ঢাকা ২৮ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
স্বাধীন গণমাধ্যমের নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী ‘গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজকে আয়নার মতো সঠিক পথ দেখায়’: তথ্যমন্ত্রী ‘জুলাই ব্যর্থ হলে দেশে শেখরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হতো’: এবি পার্টির সভায় বক্তারা টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট সামাজিক সেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের অঙ্গীকার বার্নহ্যামের আগস্টে ঢাকায় শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘রিহ্যাব সামার ফেয়ার-২০২৬’ ১৫ টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজের দ্বিতীয় শিফট শিক্ষার্থীশূন্য, কারণ দর্শানোর নির্দেশ রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা চীন যাচ্ছে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার আজমিরীগঞ্জে নদীভাঙন রোধে ৩২০ কোটি টাকার প্রকল্প পরিদর্শন করলেন এমপি

শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে : প্রধানমন্ত্রী

#
news image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে যোগ্য করে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি উন্নত, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আজ সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপস্থিত শিশু-কিশোর ও প্রতিযোগী খেলোয়াড়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছি। তবে এই প্রচেষ্টা তখনই পূর্ণাঙ্গ সফলতা পাবে, যখন তোমরা—যারা আজ গ্যালারিতে বসে আছ এবং যারা মাঠে পুরস্কৃত হয়েছ—নিজেদের আগামী দিনের উপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। এখন তোমাদের অধ্যবসায়ের সময়, তাই মন দিয়ে পড়ার পাশাপাশি মন খুলে খেলাধুলাও করতে হবে।”

তিনি আরও যুক্ত করেন, “ছোট্ট বন্ধুরা, নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলো। গোটা বাংলাদেশ আজ তোমাদের সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা নিজেদের প্রস্তুত করতে পারলে আমরা একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নপূরণ করতে পারব। এই যাত্রার সূচনা আমরা হয়তো করেছি, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার মূল দায়িত্ব তোমাদেরই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”

দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই প্যান্ডেল ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশুর মধ্য থেকেই আগামী দিনের সফল চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে, যারা বিশ্বমঞ্চে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাই তোমরা দৃঢ় মনোবল নিয়ে আত্মগঠনে মনোযোগ দাও।”

সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের কাছে বিশেষ সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, “এই দেশটা আমাদের সবার। দেশের আলো, বাতাস ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় যদি দেখো কেউ যত্রতত্র ময়লা বা প্লাস্টিকের বোতল ফেলছে—সেটি পুকুর, নদীনালা কিংবা বাসার আশপাশেই হোক—তাঁদের বারণ করবে। প্রয়োজনে নিজেরা সেই ময়লা তুলে নিয়ে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলবে।” বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে খাল-বিল ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও প্রাণিসম্পদের প্রতি মমত্ববোধ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবছর নিজ বাড়ির আঙিনায়, বিদ্যালয়ের আশপাশে কিংবা সুবিধাজনক স্থানে অন্তত একটি করে গাছ লাগাবে। গাছ লাগালে পরিবেশ সুন্দর ও নির্মল হবে, আমরা বুক ভরে বিশুদ্ধ শ্বাস নিতে পারব। পাশাপাশি প্রকৃতির অবলা জীব—কুকুর, বিড়াল, হাঁস-মুরগি বা পশু-পাখির প্রতি দয়াশীল হতে হবে। তাদের যত্ন না নিতে পারলেও কেউ যেন তাদের বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

শিক্ষার মান ও অবকাঠামো উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সরকার শিক্ষার পরিবেশ আধুনিকায়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। আমাদের শিশুরা যে ক্ষেত্রে নিজেদের মেধা বিকাশ করতে চায়—তা পড়ালেখা, খেলাধুলা, সংগীত কিংবা চিত্রশিল্প যাই হোক না কেন—সরকার থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণমাধ্যমে সাধারণত নানামুখী রাজনৈতিক ও সামাজিক খবর লিড নিউজ হিসেবে প্রাধান্য পেয়ে থাকে। কিন্তু শিশুরাই আমাদের দেশের প্রকৃত ভবিষ্যৎ। তাই আগামীকালকের সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় শিশুদের এই বিপুল আয়োজন ও সাফল্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রচার বা 'লিড নিউজ' করার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানাচ্ছি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক :

২৭ জুলাই, ২০২৬,  9:06 PM

news image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে যোগ্য করে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি উন্নত, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আজ সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপস্থিত শিশু-কিশোর ও প্রতিযোগী খেলোয়াড়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছি। তবে এই প্রচেষ্টা তখনই পূর্ণাঙ্গ সফলতা পাবে, যখন তোমরা—যারা আজ গ্যালারিতে বসে আছ এবং যারা মাঠে পুরস্কৃত হয়েছ—নিজেদের আগামী দিনের উপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। এখন তোমাদের অধ্যবসায়ের সময়, তাই মন দিয়ে পড়ার পাশাপাশি মন খুলে খেলাধুলাও করতে হবে।”

তিনি আরও যুক্ত করেন, “ছোট্ট বন্ধুরা, নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলো। গোটা বাংলাদেশ আজ তোমাদের সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা নিজেদের প্রস্তুত করতে পারলে আমরা একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নপূরণ করতে পারব। এই যাত্রার সূচনা আমরা হয়তো করেছি, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার মূল দায়িত্ব তোমাদেরই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”

দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই প্যান্ডেল ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশুর মধ্য থেকেই আগামী দিনের সফল চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে, যারা বিশ্বমঞ্চে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাই তোমরা দৃঢ় মনোবল নিয়ে আত্মগঠনে মনোযোগ দাও।”

সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের কাছে বিশেষ সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, “এই দেশটা আমাদের সবার। দেশের আলো, বাতাস ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় যদি দেখো কেউ যত্রতত্র ময়লা বা প্লাস্টিকের বোতল ফেলছে—সেটি পুকুর, নদীনালা কিংবা বাসার আশপাশেই হোক—তাঁদের বারণ করবে। প্রয়োজনে নিজেরা সেই ময়লা তুলে নিয়ে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলবে।” বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে খাল-বিল ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও প্রাণিসম্পদের প্রতি মমত্ববোধ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবছর নিজ বাড়ির আঙিনায়, বিদ্যালয়ের আশপাশে কিংবা সুবিধাজনক স্থানে অন্তত একটি করে গাছ লাগাবে। গাছ লাগালে পরিবেশ সুন্দর ও নির্মল হবে, আমরা বুক ভরে বিশুদ্ধ শ্বাস নিতে পারব। পাশাপাশি প্রকৃতির অবলা জীব—কুকুর, বিড়াল, হাঁস-মুরগি বা পশু-পাখির প্রতি দয়াশীল হতে হবে। তাদের যত্ন না নিতে পারলেও কেউ যেন তাদের বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

শিক্ষার মান ও অবকাঠামো উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সরকার শিক্ষার পরিবেশ আধুনিকায়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। আমাদের শিশুরা যে ক্ষেত্রে নিজেদের মেধা বিকাশ করতে চায়—তা পড়ালেখা, খেলাধুলা, সংগীত কিংবা চিত্রশিল্প যাই হোক না কেন—সরকার থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণমাধ্যমে সাধারণত নানামুখী রাজনৈতিক ও সামাজিক খবর লিড নিউজ হিসেবে প্রাধান্য পেয়ে থাকে। কিন্তু শিশুরাই আমাদের দেশের প্রকৃত ভবিষ্যৎ। তাই আগামীকালকের সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় শিশুদের এই বিপুল আয়োজন ও সাফল্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রচার বা 'লিড নিউজ' করার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানাচ্ছি।”