ঢাকা ২২ মে, ২০২৬
শিরোনামঃ
বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী একটা সুন্দর স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দিতে চাই : সিইসি ঈদুল আযহায় বায়তুল মোকাররমে ৫টি জামাত শিক্ষার্থীদের স্বদেশ প্রেম চর্চার পাশাপাশি ইতিহাস জানা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী বিমান বাহিনী একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি ফিলিস্তিন বিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ আলবানিজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র ১০০ কোটি ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়

রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতেই জুলাই সনদ : আলী রীয়াজ

#
news image

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, লাগামহীন ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেবার লক্ষ্যেই প্রণীত হয়েছে জুলাই সনদ। তাই এ সনদের পরিবর্তনের বার্তা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী আছেন, তারা যদি পাঁচজন মানুষকে পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ-তে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন তাহলে ৬ লাখ মানুষের রায় আসবে। এছাড়া ১ লাখের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন তারা আরও ৫ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন। 

আজ সোমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এ সভার আয়োজন করে।
 
তিনি বলেন, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচার যাতে আর জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে, কোন ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কবলে মানুষ যাতে আর নিপীড়িত না হয় সেজন্য জুলাই সনদের কথাগুলো মানুষকে জানাতে হবে। ৫৪ বছরে অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে সুযোগ এসেছে হেলায় তা হারাতে দেয়া যাবে না।

আলী রীয়াজ বলেন, স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত সরকারই ৪২ শতাংশের অধিক ভোট পায়নি। সংস্কার প্রস্তাব অনুসারে, সংবিধানের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতে ১০০টি আসন থাকবে। অর্থাৎ যে দল মোট ভোটের মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে কিন্তু সরকার গঠন করতে পারেনি, তারও পাঁচজন প্রতিনিধিত্ব থাকবে সংসদের উচ্চকক্ষে। আর সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগবে (কমপক্ষে ৫১ ভোটের সমর্থন)। এর মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থে সংবিধান পরিবর্তনের ছেলেখেলা বন্ধ হবে।

রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সব হতো। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ বলা হয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়, বিচার ব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগ এসব রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকার প্রধানের ইচ্ছা অনুসারেই হতো। এর মানে বিদ্যমান সংবিধানেই স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ খোলা রয়েছে।

তিনি  বলেন, সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু এতোদিন সেই জনগণকেই বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি যেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এক ব্যক্তির ইচ্ছার কাছে বন্দী না হয়ে পড়ে।

‘হ্যাঁ’-এর প্রতীক সম্পর্কে ড. রীয়াজ বলেন, গোলাপি ব্যালটটি ‘টিক চিহ্ন’ই হ্যাঁ এর প্রতীক। আর রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হলে হ্যাঁকে জয়যুক্ত করতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন,  বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর খাদেমুল ইসলাম মোল্লা ও নর্থ-বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ছায়েদুর রহমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  9:39 PM

news image

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, লাগামহীন ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেবার লক্ষ্যেই প্রণীত হয়েছে জুলাই সনদ। তাই এ সনদের পরিবর্তনের বার্তা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী আছেন, তারা যদি পাঁচজন মানুষকে পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ-তে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন তাহলে ৬ লাখ মানুষের রায় আসবে। এছাড়া ১ লাখের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন তারা আরও ৫ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন। 

আজ সোমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এ সভার আয়োজন করে।
 
তিনি বলেন, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচার যাতে আর জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে, কোন ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কবলে মানুষ যাতে আর নিপীড়িত না হয় সেজন্য জুলাই সনদের কথাগুলো মানুষকে জানাতে হবে। ৫৪ বছরে অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে সুযোগ এসেছে হেলায় তা হারাতে দেয়া যাবে না।

আলী রীয়াজ বলেন, স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত সরকারই ৪২ শতাংশের অধিক ভোট পায়নি। সংস্কার প্রস্তাব অনুসারে, সংবিধানের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতে ১০০টি আসন থাকবে। অর্থাৎ যে দল মোট ভোটের মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে কিন্তু সরকার গঠন করতে পারেনি, তারও পাঁচজন প্রতিনিধিত্ব থাকবে সংসদের উচ্চকক্ষে। আর সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগবে (কমপক্ষে ৫১ ভোটের সমর্থন)। এর মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থে সংবিধান পরিবর্তনের ছেলেখেলা বন্ধ হবে।

রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সব হতো। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ বলা হয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়, বিচার ব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগ এসব রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকার প্রধানের ইচ্ছা অনুসারেই হতো। এর মানে বিদ্যমান সংবিধানেই স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ খোলা রয়েছে।

তিনি  বলেন, সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু এতোদিন সেই জনগণকেই বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি যেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এক ব্যক্তির ইচ্ছার কাছে বন্দী না হয়ে পড়ে।

‘হ্যাঁ’-এর প্রতীক সম্পর্কে ড. রীয়াজ বলেন, গোলাপি ব্যালটটি ‘টিক চিহ্ন’ই হ্যাঁ এর প্রতীক। আর রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হলে হ্যাঁকে জয়যুক্ত করতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন,  বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর খাদেমুল ইসলাম মোল্লা ও নর্থ-বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ছায়েদুর রহমান।