মামলাবাজ রাসেলে অতিষ্ট ফেরদৌস গং মিথ্যা মামলা নিয়ে ঘর ছাড়া অনেকেই
গাজীপুর প্রতিনিধি :
২৩ আগস্ট, ২০২৬, 9:02 PM
মামলাবাজ রাসেলে অতিষ্ট ফেরদৌস গং মিথ্যা মামলা নিয়ে ঘর ছাড়া অনেকেই
উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বেকার জীবনযাপন করলেও মানুষের কাছে ‘পাওনাদার’ হিসেবে দাবি করেন লাখ লাখ টাকা। সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে সুদে টাকা দেওয়ার নামে নেওয়া হয় স্বাক্ষরিত ব্লাঙ্ক চেক (খালি চেক)। পরবর্তীতে সেই চেকে নিজের ইচ্ছামতো বিপুল অঙ্কের টাকা বসিয়ে আদালতে মামলা দিয়ে নিরীহ পরিবারগুলোকে নিঃস্ব করার অভিযোগ উঠেছে মো. মিজানুর রহমান রাসেল (৩৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত রাসেল গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের টেক কাথোরা এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় তিনি সুদের কারবার, জমি কেনাবেচায় মধ্যস্থতা ও অর্থ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের টাকা আদায় এবং অর্থ আদায়ে ব্লাঙ্ক চেকে কোটি টাকার মামলা ঠুকে দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করাই তাঁর মূল কৌশল।
ভুক্তভোগীদের বিবরণ অনুযায়ী, সুদের টাকা যথাসময়ে দিতে না পারলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল খাটানো এবং বাড়িঘর বিক্রি করতে বাধ্য করে এলাকাছাড়া করার মতো একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী টেক কাথোরা এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে ফেরদৌস হাসান (৩৫) জানান, তিনি গাজীপুর ভোগড়া বাইপাসে দুটি দোকানের মালিক ছিলেন এবং সচ্ছলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে রাসেলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ফেরদৌস হাসান বলেন, “একদিন রাসেল এসে আমাকে বলে—‘চাচা, ব্যবসার প্রয়োজনে টাকা লাগলে ৩ লাখ টাকা নেন, মাসে শুধু ১০ হাজার টাকা দিলেই হবে; সাথে তিনটি খালি চেকের পাতা দিতে হবে।’ সরল বিশ্বাসে আমি টাকা ও তিনটি খালি চেক দিই। দুই মাস পর চেক হারিয়ে গেছে দাবি করে সে আরও তিনটি খালি চেক নেয়। পরবর্তীতে সে মাসে ৩০ হাজার টাকা দাবি করলে আমি মূল ৩ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানাই। কিন্তু এর ১৫ দিনের মাথায় সে আমার বিরুদ্ধে ৭ লাখ, ১৩ লাখ ও ২১ লাখ টাকার তিনটি পৃথক চেকের মামলা দায়ের করে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “রাসেল আমাকে মিথ্যা মামলায় দেড় মাস জেল খাটিয়েছে। বিজ্ঞ আদালত ৫ লাখ টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলে আমি আদালতের মাধ্যমে তা পরিশোধ করি। বাকি ২ লাখ টাকা ফেরত দিতে চাইলে সে একটি মামলার আপসের বিনিময়ে একাই ১২ লাখ টাকা দাবি করে। মামলার খরচ চালাতে গিয়ে আমি ১ কোটি টাকার বসতবাড়ি মাত্র ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করে ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়ে বর্তমানে পলাতক জীবনযাপন করছি।”
একই এলাকার বাসিন্দা ইমাম হোসেনের ছেলে মাসুম বিল্লাহ (৩৫)-এর সঙ্গেও একই প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। জানা যায়, রাসেল ১ লাখ টাকা দিয়ে তিনটি ব্লাঙ্ক চেক নেন এবং পরবর্তীতে মাসুমের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন। মামলার ভয়ে মাসুম বিল্লাহ বর্তমানে ঘরছাড়া। মাসুমের পিতা ইমাম হোসেন অভিযুক্ত রাসেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফেরদৌস হাসান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার ও সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আমি জোর দাবি জানাচ্ছি—এই সুদখোর ও মামলাবাজ রাসেলের হাত থেকে আমাদের বাঁচান। অচিরেই তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে আমার পরিবার নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”
গাজীপুর প্রতিনিধি :
২৩ আগস্ট, ২০২৬, 9:02 PM
উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বেকার জীবনযাপন করলেও মানুষের কাছে ‘পাওনাদার’ হিসেবে দাবি করেন লাখ লাখ টাকা। সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে সুদে টাকা দেওয়ার নামে নেওয়া হয় স্বাক্ষরিত ব্লাঙ্ক চেক (খালি চেক)। পরবর্তীতে সেই চেকে নিজের ইচ্ছামতো বিপুল অঙ্কের টাকা বসিয়ে আদালতে মামলা দিয়ে নিরীহ পরিবারগুলোকে নিঃস্ব করার অভিযোগ উঠেছে মো. মিজানুর রহমান রাসেল (৩৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত রাসেল গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের টেক কাথোরা এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় তিনি সুদের কারবার, জমি কেনাবেচায় মধ্যস্থতা ও অর্থ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের টাকা আদায় এবং অর্থ আদায়ে ব্লাঙ্ক চেকে কোটি টাকার মামলা ঠুকে দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করাই তাঁর মূল কৌশল।
ভুক্তভোগীদের বিবরণ অনুযায়ী, সুদের টাকা যথাসময়ে দিতে না পারলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল খাটানো এবং বাড়িঘর বিক্রি করতে বাধ্য করে এলাকাছাড়া করার মতো একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী টেক কাথোরা এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে ফেরদৌস হাসান (৩৫) জানান, তিনি গাজীপুর ভোগড়া বাইপাসে দুটি দোকানের মালিক ছিলেন এবং সচ্ছলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে রাসেলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ফেরদৌস হাসান বলেন, “একদিন রাসেল এসে আমাকে বলে—‘চাচা, ব্যবসার প্রয়োজনে টাকা লাগলে ৩ লাখ টাকা নেন, মাসে শুধু ১০ হাজার টাকা দিলেই হবে; সাথে তিনটি খালি চেকের পাতা দিতে হবে।’ সরল বিশ্বাসে আমি টাকা ও তিনটি খালি চেক দিই। দুই মাস পর চেক হারিয়ে গেছে দাবি করে সে আরও তিনটি খালি চেক নেয়। পরবর্তীতে সে মাসে ৩০ হাজার টাকা দাবি করলে আমি মূল ৩ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানাই। কিন্তু এর ১৫ দিনের মাথায় সে আমার বিরুদ্ধে ৭ লাখ, ১৩ লাখ ও ২১ লাখ টাকার তিনটি পৃথক চেকের মামলা দায়ের করে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “রাসেল আমাকে মিথ্যা মামলায় দেড় মাস জেল খাটিয়েছে। বিজ্ঞ আদালত ৫ লাখ টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলে আমি আদালতের মাধ্যমে তা পরিশোধ করি। বাকি ২ লাখ টাকা ফেরত দিতে চাইলে সে একটি মামলার আপসের বিনিময়ে একাই ১২ লাখ টাকা দাবি করে। মামলার খরচ চালাতে গিয়ে আমি ১ কোটি টাকার বসতবাড়ি মাত্র ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করে ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়ে বর্তমানে পলাতক জীবনযাপন করছি।”
একই এলাকার বাসিন্দা ইমাম হোসেনের ছেলে মাসুম বিল্লাহ (৩৫)-এর সঙ্গেও একই প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। জানা যায়, রাসেল ১ লাখ টাকা দিয়ে তিনটি ব্লাঙ্ক চেক নেন এবং পরবর্তীতে মাসুমের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন। মামলার ভয়ে মাসুম বিল্লাহ বর্তমানে ঘরছাড়া। মাসুমের পিতা ইমাম হোসেন অভিযুক্ত রাসেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফেরদৌস হাসান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার ও সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আমি জোর দাবি জানাচ্ছি—এই সুদখোর ও মামলাবাজ রাসেলের হাত থেকে আমাদের বাঁচান। অচিরেই তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে আমার পরিবার নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”