দৈনিক পল্লীবাংলা
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

‘বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে’: রুহুল কবির রিজভী

‘বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে’: রুহুল কবির রিজভী

বাংলাদেশে সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট: স্বরূপ সন্ধান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, “সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চক্রান্তের মাধ্যমে ভাষার মূল রূপ বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে পরিকল্পিতভাবে কিছু নতুন শব্দ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চর্চিত শব্দগুলোকে বাদ দিয়ে নতুন রূপ চাপিয়ে দেওয়াটা সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতারই অংশ। তবে যত চক্রান্তই হোক না কেন, এ দেশের মানুষের ভেতরেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “উনিশ শতকের তথাকথিত ‘বেঙ্গল রেনেসাঁ’ মূলত একটি নির্দিষ্ট পুনরুত্থানবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে তৎকালীন সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ উপেক্ষিত ছিল। সেই ঐতিহাসিক ধারা এবং ৪৭ ও ৭১-এর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এ দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয় তথা ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ গড়ে উঠেছে।”

ফ্যাসিবাদের সময়ে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, অতীতে হিটলারের পেছনে যেমন বুদ্ধিজীবীরা লাইন ধরেছিলেন, আমাদের দেশেও ফ্যাসিবাদের সময়ে একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী তোষামোদি করেছেন। তাঁরা গুম কিংবা ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি। অথচ প্রকৃত দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীরা চিরকাল মাটির মানুষের পাশে থাকেন।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ড. মুস্তাফা মজিদ। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ এবং কবি ও গবেষকসহ বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক পল্লীবাংলা

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


‘বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে’: রুহুল কবির রিজভী

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট: স্বরূপ সন্ধান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, “সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চক্রান্তের মাধ্যমে ভাষার মূল রূপ বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে পরিকল্পিতভাবে কিছু নতুন শব্দ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চর্চিত শব্দগুলোকে বাদ দিয়ে নতুন রূপ চাপিয়ে দেওয়াটা সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতারই অংশ। তবে যত চক্রান্তই হোক না কেন, এ দেশের মানুষের ভেতরেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “উনিশ শতকের তথাকথিত ‘বেঙ্গল রেনেসাঁ’ মূলত একটি নির্দিষ্ট পুনরুত্থানবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে তৎকালীন সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ উপেক্ষিত ছিল। সেই ঐতিহাসিক ধারা এবং ৪৭ ও ৭১-এর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এ দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয় তথা ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ গড়ে উঠেছে।”

ফ্যাসিবাদের সময়ে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, অতীতে হিটলারের পেছনে যেমন বুদ্ধিজীবীরা লাইন ধরেছিলেন, আমাদের দেশেও ফ্যাসিবাদের সময়ে একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী তোষামোদি করেছেন। তাঁরা গুম কিংবা ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি। অথচ প্রকৃত দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীরা চিরকাল মাটির মানুষের পাশে থাকেন।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ড. মুস্তাফা মজিদ। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ এবং কবি ও গবেষকসহ বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।


দৈনিক পল্লীবাংলা

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শেখ আজমল হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত পল্লী বাংলা