‘জুলাই ব্যর্থ হলে দেশে শেখরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হতো’: এবি পার্টির সভায় বক্তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৭ জুলাই, ২০২৬, 11:30 PM
‘জুলাই ব্যর্থ হলে দেশে শেখরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হতো’: এবি পার্টির সভায় বক্তারা
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শেখতন্ত্র’ বা ‘শেখরাজ্য’ প্রতিষ্ঠা করা হতো বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি বহু সাংবাদিককে গুম, কারাবন্দি ও নির্যাতনের শিকার হতে হতো।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এবি পার্টি আয়োজিত “জুলাই গণঅভ্যুত্থান: গণমাধ্যম কর্মীদের দায়িত্ব, ত্যাগ ও দুঃসাহসিক স্মৃতি” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছয়জন সাংবাদিককে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।
মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে আলেম-ওলামাদের আন্দোলন দমনের পর যেভাবে দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি ও দৈনিক আমার দেশ বন্ধ করা হয়েছিল, তা দেশবাসী ভোলেনি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও তাদের সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে জাতি এখনো অন্ধকারে। এছাড়া বর্তমানে গণমাধ্যম রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, শহীদ আবু সাঈদের ছবিসহ আন্দোলনের নানা চিত্র ধারণ করে সাংবাদিকরাই গণঅভ্যুত্থানকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। তবে করপোরেট মিডিয়া ও সাংবাদিকতাকে এক করে দেখা ঠিক নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরও রাষ্ট্র এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি। মোবাইল সাংবাদিকদের সংগৃহীত ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণ বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দৈনিক আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ বলেন, মাঠে কর্মরত ফটোসাংবাদিক ও মোবাইল জার্নালিস্টরাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য ফুটিয়ে তুলেছেন, যেখানে অনেক সিনিয়র সাংবাদিক তথ্য গোপন করেছিলেন। তিনি শহীদ সাংবাদিকদের হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, মোবাইল জার্নালিজমের স্বীকৃতির দাবি তাঁদের দলই প্রথম উত্থাপন করেছে। তিনি সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা ও ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মূলধারার সাংবাদিকদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন জুলাই গণহত্যায় নিহত ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের বিচার পৃথক ট্রাইব্যুনালে করার দাবি জানান। এছাড়া সভায় দ্য ডিসেন্টের সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির, রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাজীব আহাম্মদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বক্তব্য প্রদান করেন। সমাপনী বক্তব্যে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেশনাল ডা. ওহাব মিনার মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৭ জুলাই, ২০২৬, 11:30 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শেখতন্ত্র’ বা ‘শেখরাজ্য’ প্রতিষ্ঠা করা হতো বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি বহু সাংবাদিককে গুম, কারাবন্দি ও নির্যাতনের শিকার হতে হতো।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এবি পার্টি আয়োজিত “জুলাই গণঅভ্যুত্থান: গণমাধ্যম কর্মীদের দায়িত্ব, ত্যাগ ও দুঃসাহসিক স্মৃতি” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছয়জন সাংবাদিককে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।
মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে আলেম-ওলামাদের আন্দোলন দমনের পর যেভাবে দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি ও দৈনিক আমার দেশ বন্ধ করা হয়েছিল, তা দেশবাসী ভোলেনি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও তাদের সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে জাতি এখনো অন্ধকারে। এছাড়া বর্তমানে গণমাধ্যম রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, শহীদ আবু সাঈদের ছবিসহ আন্দোলনের নানা চিত্র ধারণ করে সাংবাদিকরাই গণঅভ্যুত্থানকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। তবে করপোরেট মিডিয়া ও সাংবাদিকতাকে এক করে দেখা ঠিক নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরও রাষ্ট্র এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি। মোবাইল সাংবাদিকদের সংগৃহীত ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণ বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দৈনিক আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ বলেন, মাঠে কর্মরত ফটোসাংবাদিক ও মোবাইল জার্নালিস্টরাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য ফুটিয়ে তুলেছেন, যেখানে অনেক সিনিয়র সাংবাদিক তথ্য গোপন করেছিলেন। তিনি শহীদ সাংবাদিকদের হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, মোবাইল জার্নালিজমের স্বীকৃতির দাবি তাঁদের দলই প্রথম উত্থাপন করেছে। তিনি সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা ও ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মূলধারার সাংবাদিকদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন জুলাই গণহত্যায় নিহত ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের বিচার পৃথক ট্রাইব্যুনালে করার দাবি জানান। এছাড়া সভায় দ্য ডিসেন্টের সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির, রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাজীব আহাম্মদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বক্তব্য প্রদান করেন। সমাপনী বক্তব্যে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেশনাল ডা. ওহাব মিনার মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।