বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ২৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান, সেমিতে স্পেনের মুখোমুখি ফ্রান্স
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৪ জুলাই, ২০২৬, 9:36 PM
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ২৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান, সেমিতে স্পেনের মুখোমুখি ফ্রান্স
বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন। একদিকে দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ব্লকবাস্টার দ্বৈরথ, অন্যদিকে আজ রাতেই ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন।
আগামীকাল বুধবার রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সর্বশেষ ২০০২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দেখা হয়েছিল এই দুই পরাশক্তির। দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চের নক-আউটে মুখোমুখি হচ্ছে তারা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দুই দলের ষষ্ঠ লড়াই। এর আগের ৫বারের দেখায় ইংল্যান্ড ৩ বার ও আর্জেন্টিনা ২ বার জয় পায়। তবে বিশ্বকাপে নক-আউট পর্বের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আলবিসেলেস্তেরা; ৩বারের নক-আউট দেখায় ২ বারই জিতেছে আর্জেন্টিনা।
ফুটবল ইতিহাসে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও পরবর্তীতে শতাব্দীর সেরা একক গোলের ওপর ভর করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। তবে সর্বশেষ ২০০২ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ইংলিশরা। দীর্ঘ বিরতির পর আটলান্টার মাঠে আবার সেই ঐতিহাসিক প্রতিশোধ ও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

একনজরে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মুখোমুখি পরিসংখ্যান:
-
১৯৬২ সাল : ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)
-
১৯৬৬ সাল : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (কোয়ার্টার ফাইনাল)
-
১৯৮৬ সাল : আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড (কোয়ার্টার ফাইনাল)
-
১৯৯৮ সাল : আর্জেন্টিনা ২-২ ইংল্যান্ড (শেষ ষোলো, টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয়ী আর্জেন্টিনা)
-
২০০২ সাল : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)
এদিকে আজ মঙ্গলবার রাতে টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও স্পেন। টুর্নামেন্টের সেরা দুই দলের এই বিগ ম্যাচের আগে এক মনস্তাত্ত্বিক লড়াই শুরু করেছেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশ্যম। তিনি প্রতিপক্ষ স্পেনকেই এই ম্যাচে স্পষ্ট ‘ফেভারিট’ বা এগিয়ে রাখছেন।
টুর্নামেন্টের শুরুটা নবাগত কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র দিয়ে হলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দুর্দান্ত ছন্দে ফেরে স্পেন। দেশ্যম বলেন, “কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের কথা ভুলে যান। এরপর থেকেই স্পেন প্রমাণ করেছে যে তারাই টুর্নামেন্টের সেরা দল। স্পেনের আক্রমণভাগ যেমন শক্তিশালী, রক্ষণেও তেমনি দুর্দান্ত। গত ৬-৭ ম্যাচে তারা মাত্র ১টি গোল হজম করেছে। ফলে তারাই ফেভারিট।”
ফরাসি কোচের এমন মন্তব্যের জবাবে স্পেনের কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে হাসিমুখে বলেন, “মানুষ আমাদের ফেভারিট বলুক বা না বলুক, তাতে মাঠের ফলে কোনো পার্থক্য হয় না। এটি দুটি দুর্দান্ত দলের লড়াই এবং চাপ সামলাতে আমার দল পুরোপুরি অভ্যস্ত।”
ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের একটি ‘ক্ল্যাসিক লড়াই’ হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে ফরাসি কোচ দেশ্যম আরও নিশ্চিত করেছেন যে, কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়লেও ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে সেমিফাইনালের জন্য শতভাগ ফিট আছেন। এছাড়া স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালকে রুখতেও ফ্রান্সের নিজস্ব রণকৌশল প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৪ জুলাই, ২০২৬, 9:36 PM
বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন। একদিকে দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ব্লকবাস্টার দ্বৈরথ, অন্যদিকে আজ রাতেই ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন।
আগামীকাল বুধবার রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সর্বশেষ ২০০২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দেখা হয়েছিল এই দুই পরাশক্তির। দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চের নক-আউটে মুখোমুখি হচ্ছে তারা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দুই দলের ষষ্ঠ লড়াই। এর আগের ৫বারের দেখায় ইংল্যান্ড ৩ বার ও আর্জেন্টিনা ২ বার জয় পায়। তবে বিশ্বকাপে নক-আউট পর্বের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আলবিসেলেস্তেরা; ৩বারের নক-আউট দেখায় ২ বারই জিতেছে আর্জেন্টিনা।
ফুটবল ইতিহাসে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও পরবর্তীতে শতাব্দীর সেরা একক গোলের ওপর ভর করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। তবে সর্বশেষ ২০০২ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ইংলিশরা। দীর্ঘ বিরতির পর আটলান্টার মাঠে আবার সেই ঐতিহাসিক প্রতিশোধ ও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

একনজরে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মুখোমুখি পরিসংখ্যান:
-
১৯৬২ সাল : ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)
-
১৯৬৬ সাল : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (কোয়ার্টার ফাইনাল)
-
১৯৮৬ সাল : আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড (কোয়ার্টার ফাইনাল)
-
১৯৯৮ সাল : আর্জেন্টিনা ২-২ ইংল্যান্ড (শেষ ষোলো, টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয়ী আর্জেন্টিনা)
-
২০০২ সাল : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)
এদিকে আজ মঙ্গলবার রাতে টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও স্পেন। টুর্নামেন্টের সেরা দুই দলের এই বিগ ম্যাচের আগে এক মনস্তাত্ত্বিক লড়াই শুরু করেছেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশ্যম। তিনি প্রতিপক্ষ স্পেনকেই এই ম্যাচে স্পষ্ট ‘ফেভারিট’ বা এগিয়ে রাখছেন।
টুর্নামেন্টের শুরুটা নবাগত কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র দিয়ে হলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দুর্দান্ত ছন্দে ফেরে স্পেন। দেশ্যম বলেন, “কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের কথা ভুলে যান। এরপর থেকেই স্পেন প্রমাণ করেছে যে তারাই টুর্নামেন্টের সেরা দল। স্পেনের আক্রমণভাগ যেমন শক্তিশালী, রক্ষণেও তেমনি দুর্দান্ত। গত ৬-৭ ম্যাচে তারা মাত্র ১টি গোল হজম করেছে। ফলে তারাই ফেভারিট।”
ফরাসি কোচের এমন মন্তব্যের জবাবে স্পেনের কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে হাসিমুখে বলেন, “মানুষ আমাদের ফেভারিট বলুক বা না বলুক, তাতে মাঠের ফলে কোনো পার্থক্য হয় না। এটি দুটি দুর্দান্ত দলের লড়াই এবং চাপ সামলাতে আমার দল পুরোপুরি অভ্যস্ত।”
ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের একটি ‘ক্ল্যাসিক লড়াই’ হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে ফরাসি কোচ দেশ্যম আরও নিশ্চিত করেছেন যে, কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়লেও ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে সেমিফাইনালের জন্য শতভাগ ফিট আছেন। এছাড়া স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালকে রুখতেও ফ্রান্সের নিজস্ব রণকৌশল প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।