ঢাকা ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
শিরোনামঃ
আবারো পেছালো চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর আপিলঃ চুড়ান্ত শুনানি ৫মে নির্ধারণ নাসিরনগরে ৩৫ হাজার মানুষের কান্না: ‘মুক্তি বাড়ি’ সড়ক এখন জনপদের মরণফাঁদ ! বড়লেখায় ডাকাতের গুলিতে ডাকাত সদস্য নিহত বেলকুচি পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন ফরিদপুরে মা-মেয়েসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা: প্রধান আসামি আকাশ গ্রেপ্তার গাজীপুরে টঙ্গীতে হাজী বস্তিতে অভিযান, মাদক সেবনরত ৩০ জন আটক কোম্পানীগঞ্জে বজ্রপাতে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া অসচ্ছল মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে স্যার ফজলে হাসান আবেদের ৯০তম জন্মদিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন

তীব্র তাপদাহের পর, বৃষ্টিতে প্রশান্তির ছোঁয়া

#
news image

গ্রীষ্মের খরতাপে টানা কয়েক দিনের তীব্র তাপদাহে হাঁপিয়ে উঠেছিল জনজীবন। তীব্র তাপদাহের পর অবশেষেনেত্রকোনার প্রকৃতি জুড়ে নেমে এলো স্বস্তির বৃষ্টি।

নেত্রকোনা সদরসহ বিভএলাকায় রবিবার বিকেলে হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টি ও ঠান্ডা হাওয়ার স্পর্শে তাপদগ্ধ জনজীবনে নেমে আসে স্বস্তি। অথচ বৃষ্টি নামার আগে রবিবার দুপুরেও তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৭-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠানামা করছিল। বিকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির সাথে শীতল হাওয়া চলে সারা রাত জুড়ে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় ভারি বৃষ্টি। বৃষ্টির পরশে যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার মানুষজন। স্বস্তির বৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষদের মুখে ফুটেছে হাসি। কাজের ফাঁকে কেউ কেউ বৃষ্টিতে গা ভিজিয়ে নিচ্ছেন আবার কেউ বাড়ির ছাদে উঠে বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে মেখে উপভোগ করেছেন বৃষ্টি ভেজা প্রকৃতির পরশ।

গতকাল বিকাল থেকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিকালে আচমকা বৃষ্টিতে বিভিন্ন দোকানের ছাউনিতে আশ্রয় নিয়েছে অনেক পথচারী। শিশু, কিশোর, মধ্য বয়সী, যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণীকে আবার প্রতীক্ষিত বৃষ্টিতে ভিজতেও দেখা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ, ভিডিও আপলোড, সেলফিসহ বৃষ্টির বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে প্রকাশ করেছেন স্বস্তির অনুভূতি। এছাড়াও সরা রাত থেমে থেমে বৃষ্টি ও সকালের ভারি বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার মাঠ-ঘাট ও নিচু রাস্তায় পানি জমছে।

জেলা সদরের সাতপাই এলকার কলেজ পড়ুয়া রাকিব, রকি, নাঈম, মোক্তারপাড়া এলাকার ঝন্টু, রাজন নামের কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ‘বেলা ৪টার দিকে আচমকা আকাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে বাতাস শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় বৃষ্টি। তখন অনেক মানুষ বৃষ্টির ছোঁয়া পেতে ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে আসে। আমরাও এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে রাস্তায় চলে এসেছি।’

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের মনি, পপি, নূপুর ও মহিলা কলেজের জান্নাতুল, নিঝুম এবং চন্দ্রনাথ কলেজের ববি, চম্পাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তারা বলেন, বিকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। অনেক দিন গরমে হাঁসফাঁস পরিস্থিতি পর হঠাৎ বৃষ্টিতে যে অনুভূতি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বাড়ির ছাদে কিছুক্ষণ ভিজেছি। আরও ভিজতে ইচ্ছে করছিল। তবে বজ্রপাতের ভয়ে ঘরে ঢুকে গেছি। পরে আর বের হতে সাহস পাইনি।

বারহাট্টা উপজেলা সদরের মৌজ আলী নামে এক রিকশাচালকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এই কয়েক দিন অনেক গরম পড়ছিল। রিকশা চালানো ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। আজ বৃষ্টি হলো। বৃষ্টিতে ভিজেই রিকশা চালাচ্ছি, শরীরটাকে একটু ঠান্ডা করে নিচ্ছি। আজকের অনুভূতিটা অন্যরকম। যদি বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে গরম কমবে। আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষ শান্তি পাবে।‘

জেলা সদরের নাগড়া এলাকার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষিকা রোকেয়া বেগম বলেন, অনেকদিন অপেক্ষার পর আজ একটু শান্তি পেলাম। তীব্র গরমে যেন দম বন্ধ হয়ে আসছিল। আজকের বৃষ্টি যেন প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছে। বৃষ্টি প্রতিটা ফোঁটায় জন জীবনে স্বস্তির নিশ্বাস হয়ে এসেছে।

ঝর্ণা আক্তার নামে আরেক শিক্ষিকা বলেন, কয়েক দিনের তীব্র গরমে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিল। এবার বৃষ্টিতে পরিবেশ ঠান্ডা হওয়ায় খুবই ভালো লাগছে। বাচ্চারাও খুব আনন্দ করছে। সত্যিই এ বৃষ্টিটা স্বস্তির ও প্রশান্তির।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এই অবস্থায় আগামী ৪-৫ দিন বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

১২ মে, ২০২৫,  4:07 PM

news image

গ্রীষ্মের খরতাপে টানা কয়েক দিনের তীব্র তাপদাহে হাঁপিয়ে উঠেছিল জনজীবন। তীব্র তাপদাহের পর অবশেষেনেত্রকোনার প্রকৃতি জুড়ে নেমে এলো স্বস্তির বৃষ্টি।

নেত্রকোনা সদরসহ বিভএলাকায় রবিবার বিকেলে হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টি ও ঠান্ডা হাওয়ার স্পর্শে তাপদগ্ধ জনজীবনে নেমে আসে স্বস্তি। অথচ বৃষ্টি নামার আগে রবিবার দুপুরেও তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৭-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠানামা করছিল। বিকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির সাথে শীতল হাওয়া চলে সারা রাত জুড়ে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় ভারি বৃষ্টি। বৃষ্টির পরশে যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার মানুষজন। স্বস্তির বৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষদের মুখে ফুটেছে হাসি। কাজের ফাঁকে কেউ কেউ বৃষ্টিতে গা ভিজিয়ে নিচ্ছেন আবার কেউ বাড়ির ছাদে উঠে বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে মেখে উপভোগ করেছেন বৃষ্টি ভেজা প্রকৃতির পরশ।

গতকাল বিকাল থেকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিকালে আচমকা বৃষ্টিতে বিভিন্ন দোকানের ছাউনিতে আশ্রয় নিয়েছে অনেক পথচারী। শিশু, কিশোর, মধ্য বয়সী, যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণীকে আবার প্রতীক্ষিত বৃষ্টিতে ভিজতেও দেখা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ, ভিডিও আপলোড, সেলফিসহ বৃষ্টির বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে প্রকাশ করেছেন স্বস্তির অনুভূতি। এছাড়াও সরা রাত থেমে থেমে বৃষ্টি ও সকালের ভারি বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার মাঠ-ঘাট ও নিচু রাস্তায় পানি জমছে।

জেলা সদরের সাতপাই এলকার কলেজ পড়ুয়া রাকিব, রকি, নাঈম, মোক্তারপাড়া এলাকার ঝন্টু, রাজন নামের কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ‘বেলা ৪টার দিকে আচমকা আকাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে বাতাস শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় বৃষ্টি। তখন অনেক মানুষ বৃষ্টির ছোঁয়া পেতে ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে আসে। আমরাও এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে রাস্তায় চলে এসেছি।’

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের মনি, পপি, নূপুর ও মহিলা কলেজের জান্নাতুল, নিঝুম এবং চন্দ্রনাথ কলেজের ববি, চম্পাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তারা বলেন, বিকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। অনেক দিন গরমে হাঁসফাঁস পরিস্থিতি পর হঠাৎ বৃষ্টিতে যে অনুভূতি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বাড়ির ছাদে কিছুক্ষণ ভিজেছি। আরও ভিজতে ইচ্ছে করছিল। তবে বজ্রপাতের ভয়ে ঘরে ঢুকে গেছি। পরে আর বের হতে সাহস পাইনি।

বারহাট্টা উপজেলা সদরের মৌজ আলী নামে এক রিকশাচালকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এই কয়েক দিন অনেক গরম পড়ছিল। রিকশা চালানো ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। আজ বৃষ্টি হলো। বৃষ্টিতে ভিজেই রিকশা চালাচ্ছি, শরীরটাকে একটু ঠান্ডা করে নিচ্ছি। আজকের অনুভূতিটা অন্যরকম। যদি বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে গরম কমবে। আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষ শান্তি পাবে।‘

জেলা সদরের নাগড়া এলাকার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষিকা রোকেয়া বেগম বলেন, অনেকদিন অপেক্ষার পর আজ একটু শান্তি পেলাম। তীব্র গরমে যেন দম বন্ধ হয়ে আসছিল। আজকের বৃষ্টি যেন প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছে। বৃষ্টি প্রতিটা ফোঁটায় জন জীবনে স্বস্তির নিশ্বাস হয়ে এসেছে।

ঝর্ণা আক্তার নামে আরেক শিক্ষিকা বলেন, কয়েক দিনের তীব্র গরমে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিল। এবার বৃষ্টিতে পরিবেশ ঠান্ডা হওয়ায় খুবই ভালো লাগছে। বাচ্চারাও খুব আনন্দ করছে। সত্যিই এ বৃষ্টিটা স্বস্তির ও প্রশান্তির।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এই অবস্থায় আগামী ৪-৫ দিন বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।