আইন পেশার অনেকেই শর্টকাটে অর্থবিত্তের মালিক হতে চায়: অ্যাটর্নি জেনারেল
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৪ জুলাই, ২০২৬, 9:54 PM
আইন পেশার অনেকেই শর্টকাটে অর্থবিত্তের মালিক হতে চায়: অ্যাটর্নি জেনারেল
আইন পেশার অনেকেই এখন জ্ঞান অর্জন না করে ‘শর্টকাট’ রাস্তায় দ্রুত অর্থবিত্তের মালিক হতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে বিদায়ী বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিষ্ঠার সাথে বিচারিক দায়িত্ব পালন শেষে আজ অবসরে গেলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম। তাঁর এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট বার ও বেঞ্চের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বিদায় সংবর্ধনায় অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বিচার অঙ্গনের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের দিকপাল সিনিয়র আইনজীবীরা একে একে আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন। সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, টিএইচ খান ও সর্বশেষ ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের মতো প্রথিতযশা সিনিয়র আইনজীবীরা মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁরা যে মানের আইনজীবী ছিলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেই মানের আইনজীবী হয়ে উঠতে পারিনি। অন্যদিকে, এখনকার তরুণ আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে পড়াশোনা ও মেধা চর্চার বড় অভাব দেখা যাচ্ছে। এ কারণে ভবিষ্যতে আমাদের এই আইন অঙ্গনে একটি বিরাট শূন্যতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এখনই সময় এসেছে, এই শূন্যতা পূরণ করতে আমাদের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।”
আইন পেশায় সততার গুরুত্ব তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “এই পেশায় যদি সততা আর কঠোর অধ্যবসায় না থাকে, তবে কেউ কখনো ভালো আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই পেশার অনেকেই কেমন যেন শর্টকাট রাস্তায় রাতারাতি অর্থবিত্তের মালিক হতে চায়, প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে চায় না। একটি সৎ, যোগ্য এবং মেধাবী আইনজীবী সমাজ গড়ে তোলার জন্য এখনই আমাদের উদ্যোগী হতে হবে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আজকে বার (আইনজীবী সমিতি) এবং বেঞ্চের (বিচারক মণ্ডলী) মধ্যে মেধার যে দৃশ্যমান ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা যদি এখনই জরুরি পদক্ষেপ না নিই, তবে আমাদের বিচার ব্যবস্থার সামনে এক অন্ধকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।”
দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল বিচারিক জীবন শেষে আজ অবসরে যাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে প্রথম নিয়োগ পান। এর ঠিক দুই বছর পর, ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন। দীর্ঘ সময় হাইকোর্ট বিভাগে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনের পর, ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৪ জুলাই, ২০২৬, 9:54 PM
আইন পেশার অনেকেই এখন জ্ঞান অর্জন না করে ‘শর্টকাট’ রাস্তায় দ্রুত অর্থবিত্তের মালিক হতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে বিদায়ী বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিষ্ঠার সাথে বিচারিক দায়িত্ব পালন শেষে আজ অবসরে গেলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম। তাঁর এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট বার ও বেঞ্চের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বিদায় সংবর্ধনায় অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বিচার অঙ্গনের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের দিকপাল সিনিয়র আইনজীবীরা একে একে আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন। সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, টিএইচ খান ও সর্বশেষ ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের মতো প্রথিতযশা সিনিয়র আইনজীবীরা মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁরা যে মানের আইনজীবী ছিলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেই মানের আইনজীবী হয়ে উঠতে পারিনি। অন্যদিকে, এখনকার তরুণ আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে পড়াশোনা ও মেধা চর্চার বড় অভাব দেখা যাচ্ছে। এ কারণে ভবিষ্যতে আমাদের এই আইন অঙ্গনে একটি বিরাট শূন্যতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এখনই সময় এসেছে, এই শূন্যতা পূরণ করতে আমাদের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।”
আইন পেশায় সততার গুরুত্ব তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “এই পেশায় যদি সততা আর কঠোর অধ্যবসায় না থাকে, তবে কেউ কখনো ভালো আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই পেশার অনেকেই কেমন যেন শর্টকাট রাস্তায় রাতারাতি অর্থবিত্তের মালিক হতে চায়, প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে চায় না। একটি সৎ, যোগ্য এবং মেধাবী আইনজীবী সমাজ গড়ে তোলার জন্য এখনই আমাদের উদ্যোগী হতে হবে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আজকে বার (আইনজীবী সমিতি) এবং বেঞ্চের (বিচারক মণ্ডলী) মধ্যে মেধার যে দৃশ্যমান ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা যদি এখনই জরুরি পদক্ষেপ না নিই, তবে আমাদের বিচার ব্যবস্থার সামনে এক অন্ধকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।”
দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল বিচারিক জীবন শেষে আজ অবসরে যাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে প্রথম নিয়োগ পান। এর ঠিক দুই বছর পর, ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন। দীর্ঘ সময় হাইকোর্ট বিভাগে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনের পর, ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।