টঙ্গীতে ঝুট দখলে কারখানার সামনে অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া
মোঃ নজরুল ইসলাম, গাছা (গাজীপুর) :
২৯ জুন, ২০২৬, 8:43 PM
টঙ্গীতে ঝুট দখলে কারখানার সামনে অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া
গাজীপুরের টঙ্গীতে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে একটি কারখানার প্রধান ফটকে অস্ত্রসহ শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় কারখানার ভেতরে থাকা বিদেশি ক্রেতারা (বায়ার) দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকেন এবং পুরো শিল্পাঞ্চল জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মহড়ায় অংশ নেওয়া কয়েকজন দুর্বৃত্ত কারখানায় প্রবেশ করে নিজেদের ‘সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের লোক’ পরিচয় দিয়ে ঝুট দাবি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত রবিবার (২৮ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীর পাগার এলাকায় অবস্থিত ‘ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড’ কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ শতাধিক মোটরসাইকেলে চড়ে বিপুল সংখ্যক বহিরাগত যুবক ওই কারখানার সামনে জড়ো হয়ে মহড়া শুরু করে। এতে শ্রমিক-কর্মচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। মহড়ায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি কারখানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের বাধা দেন। পরে ৮ থেকে ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জোরপূর্বক বৈঠকে বসে। বৈঠকে তারা হুমকি দিয়ে বলে, তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া কারখানার ঝুট অন্য কাউকে দেওয়া যাবে না। এ সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের লোক বলে দাবি করেন।
কারখানাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, “ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ক্রেতারা (বায়ার) অবস্থান করছিলেন। এমন আকস্মিক ও উশৃঙ্খল ঘটনায় তারা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘ সময় ভেতরে অবরুদ্ধ থাকেন। এতে কারখানার ব্যবসায়িক ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণ্ণ হয়েছে।”
ওই কারখানার বর্তমান ঝুট ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই দীর্ঘদিন ধরে ঝুটের ব্যবসা পরিচালনা করছি। এখানে নতুন করে অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। কিন্তু হঠাৎ করে কারখানার প্রধান ফটকে শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে অস্ত্রসহ লোকজন এসে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং জোরপূর্বক ঝুট দাবি করে গেছে।”
এদিকে মোটরসাইকেল মহড়ায় থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক জানান, ৪৩ ও ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতারা ওই কারখানায় গিয়েছিলেন। মূলত ‘প্রশাসকের সালাম’ জানাতে এবং ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তারা সেখানে যান এবং কথা বলে চলে আসেন।
স্থানীয় সচেতন মহল জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে কারখানাটির ঝুট ব্যবসা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম নিয়ন্ত্রণ করতেন। পটপরিবর্তনের পর কারখানাটি কিছুদিন বন্ধ থাকলেও পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পুনরায় চালু হয়। বর্তমানে এই ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপির দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিসিকের ব্যবসায়ীরা।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদি হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ওই কারখানায় মোটরসাইকেল মহড়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিসিক এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং বিষয়টি আমাদের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।”
মোঃ নজরুল ইসলাম, গাছা (গাজীপুর) :
২৯ জুন, ২০২৬, 8:43 PM
গাজীপুরের টঙ্গীতে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে একটি কারখানার প্রধান ফটকে অস্ত্রসহ শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় কারখানার ভেতরে থাকা বিদেশি ক্রেতারা (বায়ার) দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকেন এবং পুরো শিল্পাঞ্চল জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মহড়ায় অংশ নেওয়া কয়েকজন দুর্বৃত্ত কারখানায় প্রবেশ করে নিজেদের ‘সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের লোক’ পরিচয় দিয়ে ঝুট দাবি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত রবিবার (২৮ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীর পাগার এলাকায় অবস্থিত ‘ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড’ কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ শতাধিক মোটরসাইকেলে চড়ে বিপুল সংখ্যক বহিরাগত যুবক ওই কারখানার সামনে জড়ো হয়ে মহড়া শুরু করে। এতে শ্রমিক-কর্মচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। মহড়ায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি কারখানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের বাধা দেন। পরে ৮ থেকে ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জোরপূর্বক বৈঠকে বসে। বৈঠকে তারা হুমকি দিয়ে বলে, তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া কারখানার ঝুট অন্য কাউকে দেওয়া যাবে না। এ সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের লোক বলে দাবি করেন।
কারখানাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, “ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ক্রেতারা (বায়ার) অবস্থান করছিলেন। এমন আকস্মিক ও উশৃঙ্খল ঘটনায় তারা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘ সময় ভেতরে অবরুদ্ধ থাকেন। এতে কারখানার ব্যবসায়িক ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণ্ণ হয়েছে।”
ওই কারখানার বর্তমান ঝুট ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই দীর্ঘদিন ধরে ঝুটের ব্যবসা পরিচালনা করছি। এখানে নতুন করে অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। কিন্তু হঠাৎ করে কারখানার প্রধান ফটকে শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে অস্ত্রসহ লোকজন এসে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং জোরপূর্বক ঝুট দাবি করে গেছে।”
এদিকে মোটরসাইকেল মহড়ায় থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক জানান, ৪৩ ও ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতারা ওই কারখানায় গিয়েছিলেন। মূলত ‘প্রশাসকের সালাম’ জানাতে এবং ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তারা সেখানে যান এবং কথা বলে চলে আসেন।
স্থানীয় সচেতন মহল জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে কারখানাটির ঝুট ব্যবসা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম নিয়ন্ত্রণ করতেন। পটপরিবর্তনের পর কারখানাটি কিছুদিন বন্ধ থাকলেও পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পুনরায় চালু হয়। বর্তমানে এই ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপির দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিসিকের ব্যবসায়ীরা।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদি হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ওই কারখানায় মোটরসাইকেল মহড়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিসিক এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং বিষয়টি আমাদের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।”