গাজীপুরে পুলিশকে হুমকির ঘটনার রেশ: গাছা থানার ওসি ওয়াহিদুজ্জামানকে শাস্তিমূলক প্রত্যাহার !
গাছা (গাজীপুর) প্রতিনিধি :
২৭ জুন, ২০২৬, 8:07 PM
গাজীপুরে পুলিশকে হুমকির ঘটনার রেশ: গাছা থানার ওসি ওয়াহিদুজ্জামানকে শাস্তিমূলক প্রত্যাহার !
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের প্রকাশ্য প্রাণনাশের হুমকি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতার দায়ে অবশেষে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার স্বাক্ষরিত এক জরুরি আদেশে তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের ওপর যুবলীগ কর্মীর হুমকির ঘটনায় ওসির রহস্যজনক নীরবতা এবং তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নিতে গড়িমসির কারণেই তাকে এই শাস্তিমূলক বদলির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। ওসির এই আকস্মিক প্রত্যাহারের পর পুরো গাছা এলাকায় অপরাধ সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গাছা থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলম্বিয়া ও মালেকের বাড়ি এলাকায় যুবলীগের নেতা-কর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলটি মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ব্যানার হাতে থাকা এক যুবলীগ কর্মী প্রকাশ্যেই চিৎকার করে বলেন, “একটাও সামনে আবি না, একদম মাইরা ফেলামু!”
পুলিশকে দেওয়া এই চরম উসকানিমূলক ও প্রাণনাশের হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। কিন্তু ঘটনার দিন গাছা থানার ওসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যান এবং গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে ওসির এমন রহস্যজনক ও নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে খোদ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাছা থানার ওসির তীব্র সমালোচনা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ ওসির বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। এর ঠিক দুদিনের মাথায় জিএমপি সদর দপ্তর থেকে ওসির প্রত্যাহারের আদেশ জারি হওয়ায় প্রমাণিত হয় যে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওসির দায়িত্বহীনতাকে মোটেও সহজভাবে নেয়নি।
যদিও বদলির বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, এটি পুলিশের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্র নিশ্চিত করেছে, কর্তব্যরত পুলিশকে হুমকি দেওয়ার পরও ওসির ঢিলেঢালা ভাবমূর্তি ও কঠোর অবস্থান নিতে না পারার খেসারত হিসেবেই তাকে থানা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ওসির আকস্মিক অপসারণের পর গাছা থানা এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করতে নতুন কর্মকর্তা পদায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জিএমপি প্রশাসন।
গাছা (গাজীপুর) প্রতিনিধি :
২৭ জুন, ২০২৬, 8:07 PM
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের প্রকাশ্য প্রাণনাশের হুমকি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতার দায়ে অবশেষে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার স্বাক্ষরিত এক জরুরি আদেশে তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের ওপর যুবলীগ কর্মীর হুমকির ঘটনায় ওসির রহস্যজনক নীরবতা এবং তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নিতে গড়িমসির কারণেই তাকে এই শাস্তিমূলক বদলির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। ওসির এই আকস্মিক প্রত্যাহারের পর পুরো গাছা এলাকায় অপরাধ সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গাছা থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলম্বিয়া ও মালেকের বাড়ি এলাকায় যুবলীগের নেতা-কর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলটি মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ব্যানার হাতে থাকা এক যুবলীগ কর্মী প্রকাশ্যেই চিৎকার করে বলেন, “একটাও সামনে আবি না, একদম মাইরা ফেলামু!”
পুলিশকে দেওয়া এই চরম উসকানিমূলক ও প্রাণনাশের হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। কিন্তু ঘটনার দিন গাছা থানার ওসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যান এবং গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে ওসির এমন রহস্যজনক ও নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে খোদ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাছা থানার ওসির তীব্র সমালোচনা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ ওসির বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। এর ঠিক দুদিনের মাথায় জিএমপি সদর দপ্তর থেকে ওসির প্রত্যাহারের আদেশ জারি হওয়ায় প্রমাণিত হয় যে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওসির দায়িত্বহীনতাকে মোটেও সহজভাবে নেয়নি।
যদিও বদলির বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, এটি পুলিশের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্র নিশ্চিত করেছে, কর্তব্যরত পুলিশকে হুমকি দেওয়ার পরও ওসির ঢিলেঢালা ভাবমূর্তি ও কঠোর অবস্থান নিতে না পারার খেসারত হিসেবেই তাকে থানা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ওসির আকস্মিক অপসারণের পর গাছা থানা এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করতে নতুন কর্মকর্তা পদায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জিএমপি প্রশাসন।