দৈনিক পল্লী বাংলা
প্রকাশ : সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

পেটে গজ রেখেই সেলাই, চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রসূতির মৃত্যু

পেটে গজ রেখেই সেলাই, চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রসূতির মৃত্যু

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারের সময় রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে দীর্ঘ শারীরিক যন্ত্রণা ও পচন ধরে ধুঁকে ধুঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বীথি আক্তার (২৩) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রোগীর স্বামী কর্তৃক মামলা না করার শর্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন ও লিখিত স্ট্যাম্প স্বাক্ষরের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

মৃত বীথি আক্তার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের জামতলার হাট জ্যৈতিনবর্দীপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি ফরিদপুর শহরের একটি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কাজ করতেন।

নিহতের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. তামান্না আক্তার ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দুর তত্ত্বাবধানে সিজারের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন বীথি। এর কয়েকদিন পর বাড়ি ফিরলে তাঁর শারীরিক জটিলতা শুরু হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে দুই দফায় বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে তাঁর পেটের ভেতর গজ বা মব রয়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। গত ১৫ জুলাই দ্বিতীয় দফায় অপারেশন করে তাঁর পেট থেকে গজ অপসারণ করেন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক শোভন ও ডা. সঞ্জয় সাহা। ততক্ষণে পেটের নাড়ি পচে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে গত ৪ অক্টোবর তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮ অক্টোবর সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী রাকিবুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, চরম আর্থিক সংকট ও বকেয়া বিল পরিশোধের চাপে পড়ে তিনি ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার শর্তে ১০০ টাকার নন- judiciales স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে আর্থিক সহায়তা নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ তোলেন স্বজনরা। ঘটনাটি জানাজানি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মানস কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে সে অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক পল্লী বাংলা

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


পেটে গজ রেখেই সেলাই, চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রসূতির মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারের সময় রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে দীর্ঘ শারীরিক যন্ত্রণা ও পচন ধরে ধুঁকে ধুঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বীথি আক্তার (২৩) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রোগীর স্বামী কর্তৃক মামলা না করার শর্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন ও লিখিত স্ট্যাম্প স্বাক্ষরের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

মৃত বীথি আক্তার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের জামতলার হাট জ্যৈতিনবর্দীপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি ফরিদপুর শহরের একটি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কাজ করতেন।

নিহতের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. তামান্না আক্তার ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দুর তত্ত্বাবধানে সিজারের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন বীথি। এর কয়েকদিন পর বাড়ি ফিরলে তাঁর শারীরিক জটিলতা শুরু হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে দুই দফায় বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে তাঁর পেটের ভেতর গজ বা মব রয়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। গত ১৫ জুলাই দ্বিতীয় দফায় অপারেশন করে তাঁর পেট থেকে গজ অপসারণ করেন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক শোভন ও ডা. সঞ্জয় সাহা। ততক্ষণে পেটের নাড়ি পচে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে গত ৪ অক্টোবর তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮ অক্টোবর সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী রাকিবুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, চরম আর্থিক সংকট ও বকেয়া বিল পরিশোধের চাপে পড়ে তিনি ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার শর্তে ১০০ টাকার নন- judiciales স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে আর্থিক সহায়তা নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ তোলেন স্বজনরা। ঘটনাটি জানাজানি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মানস কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে সে অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দৈনিক পল্লী বাংলা

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শেখ আজমল হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত পল্লী বাংলা