দৈনিক পল্লীবাংলা
আপডেট : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

চরভদ্রাসনে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পথে ট্রলারে নারীর মৃত্যু

দুর্গম চরাঞ্চলে ২৫ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের দাবি

দুর্গম চরাঞ্চলে ২৫ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের দাবি
স্ত্রীর লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন স্বামী

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে চিকিৎসার জন্য পদ্মা নদী পেরিয়ে চরহাজীগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পথে ট্রলারে রওশনারা (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ওই নারীর মৃত্যুতে চরাঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবার অভাবে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। এ অবস্থায় চরাঞ্চলে ২৫ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবকেরা।

নিহত রওশনারা চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চর সালেপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী হাশেম মোল্লা মনির খার বাজার এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে চরহাজীগঞ্জ বাজারে নিয়ে যাচ্ছিলেন হাশেম মোল্লা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ট্রলারের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে চরের দিকে ফিরে যান।

হাশেম মোল্লা বলেন, “আমার স্ত্রী শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু বাজারে পৌঁছানোর আগেই ট্রলারে তাঁর মৃত্যু হয়। আমাদের চরাঞ্চলে কাছাকাছি ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলে হয়তো দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ হতো। আর কোনো পরিবারকে যেন এমন পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়। আমাদের চরে অন্তত ২৫ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হোক।”

স্থানীয় সমাজসেবক ও সাবেক চেয়ারম্যান কে এম ওবায়দুল বাড়ি দিপু খান এবং সাবেক চেয়ারম্যান আমির হোসেন খান বলেন, হরিরামপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভঙ্গুর। হাজার বিঘা ও চর সালেপুরের মধ্যবর্তী সালেপুর মরা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং চরাঞ্চলে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরি।

সমাজসেবক মোস্তফা কবির ও চর হরিরামপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেনও চরাঞ্চলে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানান। তাঁদের মতে, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, “ট্রলারে এক নারীর মৃত্যুর বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। ঘাটের ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলব, যাতে জরুরি রোগীদের দ্রুত পারাপারের ব্যবস্থা করা যায়।”

স্থানীয়দের দাবি, চরাঞ্চলে হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভঙ্গুর রাস্তাঘাট সংস্কার ও সালেপুর মরা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হলে দুর্গম এলাকার মানুষের যাতায়াত ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সহজ হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক পল্লীবাংলা

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


দুর্গম চরাঞ্চলে ২৫ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে চিকিৎসার জন্য পদ্মা নদী পেরিয়ে চরহাজীগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পথে ট্রলারে রওশনারা (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ওই নারীর মৃত্যুতে চরাঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবার অভাবে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। এ অবস্থায় চরাঞ্চলে ২৫ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবকেরা।

নিহত রওশনারা চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চর সালেপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী হাশেম মোল্লা মনির খার বাজার এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে চরহাজীগঞ্জ বাজারে নিয়ে যাচ্ছিলেন হাশেম মোল্লা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ট্রলারের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে চরের দিকে ফিরে যান।

হাশেম মোল্লা বলেন, “আমার স্ত্রী শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু বাজারে পৌঁছানোর আগেই ট্রলারে তাঁর মৃত্যু হয়। আমাদের চরাঞ্চলে কাছাকাছি ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলে হয়তো দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ হতো। আর কোনো পরিবারকে যেন এমন পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়। আমাদের চরে অন্তত ২৫ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হোক।”

স্থানীয় সমাজসেবক ও সাবেক চেয়ারম্যান কে এম ওবায়দুল বাড়ি দিপু খান এবং সাবেক চেয়ারম্যান আমির হোসেন খান বলেন, হরিরামপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভঙ্গুর। হাজার বিঘা ও চর সালেপুরের মধ্যবর্তী সালেপুর মরা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং চরাঞ্চলে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরি।

সমাজসেবক মোস্তফা কবির ও চর হরিরামপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেনও চরাঞ্চলে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানান। তাঁদের মতে, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, “ট্রলারে এক নারীর মৃত্যুর বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। ঘাটের ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলব, যাতে জরুরি রোগীদের দ্রুত পারাপারের ব্যবস্থা করা যায়।”

স্থানীয়দের দাবি, চরাঞ্চলে হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভঙ্গুর রাস্তাঘাট সংস্কার ও সালেপুর মরা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হলে দুর্গম এলাকার মানুষের যাতায়াত ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সহজ হবে।



দৈনিক পল্লীবাংলা

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শেখ আজমল হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত পল্লী বাংলা