ঢাকা ১৯ আগস্ট, ২০২৬
শিরোনামঃ
শ্রীপুরে পচা মাংস বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা শিক্ষানুরাগী হাজী তাজউদ্দীন মৃধার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, বিনম্র শ্রদ্ধা ও দোয়া মাহফিল সংবাদ সংগ্রেহে হামলায় ফুঁসছেন গাজীপুরের সাংবাদিকরা, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারী-বান্ধব ও নারী চালকদের বিশেষ বাস সার্ভিস আরও সম্প্রসারণ করা হবে: সেতুমন্ত্রী ফকিরহাটে ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সোসাইটির কমিটি গঠন বড়লেখায় জঙ্গল থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ শ্রীপুরে বাগানের ভেতর থেকে সিএনজিচালকের মরদেহ উদ্ধার তেঁতুলিয়ায় তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও মিলছে না তথ্য, আপিলের প্রস্তুতি 'শোককে শক্তিতে রূপ দিয়ে তারেক রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব' - শওকত সরকার

সংবাদ সংগ্রেহে হামলায় ফুঁসছেন গাজীপুরের সাংবাদিকরা, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

#
news image

গাছা থানা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুলের ওপর নৃশংস হামলার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভে ফুঁসছেন গাজীপুরের সাংবাদিকরা। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদর দপ্তরের সামনে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে সাংবাদিক নেতারা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় ‘ইন্ডোসর’ নামে একটি পোশাক কারখানার সামনে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া চলছিল। স্থানীয় হামিদ মন্ডল ও তার ছেলে যুবলীগ নেতা সোহেলের নেতৃত্বে এই মহড়া চালানের সময় সংবাদ সংগ্রহ ও সংবাদের ভিডিও ধারণ করতে যান সাংবাদিক টুটুল। এ সময় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মোবাইল ফোন ভাঙচুর ও রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় গাছা মেট্রো থানায় মামলা করা হলেও গত ৫ দিনেও প্রধান আসামি হামিদ মন্ডল, তার ছেলে সোহেলসহ মামলার নয়জন নামীয় আসামির একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মানববন্ধনে গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের বিশেষ প্রতিনিধি মো. আখতার হোসেন বলেন, “ঝুট ব্যবসা হামিদ মন্ডল গ্রুপ করুক বা তার ছেলে যুবলীগ করুক, সমস্যা নেই। কিন্তু দিনদুপুরে ঝুট নিয়ন্ত্রণে অস্ত্রের মহড়া দেবেন, আর সেই ঘটনার নিউজ কভার করতে গেলে সাংবাদিকের মোবাইল ভাঙবেন, কোপাবেন—এটা সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। দ্রত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আসামিদের যদি কেউ আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় বা মদদ দেয়, আমরা তাদের মুখোশ জাতির সামনে তুলে ধরব।”

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত পিতা-পুত্রের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। সোহেল আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর বাবা হামিদ মন্ডল বর্তমানে বিএনপির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব ব্যবহার করে আসামিদের রক্ষার চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক সমাজ তা প্রকাশ্যে তুলে ধরবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বক্তারা প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার পর ৫ দিনেও প্রধান আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গাছা থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আনিসুর ইসলামের সভাপতিত্বে এবং গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও দৈনিক আজকের আওয়াজের গাজীপুর প্রতিনিধি মো. ইব্রাহীম খলিল-এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন—গাছা থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল মিয়া, সিনিয়র সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, গাছা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ মৃধা, গাছা সাংবাদিক ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন, সভাপতি মো. সামসুদ্দিন জুয়েল, ঢাকা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ছানাউল্ল্যাহ ভূইয়া, গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. পারভেজ মিয়া এবং গাজীপুর সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও গাজীপুর মহানগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম আক্তারুজ্জামান, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গাজীপুর মহানগরের সদস্য সচিব হাসান মিয়া, বাসন মেট্রো থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাজ্জাকুল ইসলাম রাজ্জাক এবং বাংলাদেশ মহিলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসিমা আক্তার রেনুসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। কর্মসূচিতে গাজীপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচি শেষে স্মারকলিপিতে মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি :

১৮ আগস্ট, ২০২৬,  6:37 PM

news image

গাছা থানা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুলের ওপর নৃশংস হামলার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভে ফুঁসছেন গাজীপুরের সাংবাদিকরা। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদর দপ্তরের সামনে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে সাংবাদিক নেতারা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় ‘ইন্ডোসর’ নামে একটি পোশাক কারখানার সামনে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া চলছিল। স্থানীয় হামিদ মন্ডল ও তার ছেলে যুবলীগ নেতা সোহেলের নেতৃত্বে এই মহড়া চালানের সময় সংবাদ সংগ্রহ ও সংবাদের ভিডিও ধারণ করতে যান সাংবাদিক টুটুল। এ সময় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মোবাইল ফোন ভাঙচুর ও রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় গাছা মেট্রো থানায় মামলা করা হলেও গত ৫ দিনেও প্রধান আসামি হামিদ মন্ডল, তার ছেলে সোহেলসহ মামলার নয়জন নামীয় আসামির একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মানববন্ধনে গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের বিশেষ প্রতিনিধি মো. আখতার হোসেন বলেন, “ঝুট ব্যবসা হামিদ মন্ডল গ্রুপ করুক বা তার ছেলে যুবলীগ করুক, সমস্যা নেই। কিন্তু দিনদুপুরে ঝুট নিয়ন্ত্রণে অস্ত্রের মহড়া দেবেন, আর সেই ঘটনার নিউজ কভার করতে গেলে সাংবাদিকের মোবাইল ভাঙবেন, কোপাবেন—এটা সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। দ্রত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আসামিদের যদি কেউ আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় বা মদদ দেয়, আমরা তাদের মুখোশ জাতির সামনে তুলে ধরব।”

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত পিতা-পুত্রের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। সোহেল আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর বাবা হামিদ মন্ডল বর্তমানে বিএনপির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব ব্যবহার করে আসামিদের রক্ষার চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক সমাজ তা প্রকাশ্যে তুলে ধরবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বক্তারা প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার পর ৫ দিনেও প্রধান আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গাছা থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আনিসুর ইসলামের সভাপতিত্বে এবং গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও দৈনিক আজকের আওয়াজের গাজীপুর প্রতিনিধি মো. ইব্রাহীম খলিল-এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন—গাছা থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল মিয়া, সিনিয়র সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, গাছা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ মৃধা, গাছা সাংবাদিক ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন, সভাপতি মো. সামসুদ্দিন জুয়েল, ঢাকা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ছানাউল্ল্যাহ ভূইয়া, গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. পারভেজ মিয়া এবং গাজীপুর সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও গাজীপুর মহানগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম আক্তারুজ্জামান, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গাজীপুর মহানগরের সদস্য সচিব হাসান মিয়া, বাসন মেট্রো থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাজ্জাকুল ইসলাম রাজ্জাক এবং বাংলাদেশ মহিলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসিমা আক্তার রেনুসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। কর্মসূচিতে গাজীপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচি শেষে স্মারকলিপিতে মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।