পালংখালীতে এজেন্ট ব্যাংক জালিয়াতি: গ্রাহকদের মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ
উখিয়া প্রতিনিধি :
২২ আগস্ট, ২০২৬, 8:43 PM
পালংখালীতে এজেন্ট ব্যাংক জালিয়াতি: গ্রাহকদের মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালীতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাঠে নেমেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা দুইটায় পালংখালী স্টেশন চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ওই মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে।
কয়েক শ গ্রাহকের সঞ্চিত কোটি টাকা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা উধাও হয়ে যাওয়ায় শত শত নারী-পুরুষ কাফনের কাপড় পরে এ মানববন্ধনে অংশ নেন। সড়ক অবরোধকালে দিশেহারা গ্রাহকরা ‘প্রতারকের বিচার চাই’ স্লোগান দিয়ে অবিলম্বে আত্মসাতকৃত অর্থ ফেরত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ভুক্তভোগীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনে যোগ দেন উপজেলা ছাত্রদল নেতা জিয়াউল করিম রিয়াদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। খবর পেয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে বিকেল পাঁচটার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গ্রাহকরা অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি জানতে পারেন। ওই দিনই বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পালংখালী স্টেশনে অবস্থিত শাখাটিতে গিয়ে দুজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী সাবেক ব্যবসায়ী নেতা আনোয়ার ফয়সাল আরিফ জানান, তাঁর তিনটি হিসাবে জমা ছিল সাড়ে ১৮ লাখ টাকা। এছাড়া সোনা মিয়া নামের এক গ্রাহকের প্রায় ২৪ লাখ এবং মাংস ব্যবসায়ী মো. শাহজাহানের ৯ লাখ টাকা জমা ছিল। অবরোধ চলাকালে শাহজাহান অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
রাশেদা বেগম নামের এক নারী জানান, তাঁর কষ্টার্জিত প্রায় দেড় লাখ টাকা হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব। মেয়ের বিয়ের জন্য সাড়ে চার লাখ টাকা জমিয়েছিলেন আরেক ভুক্তভোগী জাফর আলম; সঞ্চয় হারিয়ে তিনিও এখন দিশেহারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে থেকেই এ অর্থ আত্মসাতের প্রক্রিয়া শুরু হলেও সাধারণ গ্রাহকরা তা দেরিতে বুঝতে পেরেছেন।
মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—এজেন্ট ব্যাংকের মালিক হাকিম উদ্দিন (৬৮), ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলাম (২১), ম্যানেজার হাবিব উল্লাহ ফরহাদ (৩২), অংশীদার মালিক বেলাল উদ্দিন (৫২), মো. ইউছুপ (৩১), মো. ইছহাক (৩২), মো. আব্দুল্লাহ (৩৩), ইফতেকার উদ্দিন (৩৫) ও জহির উদ্দিন (৪২)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এজেন্ট শাখার ম্যানেজার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ২১ জন গ্রাহকের জমাকৃত মোট ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, এমন আরও শত শত গ্রাহকের কোটি টাকার কোনো হদিস মিলছে না।
২০১৮ সালের দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী বাজারের ইয়াকুব-মোস্তফা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে শাখাটির কার্যক্রম শুরু হয়। আসামিদের সঙ্গে পূর্বপরিচয় ও আস্থা থাকায় স্থানীয়রা সরল বিশ্বাসে হিসাব খুলে নিয়মিত লেনদেন করতেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ইতিপূর্বে উখিয়ার কুতুপালং, থাইংখালী, পালংখালী এবং টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় একই ব্যাংকের এজেন্ট শাখা থেকে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
উখিয়া প্রতিনিধি :
২২ আগস্ট, ২০২৬, 8:43 PM
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালীতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাঠে নেমেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা দুইটায় পালংখালী স্টেশন চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ওই মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে।
কয়েক শ গ্রাহকের সঞ্চিত কোটি টাকা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা উধাও হয়ে যাওয়ায় শত শত নারী-পুরুষ কাফনের কাপড় পরে এ মানববন্ধনে অংশ নেন। সড়ক অবরোধকালে দিশেহারা গ্রাহকরা ‘প্রতারকের বিচার চাই’ স্লোগান দিয়ে অবিলম্বে আত্মসাতকৃত অর্থ ফেরত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ভুক্তভোগীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনে যোগ দেন উপজেলা ছাত্রদল নেতা জিয়াউল করিম রিয়াদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। খবর পেয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে বিকেল পাঁচটার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গ্রাহকরা অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি জানতে পারেন। ওই দিনই বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পালংখালী স্টেশনে অবস্থিত শাখাটিতে গিয়ে দুজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী সাবেক ব্যবসায়ী নেতা আনোয়ার ফয়সাল আরিফ জানান, তাঁর তিনটি হিসাবে জমা ছিল সাড়ে ১৮ লাখ টাকা। এছাড়া সোনা মিয়া নামের এক গ্রাহকের প্রায় ২৪ লাখ এবং মাংস ব্যবসায়ী মো. শাহজাহানের ৯ লাখ টাকা জমা ছিল। অবরোধ চলাকালে শাহজাহান অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
রাশেদা বেগম নামের এক নারী জানান, তাঁর কষ্টার্জিত প্রায় দেড় লাখ টাকা হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব। মেয়ের বিয়ের জন্য সাড়ে চার লাখ টাকা জমিয়েছিলেন আরেক ভুক্তভোগী জাফর আলম; সঞ্চয় হারিয়ে তিনিও এখন দিশেহারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে থেকেই এ অর্থ আত্মসাতের প্রক্রিয়া শুরু হলেও সাধারণ গ্রাহকরা তা দেরিতে বুঝতে পেরেছেন।
মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—এজেন্ট ব্যাংকের মালিক হাকিম উদ্দিন (৬৮), ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলাম (২১), ম্যানেজার হাবিব উল্লাহ ফরহাদ (৩২), অংশীদার মালিক বেলাল উদ্দিন (৫২), মো. ইউছুপ (৩১), মো. ইছহাক (৩২), মো. আব্দুল্লাহ (৩৩), ইফতেকার উদ্দিন (৩৫) ও জহির উদ্দিন (৪২)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এজেন্ট শাখার ম্যানেজার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ২১ জন গ্রাহকের জমাকৃত মোট ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, এমন আরও শত শত গ্রাহকের কোটি টাকার কোনো হদিস মিলছে না।
২০১৮ সালের দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী বাজারের ইয়াকুব-মোস্তফা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে শাখাটির কার্যক্রম শুরু হয়। আসামিদের সঙ্গে পূর্বপরিচয় ও আস্থা থাকায় স্থানীয়রা সরল বিশ্বাসে হিসাব খুলে নিয়মিত লেনদেন করতেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ইতিপূর্বে উখিয়ার কুতুপালং, থাইংখালী, পালংখালী এবং টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় একই ব্যাংকের এজেন্ট শাখা থেকে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।