ঢাকা ২৪ আগস্ট, ২০২৬
শিরোনামঃ
মাদক বন্ধ হবে কীভাবে—যখন মাদক ঘিরেই গড়ে উঠে অর্থনৈতিক স্বার্থের চক্র ? বাগেরহাটে অসহায় ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় বিশ্বনাথে বিএনপির আনন্দ মিছিল ও শোভাযাত্রা রাজশাহীতে নভেম্বরে শুরু হচ্ছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ভলিবল টুর্নামেন্ট’ সিরাজগঞ্জে চালকল মালিকদের চাঁদা দাবির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি গাজীপুরে অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩, গাড়ি উদ্ধার কচুয়ায় রাড়ীপাড়া ইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মামলাবাজ রাসেলে অতিষ্ট ফেরদৌস গং মিথ্যা মামলা নিয়ে ঘর ছাড়া অনেকেই সাংবিধানিক নিয়মে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান

সাংবিধানিক নিয়মে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

#
news image

সংবিধানের নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা প্রধান এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিগত সরকারের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকারের আমলে যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সে পথে হাঁটবে না। বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি নির্বাচনে জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এক বছর দীর্ঘ সময়। সংবিধানের নিয়মকানুন মেনে, সরকারের সার্বিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই জনগণের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে আসবেন।”

মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব ও তৃণমূলের সেবার বিষয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সরাসরি তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে কাজ করে। তাই জনগণকে সরাসরি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা সবার আগে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সফল হলে পুরো সরকারও সফল হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকার ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব মানুষের সেবা নিশ্চিত করবে। তবে সমাজের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিগত ১৭ বছর একটি বিশেষ ধনিক শ্রেণিকে সুবিধা দিতে গিয়ে সাধারণ দরিদ্র মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ চালু করেছেন। ভবিষ্যতেও তৃণমূলের মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটানোই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “বর্তমান সরকার কোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবে না। কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু এই মন্ত্রণালয়ই নয়, সরকারের সব পর্যায়ে অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।” তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বিএনপি প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে নয়, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকতায় বিশ্বাস করে।

বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “বিগত সময়ে দেশের বিচারব্যবস্থাকেও দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। রায়ের নির্দেশনা আসত মন্ত্রণালয় থেকে। আমরা কোনো ‘উইচ হান্টিং’ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করি না। আমাদের লক্ষ্য দেশে সত্যিকার অর্থেই একটি কার্যকর ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।”

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ঘিরে দুর্নীতি ও লুটপাটের যে অভিযোগ উঠেছিল, সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

২৩ আগস্ট, ২০২৬,  8:34 PM

news image

সংবিধানের নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা প্রধান এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিগত সরকারের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকারের আমলে যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সে পথে হাঁটবে না। বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি নির্বাচনে জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এক বছর দীর্ঘ সময়। সংবিধানের নিয়মকানুন মেনে, সরকারের সার্বিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই জনগণের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে আসবেন।”

মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব ও তৃণমূলের সেবার বিষয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সরাসরি তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে কাজ করে। তাই জনগণকে সরাসরি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা সবার আগে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সফল হলে পুরো সরকারও সফল হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকার ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব মানুষের সেবা নিশ্চিত করবে। তবে সমাজের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিগত ১৭ বছর একটি বিশেষ ধনিক শ্রেণিকে সুবিধা দিতে গিয়ে সাধারণ দরিদ্র মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ চালু করেছেন। ভবিষ্যতেও তৃণমূলের মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটানোই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “বর্তমান সরকার কোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবে না। কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু এই মন্ত্রণালয়ই নয়, সরকারের সব পর্যায়ে অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।” তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বিএনপি প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে নয়, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকতায় বিশ্বাস করে।

বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “বিগত সময়ে দেশের বিচারব্যবস্থাকেও দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। রায়ের নির্দেশনা আসত মন্ত্রণালয় থেকে। আমরা কোনো ‘উইচ হান্টিং’ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করি না। আমাদের লক্ষ্য দেশে সত্যিকার অর্থেই একটি কার্যকর ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।”

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ঘিরে দুর্নীতি ও লুটপাটের যে অভিযোগ উঠেছিল, সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।