বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৪ জুলাই, ২০২৬, 10:01 PM
বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী
পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, জরুরি ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে এবার ভয়াবয় বন্যা দেখা দিলেও, বর্তমানে অনেক এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত ও টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।”
এর আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় স্বাস্থ্য, কৃষি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন, কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতির দ্রুত মূল্যায়ন, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত পুনর্নির্মাণের বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, দেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাতটি জেলা এবং সিলেটসহ মোট আটটি জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা এবারের বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১টি পরিবার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই পাহাড়ধসের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন।
ত্রাণমন্ত্রী জানান, দুর্গত এলাকায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নিয়মিত শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় অতিরিক্ত আরও ২০ লাখ টাকা করে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার ও শুকনা খাবার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দুর্গতদের উদ্ধার ও সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে নিয়োজিত করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে গতি আনতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পর্যাপ্ত স্পিডবোট ও রাবার বোট পাঠানো হয়েছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) মহাসড়ক ও প্রধান সড়কগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করবে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন গ্রামীণ অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করা হবে। এছাড়া গ্রামীণ কাঁচা সড়ক সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় ওএমএস বা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু রাখা হবে।
বন্যা-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে এবং কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতির নিখুঁত মূল্যায়ন করে কৃষকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরের এই বন্যা চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার অংশ হিসেবেই আগামীকাল বুধবার (১৫ জুলাই) থেকে তিনি নিজে বন্যাকবলিত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন শুরু করবেন এবং এদিনই চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৪ জুলাই, ২০২৬, 10:01 PM
পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, জরুরি ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে এবার ভয়াবয় বন্যা দেখা দিলেও, বর্তমানে অনেক এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত ও টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।”
এর আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় স্বাস্থ্য, কৃষি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন, কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতির দ্রুত মূল্যায়ন, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত পুনর্নির্মাণের বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, দেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাতটি জেলা এবং সিলেটসহ মোট আটটি জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা এবারের বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১টি পরিবার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই পাহাড়ধসের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন।
ত্রাণমন্ত্রী জানান, দুর্গত এলাকায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নিয়মিত শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় অতিরিক্ত আরও ২০ লাখ টাকা করে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার ও শুকনা খাবার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দুর্গতদের উদ্ধার ও সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে নিয়োজিত করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে গতি আনতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পর্যাপ্ত স্পিডবোট ও রাবার বোট পাঠানো হয়েছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) মহাসড়ক ও প্রধান সড়কগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করবে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন গ্রামীণ অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করা হবে। এছাড়া গ্রামীণ কাঁচা সড়ক সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় ওএমএস বা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু রাখা হবে।
বন্যা-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে এবং কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতির নিখুঁত মূল্যায়ন করে কৃষকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরের এই বন্যা চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার অংশ হিসেবেই আগামীকাল বুধবার (১৫ জুলাই) থেকে তিনি নিজে বন্যাকবলিত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন শুরু করবেন এবং এদিনই চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন।