পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় বাল্যবিবাহের অভিযোগে কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ অর্থদণ্ডাদেশ প্রদানসহ মুচলেকা গ্রহন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম আকাশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ৩নং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের দালাল অফিসের পূর্বে গবরানদী সংলগ্ন সাহেবজোত গ্রামের এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম রতনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
গোপনসূত্রে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম আকাশ ওই বাড়িতে ছুটে যান। এ সময় ঘটনার সত্যতা পেয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ মতে মুচলেকাসহ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে নগদ অর্থ গ্রহন করেন। একই সাথে এ ধরণের ভুল না করা এবং ওই কিশোরীর বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত নিজের কাছে রাখার স্বত্ত্বে মুচলেকা নেওয়া হয়।
এসময় ইউপি সদস্য মনসুর আলী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, পঞ্চগড় নোটারী পাবলিক আইনজীবির মাধ্যমে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মাইজপাড়া সেলামতি এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুর রাব্বির সাথে ২ লাখ ১০১ টাকা দেনমোহরে কোর্ট অ্যাফিডেভিটে বিয়ে হয় ১৪ বছরের কিশোরীর। ওই কিশোরী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাথাফাটা গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে।
তবে পরিবারের কিশোরী বড় ভাই ও চাচা মকসেদ আলীর অভিযোগ, এ বিষয়ে তারা জানেন না। গতকাল দুপুর থেকেই তার ভাই রুহুল আমিন তার মেয়েকে নিয়ে কোথাও যেন নিয়ে যান। পরে তাঁরা কিশোরীর খালু কাপড় ব্যাবসায়ী মনির হোসেন ও খালাতো ভাই এনটিভির সাংবাদিক রবিউল ইসলামের বাড়িতে মৌলভী ডেকে বিয়ে হওয়ার খবর পান।
তাদের অভিযোগ, রুহুল আমিন ও মনির হোসেনের যোগসাজসে ছেলেটির সাথে মোটা অংকের টাকার প্রলোভনে গোপনে কোর্ট অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে মৌলভী ডেকে আয়োজনের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করেন। বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন, এ বাল্যবিয়ে তারা মানেন না বলে স্পষ্ট জানান একই সাথে এর সুবিচারও কামনা করেন।
কিশোরীর চাচা মকসেদ আলী বলেন, কিশোরী আমার ভাতিজি। তার বিয়ে হবে আমরাই জানবো না কিভাবে হয়। এ সময় তিনি কিশোরীর খালু মনির হোসেন ও তার খালাতো ভাই সাংবাদিক রতন কিভাবে ১৩/১৪ বছরের একটি কিশোরী মেয়েকে বাল্যবিবাহ দিতে পারে আমরা এর উপযুক্ত বিচার কামনা করছি।
তবে বাল্যবিয়ের সাথে কোনভাবে জড়িত নন বলে জানিয়েছেন ওই কিশোরীর খালু মনির হোসেন।
এদিকে এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম রতন জানান, তিনি এই বাল্যবিয়ের সাথে জড়িত নয়। তিনি হোটেলে থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টায় জানতে পারেন মেয়ে-ছেলেকে কোর্ট ম্যারেজ করে নিয়ে আসছে। সেখানে আমার বাবা ও মা কেউ যায়নি। তিনি আরও বলেন, তার ছোট ভাইয়ের শ^শুর বাড়িতে দাওয়াত খেতে আসছিলেন নাকি সেখান থেকে আমাদের বাড়িতে আসেন। পরে সকালে জানতে পারলাম বিবাহের বিষয়টি মেয়ের বড় ভাই ও তার চাচা কে জানানো হয়নি তাই তারা এসিল্যান্ডকে খবর দেয়। পরিশেষে বলেন, ‘এখানে ওর ফ্যামিলি কোর্ট ম্যারেজ করে নিয়ে আসছে কিনা ওর ফ্যামিলি জানে, আমাদের বাসায় আত্মীয় হিসেবে আসছে আমরা আত্মীয় হিসেবে রাখছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা নিয়ে নিউজ করতে পারেন সমস্যা নাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম আকাশ সাংবাদিকদের বলেন, বাল্য বিবাহের খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী কিশোরীর বাবাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে মেয়েকে ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত নিজের কাছে রাখার সত্ত্বে মুচলেকা গ্রহন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় বাল্যবিবাহের অভিযোগে কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ অর্থদণ্ডাদেশ প্রদানসহ মুচলেকা গ্রহন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম আকাশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ৩নং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের দালাল অফিসের পূর্বে গবরানদী সংলগ্ন সাহেবজোত গ্রামের এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম রতনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
গোপনসূত্রে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম আকাশ ওই বাড়িতে ছুটে যান। এ সময় ঘটনার সত্যতা পেয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ মতে মুচলেকাসহ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে নগদ অর্থ গ্রহন করেন। একই সাথে এ ধরণের ভুল না করা এবং ওই কিশোরীর বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত নিজের কাছে রাখার স্বত্ত্বে মুচলেকা নেওয়া হয়।
এসময় ইউপি সদস্য মনসুর আলী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, পঞ্চগড় নোটারী পাবলিক আইনজীবির মাধ্যমে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মাইজপাড়া সেলামতি এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুর রাব্বির সাথে ২ লাখ ১০১ টাকা দেনমোহরে কোর্ট অ্যাফিডেভিটে বিয়ে হয় ১৪ বছরের কিশোরীর। ওই কিশোরী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাথাফাটা গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে।
তবে পরিবারের কিশোরী বড় ভাই ও চাচা মকসেদ আলীর অভিযোগ, এ বিষয়ে তারা জানেন না। গতকাল দুপুর থেকেই তার ভাই রুহুল আমিন তার মেয়েকে নিয়ে কোথাও যেন নিয়ে যান। পরে তাঁরা কিশোরীর খালু কাপড় ব্যাবসায়ী মনির হোসেন ও খালাতো ভাই এনটিভির সাংবাদিক রবিউল ইসলামের বাড়িতে মৌলভী ডেকে বিয়ে হওয়ার খবর পান।
তাদের অভিযোগ, রুহুল আমিন ও মনির হোসেনের যোগসাজসে ছেলেটির সাথে মোটা অংকের টাকার প্রলোভনে গোপনে কোর্ট অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে মৌলভী ডেকে আয়োজনের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করেন। বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন, এ বাল্যবিয়ে তারা মানেন না বলে স্পষ্ট জানান একই সাথে এর সুবিচারও কামনা করেন।
কিশোরীর চাচা মকসেদ আলী বলেন, কিশোরী আমার ভাতিজি। তার বিয়ে হবে আমরাই জানবো না কিভাবে হয়। এ সময় তিনি কিশোরীর খালু মনির হোসেন ও তার খালাতো ভাই সাংবাদিক রতন কিভাবে ১৩/১৪ বছরের একটি কিশোরী মেয়েকে বাল্যবিবাহ দিতে পারে আমরা এর উপযুক্ত বিচার কামনা করছি।
তবে বাল্যবিয়ের সাথে কোনভাবে জড়িত নন বলে জানিয়েছেন ওই কিশোরীর খালু মনির হোসেন।
এদিকে এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম রতন জানান, তিনি এই বাল্যবিয়ের সাথে জড়িত নয়। তিনি হোটেলে থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টায় জানতে পারেন মেয়ে-ছেলেকে কোর্ট ম্যারেজ করে নিয়ে আসছে। সেখানে আমার বাবা ও মা কেউ যায়নি। তিনি আরও বলেন, তার ছোট ভাইয়ের শ^শুর বাড়িতে দাওয়াত খেতে আসছিলেন নাকি সেখান থেকে আমাদের বাড়িতে আসেন। পরে সকালে জানতে পারলাম বিবাহের বিষয়টি মেয়ের বড় ভাই ও তার চাচা কে জানানো হয়নি তাই তারা এসিল্যান্ডকে খবর দেয়। পরিশেষে বলেন, ‘এখানে ওর ফ্যামিলি কোর্ট ম্যারেজ করে নিয়ে আসছে কিনা ওর ফ্যামিলি জানে, আমাদের বাসায় আত্মীয় হিসেবে আসছে আমরা আত্মীয় হিসেবে রাখছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা নিয়ে নিউজ করতে পারেন সমস্যা নাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম আকাশ সাংবাদিকদের বলেন, বাল্য বিবাহের খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী কিশোরীর বাবাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে মেয়েকে ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত নিজের কাছে রাখার সত্ত্বে মুচলেকা গ্রহন করা হয়েছে।

মতামত