ঢাকা ২১ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
ইতিহাসের বৃহত্তম ফুটবল উৎসবের সমাপনী: স্পেনের সামনে আর্জেন্টিনা, প্রস্তুত নিউ ইয়র্ক ইরানি হামলায় জ্বলছে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্র ব্যবসায় আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বিসিসিসিআইয়ের সেমিনার: গুরুত্ব পেল এআই ও ব্লকচেইন চট্টগ্রামে বন্যায় ১৫ উপজেলা লণ্ডভণ্ড: ৭ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ঘরবাড়ি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি গাজীপুরে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শতভাগ ফিট ইয়ামাল, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের আগে স্বস্তিতে স্পেন দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার পার, ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু শাল্লায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতা তাফাজ্জুল গ্রেপ্তার কনেবাহী গাড়ি খাদে ,উৎসবের রাতেই বিষাদের ছায়া, নিহত ২ চরভদ্রাসনে হিউম্যান অ্যাপেল অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে ৫০০ বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা আনসার বাহিনীকে আরও দক্ষ-গতিশীল করে তুলবে:প্রধানমন্ত্রী

#
news image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বাহিনীটি বিশেষ অবদান রাখবে।
বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ ও ব্যুত্থান মহড়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে বাহিনীর কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তৃণমূল পর্যায়ের সদস্যদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। মহান মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে আনসার সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন। তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাত্তোর অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রাম ও নগর পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ভিডিপি ও আনসার বাহিনীকে কার্যকর বাহিনীতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সময় ১৯৯৫ সালে আনসার-ভিডিপি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাহিনীটি স্বতন্ত্র সুশৃঙ্খল বাহিনীর মর্যাদা পায়। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবাতেও বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় অবদান রাখছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাহিনীর ৪৭টি আনসার ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি দপ্তর, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমেও ভিডিপি প্লাটুনগুলোর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ‘সঞ্জীবন প্রকল্প, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে জামানতবিহীন ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান। তিনি আরও বলেন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, জাপানি ভাষা শিক্ষা ও সিক্স-জি ওয়েল্ডিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ‘এফ জবস’ নামে আনসার-ভিডিপির জব পোর্টাল চালুর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনে বাহিনীর সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গেমসে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদক অর্জন করে। বর্তমানে দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বাহিনীর আধুনিকায়নে বিভিন্ন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা-২০২৬, ভিডিপি বিধিমালা-২০২৬ এবং সদস্য নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা। উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে উপজেলা আনসার প্রবিধিমালাও প্রণয়ন করা হচ্ছে।
বক্তব্যের শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আনসার ও ভিডিপি বাহিনী ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর, মানবিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

গাজীপুর প্রতিনিধি :

২০ মে, ২০২৬,  11:59 PM

news image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বাহিনীটি বিশেষ অবদান রাখবে।
বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ ও ব্যুত্থান মহড়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে বাহিনীর কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তৃণমূল পর্যায়ের সদস্যদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। মহান মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে আনসার সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন। তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাত্তোর অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রাম ও নগর পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ভিডিপি ও আনসার বাহিনীকে কার্যকর বাহিনীতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সময় ১৯৯৫ সালে আনসার-ভিডিপি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাহিনীটি স্বতন্ত্র সুশৃঙ্খল বাহিনীর মর্যাদা পায়। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবাতেও বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় অবদান রাখছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাহিনীর ৪৭টি আনসার ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি দপ্তর, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমেও ভিডিপি প্লাটুনগুলোর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ‘সঞ্জীবন প্রকল্প, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে জামানতবিহীন ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান। তিনি আরও বলেন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, জাপানি ভাষা শিক্ষা ও সিক্স-জি ওয়েল্ডিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ‘এফ জবস’ নামে আনসার-ভিডিপির জব পোর্টাল চালুর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনে বাহিনীর সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গেমসে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদক অর্জন করে। বর্তমানে দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বাহিনীর আধুনিকায়নে বিভিন্ন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা-২০২৬, ভিডিপি বিধিমালা-২০২৬ এবং সদস্য নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা। উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে উপজেলা আনসার প্রবিধিমালাও প্রণয়ন করা হচ্ছে।
বক্তব্যের শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আনসার ও ভিডিপি বাহিনী ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর, মানবিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।