আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৮ জুলাই, ২০২৬, 8:26 PM
আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী মাসের (আগস্ট) মাঝামাঝিতে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী ডেবিট কার্ড’ চালুর বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কার্ড সম্পর্কিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা দিতেই সরকার এই কার্ড চালু করছে। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ডের সফল বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার প্রবাসীদের জন্য এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন কিছু সেবা ও সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
দেশে-বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সেবা, বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ডিসকাউন্ট, দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডে এয়ারপোর্ট ‘পিক অ্যান্ড ড্রপ’ সুবিধা। সরকারি হাসপাতালে বিশেষ ‘প্রবাসী সেবা বুথ’ ও বেসরকারি হাসপাতালে ডিসকাউন্ট সুবিধা এবং কোনো কার্ডধারীর মৃত্যু হলে সম্পূর্ণ বিনা খরচে দেশে লাশ পরিবহন। প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসনের সুযোগ, বিশেষ বিমা সুবিধা, রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা। জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, লাইসেন্স গ্রহণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগে বিশেষ অগ্রাধিকার। এছাড়া এনআইডি, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা এবং ব্যাংক ও সরকারের অন্যান্য সব সেবা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন কার্ডধারীরা।
শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝিতে এই কার্ডের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন হবে। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘জনতা ব্যাংক’-এর মাধ্যমে এই প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৫০ হাজার এবং ২০defl৭ সালের জুন মাসের মধ্যে মোট ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্যায়ে ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক’-এর মাধ্যমে প্রবাসী কার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম ও স্থায়ী ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করা হবে।
বৈঠকে দেশের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন authority বা কর্তৃপক্ষকে আরও সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা সব বাংলাদেশি প্রবাসী যাতে পর্যায়ক্রমে এই প্রবাসী কার্ডের সুবিধার আওতায় আসতে পারেন, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৮ জুলাই, ২০২৬, 8:26 PM
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী মাসের (আগস্ট) মাঝামাঝিতে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী ডেবিট কার্ড’ চালুর বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কার্ড সম্পর্কিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা দিতেই সরকার এই কার্ড চালু করছে। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ডের সফল বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার প্রবাসীদের জন্য এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন কিছু সেবা ও সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
দেশে-বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সেবা, বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ডিসকাউন্ট, দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডে এয়ারপোর্ট ‘পিক অ্যান্ড ড্রপ’ সুবিধা। সরকারি হাসপাতালে বিশেষ ‘প্রবাসী সেবা বুথ’ ও বেসরকারি হাসপাতালে ডিসকাউন্ট সুবিধা এবং কোনো কার্ডধারীর মৃত্যু হলে সম্পূর্ণ বিনা খরচে দেশে লাশ পরিবহন। প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসনের সুযোগ, বিশেষ বিমা সুবিধা, রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা। জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, লাইসেন্স গ্রহণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগে বিশেষ অগ্রাধিকার। এছাড়া এনআইডি, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা এবং ব্যাংক ও সরকারের অন্যান্য সব সেবা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন কার্ডধারীরা।
শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝিতে এই কার্ডের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন হবে। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘জনতা ব্যাংক’-এর মাধ্যমে এই প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৫০ হাজার এবং ২০defl৭ সালের জুন মাসের মধ্যে মোট ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্যায়ে ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক’-এর মাধ্যমে প্রবাসী কার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম ও স্থায়ী ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করা হবে।
বৈঠকে দেশের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন authority বা কর্তৃপক্ষকে আরও সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা সব বাংলাদেশি প্রবাসী যাতে পর্যায়ক্রমে এই প্রবাসী কার্ডের সুবিধার আওতায় আসতে পারেন, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।