জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার পরিবার চরম আর্থিক অনটন, নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা কীভাবে জীবন পরিচালনা করবেন এবং নিজেদের পৈতৃক ভিটেমাটিতে নিরাপদে বসবাস করবেন—তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানিক পশারীর স্ত্রী ও তার মেয়ে আফরোজা বেগম।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) মানিক পশারী মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর মানিক পশারীর দাফনকার্য সম্পন্ন হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে জানানো হয় যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পিরোজপুরে তাদের থাকা নিরাপদ নয়। নিরাপত্তার কথা বলে প্রশাসন তখন তাদের পূর্বে গোপালগঞ্জে যেখানে ভাড়াবাসায় থাকতেন, সেই গোপালগঞ্জের ভাড়া বাসাতেই আবার ফেরত পাঠিয়ে দেয়।
গোপালগঞ্জের ভাড়া বাসায় কিছুদিন থাকার পর পরিবারটি চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। পরিবারের উপার্জনক্ষম কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় এবং একমাত্র ভাই আগেই মারা যাওয়ায় ভাড়াবাসার খরচ মেটানোর সামর্থ্য তাদের ছিল না। বাসাভাড়া দেওয়া এবং দৈনন্দিন খাবার জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়ায়, গত ১ নভেম্বর ২০২৬ (রবিবার)—অর্থাৎ মানিক পশারীর মৃত্যুর ঠিক ৯ দিন পর—তারা বাধ্য হয়ে গোপালগঞ্জের ভাড়া বাসা ছেড়ে পুনরায় পিরোজপুরে নিজেদের পৈতৃক ভিটায় ফিরে আসেন। তবে নিজ ভিটেমাটির ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় এবং মানিক পশারীর নিজস্ব কোনো পাকা ঘর না থাকায়, বর্তমানে তারা মানিক পশারীর মেয়ের জামাইয়ের একটি ভাঙা টিনের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন।
মানিক পশারীর স্ত্রী বলেন-"আমার স্বামীর পোতা আছে, আমি সেই জায়গায় থাকতে চাই। আপনারা প্রশাসন ও সাংবাদিকরা যদি আমাদের সাহায্য করেন, তাহলেই আমরা এখানে থাকতে পারব। তা না হলে আমাদের থাকার মতো আর কোনো উপায় নাই। আমার আর কোনো আয়-রোজগারের লোক নাই, আমার একটা ছেলেও নাই। আমরা চলতে পারছি না, অসুস্থ শরীরে কীভাবে চলব! প্রশাসন যদি আমাদের একটু খেয়াল করত, আমরা কীভাবে বাঁচব আর থাকব—তাহলে আমাদের উপকার হতো।"
মেয়ে আফরোজা বেগম বলেন-"আমরা আর গোপালগঞ্জে যেতে চাই না। বাড়িতে আসছি, বাড়িতেই থাকতে চাই। ওখানে ভাড়া বাসায় থাকার বা ভাড়া দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের এখন আর নাই। আমার মা প্রচণ্ড অসুস্থ, কিন্তু অনটনের কারণে চিকিৎসা বা ওষুধ কেনার উপায় নেই। জীবিকা নির্বাহের জন্য আমাদের যে একটা ছোট চায়ের দোকান ছিল, সেটা দিয়েও এখন সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এখন একদম নিঃস্ব। আমরা চাই প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিক, যাতে আমরা নিজেদের ভিটায় নিরাপদে থাকতে পারি।"
বর্তমানে মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি। পৈতৃক ভিটায় নিরাপদে টিকে থাকার জন্য, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং পরিবারটির স্থায়ী পুনর্বাসন ও নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের কঠোর মানবিক হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন মানিক পশারীর স্ত্রী ও কন্যা।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার পরিবার চরম আর্থিক অনটন, নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা কীভাবে জীবন পরিচালনা করবেন এবং নিজেদের পৈতৃক ভিটেমাটিতে নিরাপদে বসবাস করবেন—তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানিক পশারীর স্ত্রী ও তার মেয়ে আফরোজা বেগম।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) মানিক পশারী মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর মানিক পশারীর দাফনকার্য সম্পন্ন হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে জানানো হয় যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পিরোজপুরে তাদের থাকা নিরাপদ নয়। নিরাপত্তার কথা বলে প্রশাসন তখন তাদের পূর্বে গোপালগঞ্জে যেখানে ভাড়াবাসায় থাকতেন, সেই গোপালগঞ্জের ভাড়া বাসাতেই আবার ফেরত পাঠিয়ে দেয়।
গোপালগঞ্জের ভাড়া বাসায় কিছুদিন থাকার পর পরিবারটি চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। পরিবারের উপার্জনক্ষম কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় এবং একমাত্র ভাই আগেই মারা যাওয়ায় ভাড়াবাসার খরচ মেটানোর সামর্থ্য তাদের ছিল না। বাসাভাড়া দেওয়া এবং দৈনন্দিন খাবার জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়ায়, গত ১ নভেম্বর ২০২৬ (রবিবার)—অর্থাৎ মানিক পশারীর মৃত্যুর ঠিক ৯ দিন পর—তারা বাধ্য হয়ে গোপালগঞ্জের ভাড়া বাসা ছেড়ে পুনরায় পিরোজপুরে নিজেদের পৈতৃক ভিটায় ফিরে আসেন। তবে নিজ ভিটেমাটির ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় এবং মানিক পশারীর নিজস্ব কোনো পাকা ঘর না থাকায়, বর্তমানে তারা মানিক পশারীর মেয়ের জামাইয়ের একটি ভাঙা টিনের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন।
মানিক পশারীর স্ত্রী বলেন-"আমার স্বামীর পোতা আছে, আমি সেই জায়গায় থাকতে চাই। আপনারা প্রশাসন ও সাংবাদিকরা যদি আমাদের সাহায্য করেন, তাহলেই আমরা এখানে থাকতে পারব। তা না হলে আমাদের থাকার মতো আর কোনো উপায় নাই। আমার আর কোনো আয়-রোজগারের লোক নাই, আমার একটা ছেলেও নাই। আমরা চলতে পারছি না, অসুস্থ শরীরে কীভাবে চলব! প্রশাসন যদি আমাদের একটু খেয়াল করত, আমরা কীভাবে বাঁচব আর থাকব—তাহলে আমাদের উপকার হতো।"
মেয়ে আফরোজা বেগম বলেন-"আমরা আর গোপালগঞ্জে যেতে চাই না। বাড়িতে আসছি, বাড়িতেই থাকতে চাই। ওখানে ভাড়া বাসায় থাকার বা ভাড়া দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের এখন আর নাই। আমার মা প্রচণ্ড অসুস্থ, কিন্তু অনটনের কারণে চিকিৎসা বা ওষুধ কেনার উপায় নেই। জীবিকা নির্বাহের জন্য আমাদের যে একটা ছোট চায়ের দোকান ছিল, সেটা দিয়েও এখন সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এখন একদম নিঃস্ব। আমরা চাই প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিক, যাতে আমরা নিজেদের ভিটায় নিরাপদে থাকতে পারি।"
বর্তমানে মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি। পৈতৃক ভিটায় নিরাপদে টিকে থাকার জন্য, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং পরিবারটির স্থায়ী পুনর্বাসন ও নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের কঠোর মানবিক হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন মানিক পশারীর স্ত্রী ও কন্যা।

মতামত