ঢাকা ২৯ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
‘অনলাইন এডিটরস ফোরাম’ গঠন : আহ্বায়ক পিন্টু, সদস্যসচিব ইফতেখার সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড নতুন তাপপ্রবাহের আশঙ্কায় ফ্রান্স-স্পেনে দাবানল নিয়ন্ত্রণে মরিয়া চেষ্টা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৪৬ বিলিয়ন ডলার সংকটাপন্ন ইতালির কোচ হিসেবে আবারও ফিরলেন মানচিনি ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৫১২ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ট্রেজারার ড. নাজমুল হোসাইনের যোগদান টঙ্গীতে চাঁদাবাজি মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার, সংবাদকর্মীদের ওপর অনুসারীদের হামলা নওগাঁয় অসহায় ভ্যানচালককে ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন এমপি ধলু কৃষিপণ্য রপ্তানিতে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

নতুন তাপপ্রবাহের আশঙ্কায় ফ্রান্স-স্পেনে দাবানল নিয়ন্ত্রণে মরিয়া চেষ্টা

#
news image

ইউরোপে নতুন করে অসহনীয় তাপপ্রবাহ শুরুর আগেই ফ্রান্স ও স্পেনে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।

ইতোমধ্যেই দুই দেশে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ি ও স্থাপনা। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। হাতে থাকা সামান্য সময়টুকু কাজে লাগিয়ে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন তারা। আজ মঙ্গলবার থেকে ফ্রান্সে এবং আগামীকাল বুধবার থেকে স্পেনে তাপমাত্রা আবারও অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় শহর লেজ-ক্যাপ-ফেরে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর নিশ্চিত করেছে। ফ্রান্সের ক্যাফ ফেরে উপদ্বীপে আগুন যেন না ছড়ায় সে জন্য ৫০ মিটার প্রশস্ত ও ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অগ্নিনিরোধক ফাঁকা এলাকা তৈরি করা হয়েছে।

দমকল বাহিনীর কমান্ডার এরিক পিতো জানান, দমকলকর্মীরা এখন অত্যন্ত 'আক্রমণাত্মক অবস্থানে' থেকে কাজ করছেন, তবে টানা কাজের ফলে তাঁদের দল বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, গত কয়েক দিনে ফ্রান্সের বোর্দোর কাছে ৪২ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অন্তত ২৪০টি বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, স্পেনে প্রায় ৭৭ হাজার হেক্টর এলাকা (যা প্রায় পুরো নিউইয়র্ক সিটির সমান) পুড়িয়ে দেওয়া দাবানলের কারণে ঘরছাঁড়া হয়েছেন অন্তত ৬০ হাজার মানুষ। ধোঁয়ায় তীব্র শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি থাকায় পুলিশ (গার্দিয়া সিভিল) বাসিন্দাদের আপাতত নিজেদের পুড়ে যাওয়া বাড়ি ও পোষা প্রাণীর কাছে ফিরতে দিচ্ছে না।

চলতি বছর ইউরোপজুড়ে একের পর এক তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা চরম এই পরিস্থিতির জন্য মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন। তীব্র গরমে প্রাকৃতিকভাবে গাছপালা শুকিয়ে কাঠ হয়ে থাকায় সামান্য আগুনই ভয়াবহ দাবানলে রূপ নিচ্ছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই দাবানলকে ‘জলবায়ু জরুরি অবস্থার সবচেয়ে বেদনাদায়ক প্রকাশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেছেন, ‘সামনের কয়েক সপ্তাহ বেশ কঠিন হবে। আমাদের অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার হাদজা লাহবিবও আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফ্রান্স ও আইবেরীয় উপদ্বীপের বাইরেও হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র এবং পর্তুগালেও চরম তাপমাত্রা ও নতুন দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন দফায় স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ফ্রান্সে শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। ফলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসার ক্ষেত্রে আগামী কয়েক ঘণ্টা ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ডেক্স :

২৮ জুলাই, ২০২৬,  11:08 PM

news image

ইউরোপে নতুন করে অসহনীয় তাপপ্রবাহ শুরুর আগেই ফ্রান্স ও স্পেনে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।

ইতোমধ্যেই দুই দেশে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ি ও স্থাপনা। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। হাতে থাকা সামান্য সময়টুকু কাজে লাগিয়ে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন তারা। আজ মঙ্গলবার থেকে ফ্রান্সে এবং আগামীকাল বুধবার থেকে স্পেনে তাপমাত্রা আবারও অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় শহর লেজ-ক্যাপ-ফেরে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর নিশ্চিত করেছে। ফ্রান্সের ক্যাফ ফেরে উপদ্বীপে আগুন যেন না ছড়ায় সে জন্য ৫০ মিটার প্রশস্ত ও ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অগ্নিনিরোধক ফাঁকা এলাকা তৈরি করা হয়েছে।

দমকল বাহিনীর কমান্ডার এরিক পিতো জানান, দমকলকর্মীরা এখন অত্যন্ত 'আক্রমণাত্মক অবস্থানে' থেকে কাজ করছেন, তবে টানা কাজের ফলে তাঁদের দল বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, গত কয়েক দিনে ফ্রান্সের বোর্দোর কাছে ৪২ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অন্তত ২৪০টি বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, স্পেনে প্রায় ৭৭ হাজার হেক্টর এলাকা (যা প্রায় পুরো নিউইয়র্ক সিটির সমান) পুড়িয়ে দেওয়া দাবানলের কারণে ঘরছাঁড়া হয়েছেন অন্তত ৬০ হাজার মানুষ। ধোঁয়ায় তীব্র শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি থাকায় পুলিশ (গার্দিয়া সিভিল) বাসিন্দাদের আপাতত নিজেদের পুড়ে যাওয়া বাড়ি ও পোষা প্রাণীর কাছে ফিরতে দিচ্ছে না।

চলতি বছর ইউরোপজুড়ে একের পর এক তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা চরম এই পরিস্থিতির জন্য মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন। তীব্র গরমে প্রাকৃতিকভাবে গাছপালা শুকিয়ে কাঠ হয়ে থাকায় সামান্য আগুনই ভয়াবহ দাবানলে রূপ নিচ্ছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই দাবানলকে ‘জলবায়ু জরুরি অবস্থার সবচেয়ে বেদনাদায়ক প্রকাশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেছেন, ‘সামনের কয়েক সপ্তাহ বেশ কঠিন হবে। আমাদের অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার হাদজা লাহবিবও আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফ্রান্স ও আইবেরীয় উপদ্বীপের বাইরেও হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র এবং পর্তুগালেও চরম তাপমাত্রা ও নতুন দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন দফায় স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ফ্রান্সে শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। ফলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসার ক্ষেত্রে আগামী কয়েক ঘণ্টা ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হতে যাচ্ছে।