সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসন পেতে চায় বিএনপি, ছাড় দিতে নারাজ জামায়াত
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 4:19 PM
সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসন পেতে চায় বিএনপি, ছাড় দিতে নারাজ জামায়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনে এখন জোড়ে সোড়ে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। সিরাজগঞ্জের ৬ আসনেই জয়ী হতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। তবে সব কটি আসনেই নিজেদের শক্ত অবস্থান নিয়ে মাঠে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সিরাজগঞ্জের ৪ টি আসনে জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বাকী ২ টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে।
সরেজমিন সংসদীয় আসন গুলো ঘুরে জানাযায়, সিরাজগঞ্জ-৩ ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের নতুন প্রার্থী ঘোষণা দেওয়ায় আসন দুটিতে বিএনপির জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা । আর বাকি চারটি আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও সিরাজগঞ্জ-৪ ও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে জামায়াত জয়ী হবে বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ। অবশ্য এ আসন দুটিতে জামায়াতের বেশ আধিপত্য রয়েছে। এর সঙ্গে তারা আরও দুই একটি আসন যোগ করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন।
সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর ও সদরের একাংশ) :
আসনটি বরাবরই ছিল আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য। কিন্তু চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছে বিএনপি-জামায়াত। এ আসনে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে শফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬,২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন শহীদ এম মনসুর আলীর ছোট ছেলে মোহাম্মদ নাসিম জয়ী হয়। তবে ১৯৯৬ সালে মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জ-১ কাজিপুর ও সদর-২ আসন থেকে নির্বাচিত হলে পরে সিরাজগঞ্জ -১ কাজিপুর আসনটি ছেড়ে দিলে সেখানে উপ-নির্বাচনে তার বড় ভাই মোহাম্মদ সেলিম এবং ২০০৮, ২০২০ সালের উপ-নির্বাচন ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে মোহাম্মদ নাসিমপুত্র প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জয় লাভ করেন। আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এ আসনে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ আসনে এবার মোট ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলেও মূল আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী সেলিম রেজা ও জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা শাহীনুর আলম। আসনটিতে মোট তিন লাখ ৮৫ হাজার ২৪ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪৪ জন আর পুরুষ ভোটার রয়েছে ১লাখ ৮৯ হাজার ৬৭৬জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৪ জন। তবে এ আসনে নারী ভোটার ও আওয়ামী সমর্থিত ভোটাররা একটি বড় ফ্যাক্ট হয়ে কাজ করবে বলে অনেকেই মনে করছেন।
সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ) :
এটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন। এ আসন বরাবরই বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত। তাই এ আসনে এগিয়ে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি ১৯৮৬ ও ২০০১ সালে এ আসন থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী ২০০৮ সালে আইনি জটিলতায় তিনি নির্বাচন করতে পারেননি। পরে তার সহধর্মিণী বর্তমান জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের একতরফা নির্বাচনে ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না ও সর্বশেষ ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের জান্নাত আরা হেনরী সংসদ সদস্য হন। এরআগে ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে মির্জা মুরাদুজ্জামান ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ নাসিম জয়ী হয়। এ আসনটিতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৮ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৬ জন আর পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৪ জন।
কিন্তু গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বদলে গেছে ভোটের মাঠের সমীকরণ। নয়া সমীকরণে আলোচিত হচ্ছে দীর্ঘদিনের জোট সঙ্গী বিএনপি-জামায়াতের দুই প্রার্থী। উভয় দল নিজ নিজ ভোট ব্যাংকের বাইরে সাধারণ ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে। সেই হিসেবে দলের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজও ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। ফলে বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভোটের মাঠে বিপুল ভাোটে জয়ী হবেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দলটির কেন্দ্রীয় আমীর শফিকুর রহমান গত সপ্তাহে বিপুল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে একটি জনসভাও করেছেন।
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ ও তাড়াশ):
এটি বিএনপির আসন হিসেবেই পরিচিত। বিএনপি থেকে মনোনীত হয়ে ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ, জুন ১৯৯৬ সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত আব্দুল মান্নান তালুকদার। তবে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে পরাজিত হন তিনি। প্রয়াত এই নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন।
আসনটিতে মোট ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৭ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৬৮৩ জন আর পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৭ জন।
এ আসনে বিএনপির প্রায় দেড় ডজন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও দল জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি আয়নুল হককে মনোনীত করেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সামাদকে মনোনয়ন দিলেও ১০ দলীয় জোটের নতুন প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহা: আব্দুর রউফ সরকারকে চূড়ান্ত করা হয়। ফলে বিএনপির বিজয় শুধু আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা বলে দাবি স্থানীয়দের। কারণ হিসেবে তারা বলছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাঠে থাকলে দ্বিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ১০ দলীয় জোটের এক অচেনা নতুন প্রার্থী চূড়ান্ত করায় বিএনপি জয়ী হতে আর কোন বাধা নেই।
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া):
এ আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের দবির উদ্দিন আহমেদ, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ প্রয়াত আব্দুল লতিফ মির্জা, ২০০৮ ও ২০২৪ সালে শফিকুল ইসলাম শফিক, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে প্রয়াত এইচ টি ইমামের ছেলে তানভীর ইমাম আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। এছাড়া ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আব্দুল হামিদ তালুকদার, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে এম. আকবর আলী ও ১৯৯৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে শামছুল আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন৷ তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জেলার একমাত্র এ আসনে ভোটের মাঠে বিএনপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি নির্বাচনী মাঠেও বেশ সক্রিয়। আসনটিতে এবার জামায়াত চমক দেখাবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। অপরদিকে বিএনপির দুইবারের সংসদ সদস্য ও উল্লাপাড়ার আধুনিক রুপকার হিসেবে পরিচিত এম. আকবর আলীও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এ কারনে এআসনে বিএনপি জামায়াতের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আসনটিতে মোট ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮২১ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ১২৫ জন আর পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১৬ জন।
সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) :
তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ ও যমুনা ভাঙ্গন কবলিত আসন এটি। ১৯৮৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আসনটিতে ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি প্রার্থী তিনবার, জাতীয় পার্টি দুইবার ও আওয়ামী লীগ পাঁচবার নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মফিজ উদ্দিন তালুকদার, ১৯৮৮ সালে একই দল থেকে শহিদুল ইসলাম খান, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে শহিদুল্লাহ খান এবং ২০০১ সালে এম মোজাম্মেল হক বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন। অপরদিকে ১৯৯৬ সালের জুন ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, ২০১৪ সালে আব্দুল মজিদ মন্ডল, পরবর্তী ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তার ছেলে আব্দুল মমিন মন্ডল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। যদিও ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত চৌহালী ও বেলকুচি উপজেলা পৃথক আসন ছিল। পরবর্তী ২০০৮ সালের নির্বাচনে বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলাকে একত্রিত করে সিরাজগঞ্জ-৫ আসন হিসেবে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
বিএনপির হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম। কিন্তু তার শক্ত প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামী। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ আলী আলম। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বেলকুচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা তিনিই জয়ী হতে পারেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, আলী আলম সৎ ও নিষ্ঠাবান ভালো মানুষ। প্রত্যেকটা পাড়া মহল্লায় মানুষের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ন সদস্য সচিব মাহিন সরকার ও সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের তার হয়েই কাজ করছেন।
এ আসনটিতে মোট তিন ৪ লাখ ২৬ হাজার ৩২১ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৬৫৫ জন আর পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ২ জন
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসন:
১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে আসনটি গঠিত। আওয়ামী লীগের একতরফা নির্বাচন বাদ দিলে এ আসনটি বরাবরই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসনটিতে ১৯৮৬ সালে নুরুল ইসলাম তালুকদার জাতীয় পার্টি, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনছার আলী সিদ্দিকী বিএনপি, ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের শাহজাহান, ২০০১ সালে বিএনপির মঞ্জুর কাদের, ২০০৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের চয়ন ইসলাম, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের হাসিবুর রহমান স্বপন ও ২০২১ এর উপ-নির্বাচনে মেরিনা জাহান কবিতা আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আসনটিতে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩৮৭ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৭২ জন আর পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪১২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৩ জন।
এ আসনে এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয় পার্টি এরশাদ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এম এ মতিনের ছেলে ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ডা. এম এ মুহিত। তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মী ও ভোটারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তার বিপরীতে শক্ত কোন প্রার্থী না থাকায় ভোটের মাঠে তিনি একক রাজত্ব করছেন। ফলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মাওলানা মিজানুর রহমানকে সরিয়ে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ। একারনে এ আসনে বিএনপির বিপরীতে শক্ত কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডা. এম এ মুহিত। তার বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ। সবমিলে সিরাজগঞ্জের সংসদীয় ছয়টি আসনকে ঘিরেই চলছে নানা হিসেব-নিকেশ ও সমীকরণ। ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা ছিনিয়ে আনবে কোন প্রার্থী সেটা দেখার অপেক্ষায় সাধারণ জনগণ।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 4:19 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনে এখন জোড়ে সোড়ে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। সিরাজগঞ্জের ৬ আসনেই জয়ী হতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। তবে সব কটি আসনেই নিজেদের শক্ত অবস্থান নিয়ে মাঠে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সিরাজগঞ্জের ৪ টি আসনে জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বাকী ২ টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে।
সরেজমিন সংসদীয় আসন গুলো ঘুরে জানাযায়, সিরাজগঞ্জ-৩ ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের নতুন প্রার্থী ঘোষণা দেওয়ায় আসন দুটিতে বিএনপির জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা । আর বাকি চারটি আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও সিরাজগঞ্জ-৪ ও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে জামায়াত জয়ী হবে বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ। অবশ্য এ আসন দুটিতে জামায়াতের বেশ আধিপত্য রয়েছে। এর সঙ্গে তারা আরও দুই একটি আসন যোগ করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন।
সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর ও সদরের একাংশ) :
আসনটি বরাবরই ছিল আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য। কিন্তু চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছে বিএনপি-জামায়াত। এ আসনে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে শফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬,২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন শহীদ এম মনসুর আলীর ছোট ছেলে মোহাম্মদ নাসিম জয়ী হয়। তবে ১৯৯৬ সালে মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জ-১ কাজিপুর ও সদর-২ আসন থেকে নির্বাচিত হলে পরে সিরাজগঞ্জ -১ কাজিপুর আসনটি ছেড়ে দিলে সেখানে উপ-নির্বাচনে তার বড় ভাই মোহাম্মদ সেলিম এবং ২০০৮, ২০২০ সালের উপ-নির্বাচন ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে মোহাম্মদ নাসিমপুত্র প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জয় লাভ করেন। আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এ আসনে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ আসনে এবার মোট ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলেও মূল আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী সেলিম রেজা ও জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা শাহীনুর আলম। আসনটিতে মোট তিন লাখ ৮৫ হাজার ২৪ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪৪ জন আর পুরুষ ভোটার রয়েছে ১লাখ ৮৯ হাজার ৬৭৬জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৪ জন। তবে এ আসনে নারী ভোটার ও আওয়ামী সমর্থিত ভোটাররা একটি বড় ফ্যাক্ট হয়ে কাজ করবে বলে অনেকেই মনে করছেন।
সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ) :
এটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন। এ আসন বরাবরই বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত। তাই এ আসনে এগিয়ে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি ১৯৮৬ ও ২০০১ সালে এ আসন থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী ২০০৮ সালে আইনি জটিলতায় তিনি নির্বাচন করতে পারেননি। পরে তার সহধর্মিণী বর্তমান জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের একতরফা নির্বাচনে ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না ও সর্বশেষ ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের জান্নাত আরা হেনরী সংসদ সদস্য হন। এরআগে ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে মির্জা মুরাদুজ্জামান ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ নাসিম জয়ী হয়। এ আসনটিতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৮ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৬ জন আর পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৪ জন।
কিন্তু গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বদলে গেছে ভোটের মাঠের সমীকরণ। নয়া সমীকরণে আলোচিত হচ্ছে দীর্ঘদিনের জোট সঙ্গী বিএনপি-জামায়াতের দুই প্রার্থী। উভয় দল নিজ নিজ ভোট ব্যাংকের বাইরে সাধারণ ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে। সেই হিসেবে দলের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজও ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। ফলে বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভোটের মাঠে বিপুল ভাোটে জয়ী হবেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দলটির কেন্দ্রীয় আমীর শফিকুর রহমান গত সপ্তাহে বিপুল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে একটি জনসভাও করেছেন।
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ ও তাড়াশ):
এটি বিএনপির আসন হিসেবেই পরিচিত। বিএনপি থেকে মনোনীত হয়ে ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ, জুন ১৯৯৬ সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত আব্দুল মান্নান তালুকদার। তবে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে পরাজিত হন তিনি। প্রয়াত এই নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন।
আসনটিতে মোট ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৭ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৬৮৩ জন আর পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৭ জন।
এ আসনে বিএনপির প্রায় দেড় ডজন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও দল জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি আয়নুল হককে মনোনীত করেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সামাদকে মনোনয়ন দিলেও ১০ দলীয় জোটের নতুন প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহা: আব্দুর রউফ সরকারকে চূড়ান্ত করা হয়। ফলে বিএনপির বিজয় শুধু আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা বলে দাবি স্থানীয়দের। কারণ হিসেবে তারা বলছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাঠে থাকলে দ্বিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ১০ দলীয় জোটের এক অচেনা নতুন প্রার্থী চূড়ান্ত করায় বিএনপি জয়ী হতে আর কোন বাধা নেই।
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া):
এ আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের দবির উদ্দিন আহমেদ, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ প্রয়াত আব্দুল লতিফ মির্জা, ২০০৮ ও ২০২৪ সালে শফিকুল ইসলাম শফিক, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে প্রয়াত এইচ টি ইমামের ছেলে তানভীর ইমাম আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। এছাড়া ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আব্দুল হামিদ তালুকদার, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে এম. আকবর আলী ও ১৯৯৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে শামছুল আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন৷ তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জেলার একমাত্র এ আসনে ভোটের মাঠে বিএনপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি নির্বাচনী মাঠেও বেশ সক্রিয়। আসনটিতে এবার জামায়াত চমক দেখাবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। অপরদিকে বিএনপির দুইবারের সংসদ সদস্য ও উল্লাপাড়ার আধুনিক রুপকার হিসেবে পরিচিত এম. আকবর আলীও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এ কারনে এআসনে বিএনপি জামায়াতের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আসনটিতে মোট ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮২১ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ১২৫ জন আর পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১৬ জন।
সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) :
তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ ও যমুনা ভাঙ্গন কবলিত আসন এটি। ১৯৮৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আসনটিতে ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি প্রার্থী তিনবার, জাতীয় পার্টি দুইবার ও আওয়ামী লীগ পাঁচবার নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মফিজ উদ্দিন তালুকদার, ১৯৮৮ সালে একই দল থেকে শহিদুল ইসলাম খান, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে শহিদুল্লাহ খান এবং ২০০১ সালে এম মোজাম্মেল হক বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন। অপরদিকে ১৯৯৬ সালের জুন ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, ২০১৪ সালে আব্দুল মজিদ মন্ডল, পরবর্তী ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তার ছেলে আব্দুল মমিন মন্ডল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। যদিও ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত চৌহালী ও বেলকুচি উপজেলা পৃথক আসন ছিল। পরবর্তী ২০০৮ সালের নির্বাচনে বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলাকে একত্রিত করে সিরাজগঞ্জ-৫ আসন হিসেবে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
বিএনপির হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম। কিন্তু তার শক্ত প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামী। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ আলী আলম। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বেলকুচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা তিনিই জয়ী হতে পারেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, আলী আলম সৎ ও নিষ্ঠাবান ভালো মানুষ। প্রত্যেকটা পাড়া মহল্লায় মানুষের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ন সদস্য সচিব মাহিন সরকার ও সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের তার হয়েই কাজ করছেন।
এ আসনটিতে মোট তিন ৪ লাখ ২৬ হাজার ৩২১ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৬৫৫ জন আর পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ২ জন
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসন:
১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে আসনটি গঠিত। আওয়ামী লীগের একতরফা নির্বাচন বাদ দিলে এ আসনটি বরাবরই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসনটিতে ১৯৮৬ সালে নুরুল ইসলাম তালুকদার জাতীয় পার্টি, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনছার আলী সিদ্দিকী বিএনপি, ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের শাহজাহান, ২০০১ সালে বিএনপির মঞ্জুর কাদের, ২০০৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের চয়ন ইসলাম, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের হাসিবুর রহমান স্বপন ও ২০২১ এর উপ-নির্বাচনে মেরিনা জাহান কবিতা আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আসনটিতে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩৮৭ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৭২ জন আর পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪১২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৩ জন।
এ আসনে এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয় পার্টি এরশাদ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এম এ মতিনের ছেলে ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ডা. এম এ মুহিত। তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মী ও ভোটারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তার বিপরীতে শক্ত কোন প্রার্থী না থাকায় ভোটের মাঠে তিনি একক রাজত্ব করছেন। ফলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মাওলানা মিজানুর রহমানকে সরিয়ে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ। একারনে এ আসনে বিএনপির বিপরীতে শক্ত কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডা. এম এ মুহিত। তার বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ। সবমিলে সিরাজগঞ্জের সংসদীয় ছয়টি আসনকে ঘিরেই চলছে নানা হিসেব-নিকেশ ও সমীকরণ। ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা ছিনিয়ে আনবে কোন প্রার্থী সেটা দেখার অপেক্ষায় সাধারণ জনগণ।