দৈনিক পল্লীবাংলা

পূজা দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ, দুই দিন পর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

পূজা দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ, দুই দিন পর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

ফরিদপুরে পূজা দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর কুমার নদ থেকে কৌশিক সাহা জিতু (২৩) নামের এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ভাটিলক্ষীপুর মদনখালী স্লুইসগেট সংলগ্ন কুমার নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত কৌশিক সাহা জিতু ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শহরের ওয়্যারলেসপাড়া এলাকার কমলেশ সাহার ছেলে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে বাড়িতে ফিরে পোশাক পরিবর্তন করে আবারও পূজা দেখার জন্য বের হন কৌশিক। যাওয়ার সময় মায়ের কাছে বলে পকেটে করে বাসার গেটের চাবি নিয়ে যান তিনি। এরপর রাতে আর বাড়ী ফেরেননি। পরদিন সোমবার (১৯ অক্টোবর) কোথাও তাঁর সন্ধান না পেয়ে কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন কুমার নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশের ফরিদপুর কোতয়ালী ফাঁড়ি ও কোতয়ালী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অর্ধগলিত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে একটি চাবি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

খবর পেয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা কমলেশ সাহাসহ স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিহিত টি-শার্ট ও প্যান্ট দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন।

কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক মাসুদ হোসেন জানান, মরদেহ পচে ফুলে যাওয়ায় পকেটে থাকা চাবিটি শিক্ষার্থীর বাসায় নিয়ে তালাগুলোতে পরীক্ষা করা হয় এবং চাবি দিয়ে তালা খুলে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমির হোসেন, কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসানসহ সিআইডি ও পিবিআই সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক পল্লীবাংলা

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


পূজা দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ, দুই দিন পর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরে পূজা দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর কুমার নদ থেকে কৌশিক সাহা জিতু (২৩) নামের এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ভাটিলক্ষীপুর মদনখালী স্লুইসগেট সংলগ্ন কুমার নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত কৌশিক সাহা জিতু ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শহরের ওয়্যারলেসপাড়া এলাকার কমলেশ সাহার ছেলে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে বাড়িতে ফিরে পোশাক পরিবর্তন করে আবারও পূজা দেখার জন্য বের হন কৌশিক। যাওয়ার সময় মায়ের কাছে বলে পকেটে করে বাসার গেটের চাবি নিয়ে যান তিনি। এরপর রাতে আর বাড়ী ফেরেননি। পরদিন সোমবার (১৯ অক্টোবর) কোথাও তাঁর সন্ধান না পেয়ে কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন কুমার নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশের ফরিদপুর কোতয়ালী ফাঁড়ি ও কোতয়ালী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অর্ধগলিত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে একটি চাবি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

খবর পেয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা কমলেশ সাহাসহ স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিহিত টি-শার্ট ও প্যান্ট দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন।

কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক মাসুদ হোসেন জানান, মরদেহ পচে ফুলে যাওয়ায় পকেটে থাকা চাবিটি শিক্ষার্থীর বাসায় নিয়ে তালাগুলোতে পরীক্ষা করা হয় এবং চাবি দিয়ে তালা খুলে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমির হোসেন, কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসানসহ সিআইডি ও পিবিআই সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।


দৈনিক পল্লীবাংলা

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শেখ আজমল হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত পল্লী বাংলা