ২৩৮টি বিলের সমন্বয়ে গঠিত হাকালুকি হাওরের আয়তন প্রায় ২০ হাজার ৪০০ হেক্টর। এটি কেবল আয়তনেই বিশাল নয়, হাওরটি দেশীয় বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির অসংখ্য জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের স্থায়ী আবাসস্থল। পাশাপাশি হাওরতীরের কৃষি, মৎস্য ও শ্রমজীবী প্রায় ৪ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকায় সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এই জলাভূমি।
স্থানীয় বাসিন্দারা হাকালুকিতে বোরো ধান ও শীতকালীন নানা ফসল চাষাবাদ, গরু-মহিষের বাতান পরিচালনা, হাঁস পালন এবং মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দেশের অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও রাজস্ব আয়ের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এই হাওরকে ঘিরে।
ঋতুভেদে হাকালুকির রূপ বদলায় নাটকীয়ভাবে। শুষ্ক মৌসুমে হাওরজুড়ে চোখে পড়ে অতিথি পাখির কলকাকলি, গরু-মহিষের অবাধ বিচরণ, সরিষা ও ভুট্টার সবুজ খেত এবং হাওরের বুকে পায়ে হাঁটা পথ ধরে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে এর ঠিক বিপরীত রূপ ধারণ করে হাকালুকি। দিগন্তজোড়া সুবিশাল জলরাশির উত্তাল ঢেউ আর আফালের থই থই পানি হাওরকে যেন সমুদ্রে পরিণত করে। এ সময় হিজল, করচ, জারুল, বরুণ ও মূর্তাসহ নানা জাতের জলজ বন অর্ধেক নিমজ্জিত থাকে এবং মাছ শিকারে ব্যস্ত ছোট-বড় নৌকার আনাগোনায় মুখরিত থাকে চারপাশ।
প্রকৃতির সান্নিধ্যে মানসিক প্রশান্তি পেতে এবং জীববৈচিত্র্যের অপরূপ রূপ প্রত্যক্ষ করতে যে কেউ ঘুরে আসতে পারেন সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি হাকালুকি হাওরে।