২৬ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের হাতছানি ওয়েস্ট ইন্ডিজের
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০২ আগস্ট, ২০২৬, 5:13 AM
২৬ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের হাতছানি ওয়েস্ট ইন্ডিজের
পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে জয় পেয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ড্র করলেই দীর্ঘ ২৬ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রাত ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এর আগে ২০০০ সালে সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল তারা।
এর আগে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৯০ রানে জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩১১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে ২৪৪ রান তুলে ভালো অবস্থানে ছিল পাকিস্তান। কিন্তু পরবর্তীতে মাত্র ৩৮ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮২ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।
প্রথম ইনিংস থেকে পাওয়া ২৯ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১৮১ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে জয়ের জন্য ২১১ রানের লক্ষ্য পায় পাকিস্তান। রান তাড়া করতে নেমে ক্যারিবীয় পেসারদের তোপের মুখে পড়ে ৭১ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর ১২০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। দলের পক্ষে একপ্রান্ত আগলে লড়াই করে অপরাজিত ৫৮ রান করেন অধিনায়ক বাবর আজম।
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে একাই লড়াই করেছিলেন সাবেক অধিনায়ক শান মাসুদ। ১২টি চারের সাহায্যে তিনি ১০৯ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার সময় উইন্ডিজ পেসার জেইডেন সিলেসের এক ডেলিভারিতে বাঁ-হাতের তর্জনীতে চোট পান তিনি। স্ক্যান রিপোর্টে আঙুলের চোট নিশ্চিত হওয়ায় আসন্ন দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারছেন না মাসুদ।
সিরিজ হার এড়ানোর মিশনে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না পাকিস্তান। দলের অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, “প্রথম টেস্টে আমাদের ব্যাটিং ভালো হয়নি। আশা করছি, দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটাররা ভালো করবে এবং দলের জয়ে অবদান রাখবে। সিরিজ হার এড়াতে হলে দ্বিতীয় টেস্টে জয় ছাড়া অন্য কোনো পথ আমাদের সামনে খোলা নেই। আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব।”
সিরিজ বাঁচানোর পাশাপাশি পরাজয়ের বৃত্ত থেকেও বের হতে হবে পাকিস্তানকে। বর্তমানে বিদেশের মাটিতে টানা আট টেস্ট হেরেছে তারা। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সর্বশেষ কলম্বোতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ইনিংস ও ২২২ রানে টেস্ট জিতেছিল দলটি।
অন্যদিকে, প্রথম টেস্ট জিতলেও ব্যাটারদের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি খুশি নন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ড্যারেন স্যামি। তিনি বলেন, “প্রথম টেস্ট জিতলেও, ব্যাটাররা খুব বেশি ভালো করতে পারেনি। মূলত বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যেই আমরা টেস্ট জিতেছি। দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটারদের কাছ থেকে বড় ইনিংস দেখতে চাই।”
টেস্ট ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ৫৭ বার মুখোমুখি হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান। এর মধ্যে ক্যারিবীয়দের জয় ২০ ম্যাচে এবং পাকিস্তান জিতেছে ২২ ম্যাচে। বাকি ১৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
এদিকে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্রের পয়েন্ট টেবিলে একেবারে শেষ দুই প্রান্তে রয়েছে এই দুই দল। ১১ ম্যাচ খেলে ২ জয় ও ৭ হারে ২২.৭৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে আছে ক্যারিবীয়রা। অন্যদিকে ৫ টেস্টের একটিতে জয় ও ৪টিতে হেরে ৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের নবম ও শেষ স্থানে রয়েছে পাকিস্তান।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০২ আগস্ট, ২০২৬, 5:13 AM
পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে জয় পেয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ড্র করলেই দীর্ঘ ২৬ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রাত ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এর আগে ২০০০ সালে সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল তারা।
এর আগে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৯০ রানে জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩১১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে ২৪৪ রান তুলে ভালো অবস্থানে ছিল পাকিস্তান। কিন্তু পরবর্তীতে মাত্র ৩৮ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮২ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।
প্রথম ইনিংস থেকে পাওয়া ২৯ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১৮১ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে জয়ের জন্য ২১১ রানের লক্ষ্য পায় পাকিস্তান। রান তাড়া করতে নেমে ক্যারিবীয় পেসারদের তোপের মুখে পড়ে ৭১ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর ১২০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। দলের পক্ষে একপ্রান্ত আগলে লড়াই করে অপরাজিত ৫৮ রান করেন অধিনায়ক বাবর আজম।
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে একাই লড়াই করেছিলেন সাবেক অধিনায়ক শান মাসুদ। ১২টি চারের সাহায্যে তিনি ১০৯ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার সময় উইন্ডিজ পেসার জেইডেন সিলেসের এক ডেলিভারিতে বাঁ-হাতের তর্জনীতে চোট পান তিনি। স্ক্যান রিপোর্টে আঙুলের চোট নিশ্চিত হওয়ায় আসন্ন দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারছেন না মাসুদ।
সিরিজ হার এড়ানোর মিশনে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না পাকিস্তান। দলের অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, “প্রথম টেস্টে আমাদের ব্যাটিং ভালো হয়নি। আশা করছি, দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটাররা ভালো করবে এবং দলের জয়ে অবদান রাখবে। সিরিজ হার এড়াতে হলে দ্বিতীয় টেস্টে জয় ছাড়া অন্য কোনো পথ আমাদের সামনে খোলা নেই। আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব।”
সিরিজ বাঁচানোর পাশাপাশি পরাজয়ের বৃত্ত থেকেও বের হতে হবে পাকিস্তানকে। বর্তমানে বিদেশের মাটিতে টানা আট টেস্ট হেরেছে তারা। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সর্বশেষ কলম্বোতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ইনিংস ও ২২২ রানে টেস্ট জিতেছিল দলটি।
অন্যদিকে, প্রথম টেস্ট জিতলেও ব্যাটারদের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি খুশি নন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ড্যারেন স্যামি। তিনি বলেন, “প্রথম টেস্ট জিতলেও, ব্যাটাররা খুব বেশি ভালো করতে পারেনি। মূলত বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যেই আমরা টেস্ট জিতেছি। দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটারদের কাছ থেকে বড় ইনিংস দেখতে চাই।”
টেস্ট ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ৫৭ বার মুখোমুখি হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান। এর মধ্যে ক্যারিবীয়দের জয় ২০ ম্যাচে এবং পাকিস্তান জিতেছে ২২ ম্যাচে। বাকি ১৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
এদিকে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্রের পয়েন্ট টেবিলে একেবারে শেষ দুই প্রান্তে রয়েছে এই দুই দল। ১১ ম্যাচ খেলে ২ জয় ও ৭ হারে ২২.৭৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে আছে ক্যারিবীয়রা। অন্যদিকে ৫ টেস্টের একটিতে জয় ও ৪টিতে হেরে ৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের নবম ও শেষ স্থানে রয়েছে পাকিস্তান।