ঢাকা ১৫ আগস্ট, ২০২৬
শিরোনামঃ
গাজীপুর ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী নতুন সমীকরণ: আলোচনায় সমাজসেবক জুয়েল মৃধা বিসিডিএস গাজীপুর জেলা শাখার মিলন মেলা অনুষ্ঠিত  আগামীকাল ১৫ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন ‘সরকারের সমালোচনা নয়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালে কঠোর ব্যবস্থা’ : তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাগেরহাটে অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু অভিযোজন নিয়ে কর্মশালা অসহায় বিধবাকে বিয়ে করে চুরির অপবাদ: এলাকাছাড়া নবদম্পতি, একঘরে চাচাতো ভাই ! নওগাঁয় ৩৮ জন জটিল রোগীকে ৯ লাখ টাকার চিকিৎসা সহায়তা মাধবপুরে প্রশাসনের ‘নাকের ডগায়’ অবৈধ সিলিকা-বালু উত্তোলন, নেপথ্যে ইফতিখার চক্র বাগেরহাটে মায়ের জমি দখলের চেষ্টা ও হুমকির অভিযোগ, ছেলের সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপি-যুবদল সংঘর্ষ, সাংবাদিক আহত

আগামীকাল ১৫ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন

#
news image

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী আজ (১৫ আগস্ট)। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবার উদযাপনের আবহ নেই; গত বছর ৩০ ডিসেম্বর এই আপসহীন নেত্রীর প্রয়াণের পর তাঁর অনুপস্থিতিতে এবারই প্রথম শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছেন দলীয় নেতা-কর্মীসহ সারাদেশের মানুষ।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া (ডাকনাম পুতুল)। পরবর্তীতে তাঁর পরিবার দিনাজপুরে স্থায়ী হয়। ১৯৬০ সালে সেন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। গৃহবধূ হিসেবে জীবনের দীর্ঘ সময় পার করলেও ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতির তাগিদে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি।

১৯৮২ সালে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। এরপর একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি নিজেকে 'গণতন্ত্রের প্রতীক' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক।

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ (ষষ্ঠ) এবং ২০০১ (অষ্টম) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে মোট তিন দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর শাসনামলে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, বিনামূল্যে নারী শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষায় উপবৃত্তি, পোশাক খাতের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে অভূতপূর্ব সফলতা আসে।

রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে বহু চড়াই-উৎরাই ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। ২০০৭ সালের এক-এগারোর সেনা সমর্থিত সরকার এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ কারাবাস ও নানা প্রতিকূলতা সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন মামলায় তাঁকে দণ্ড দেওয়া হলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি পূর্ণাঙ্গ মুক্তি পান।

বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না; তিনি নিজের কর্মগুণে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর আজকের দিনটি উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন দেশব্যাপী দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

১৪ আগস্ট, ২০২৬,  7:36 PM

news image

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী আজ (১৫ আগস্ট)। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবার উদযাপনের আবহ নেই; গত বছর ৩০ ডিসেম্বর এই আপসহীন নেত্রীর প্রয়াণের পর তাঁর অনুপস্থিতিতে এবারই প্রথম শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছেন দলীয় নেতা-কর্মীসহ সারাদেশের মানুষ।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া (ডাকনাম পুতুল)। পরবর্তীতে তাঁর পরিবার দিনাজপুরে স্থায়ী হয়। ১৯৬০ সালে সেন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। গৃহবধূ হিসেবে জীবনের দীর্ঘ সময় পার করলেও ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতির তাগিদে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি।

১৯৮২ সালে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। এরপর একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি নিজেকে 'গণতন্ত্রের প্রতীক' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক।

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ (ষষ্ঠ) এবং ২০০১ (অষ্টম) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে মোট তিন দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর শাসনামলে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, বিনামূল্যে নারী শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষায় উপবৃত্তি, পোশাক খাতের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে অভূতপূর্ব সফলতা আসে।

রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে বহু চড়াই-উৎরাই ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। ২০০৭ সালের এক-এগারোর সেনা সমর্থিত সরকার এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ কারাবাস ও নানা প্রতিকূলতা সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন মামলায় তাঁকে দণ্ড দেওয়া হলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি পূর্ণাঙ্গ মুক্তি পান।

বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না; তিনি নিজের কর্মগুণে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর আজকের দিনটি উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন দেশব্যাপী দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।