জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বাজেট অনুমোদন
মোঃ ইকবাল হোসাইন :
২৭ জুন, ২০২৬, 8:25 PM
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বাজেট অনুমোদন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন, যুগোপযোগী কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিনেট চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আযম উপস্থাপন করেন। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার প্রস্তাবিত মূল বাজেট এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য ৬৬৪ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন করা হয়।
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা এবং ঘাটতি বাজেট ধরা হয়েছে ১৮৩ কোটি ৯০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয় ৬২৫ কোটি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং ঘাটতি ৩৯ কোটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিনেট অধিবেশনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের ‘অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম’ চালুর মাধ্যমে ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি ও আইসিটি কোর্স বাধ্যতামূলক করাসহ সিলেবাস সংস্কার এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করতে ‘মাল্টি ল্যাংগুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউট’ (এমএলএলআই)-এর মাধ্যমে মানদারিন, জাপানিজ, কোরিয়ান, অ্যারাবিক, ইটালিয়ান, স্প্যানিশ ও ফ্রেঞ্চ ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে ২ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার প্রসারে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করা হচ্ছে বলেও উপাচার্য উল্লেখ করেন।
উপাচার্য ড. আমানুল্লাহ তাঁর অভিভাষণে বলেন, "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব কেবল ডিগ্রি প্রদান নয়; বরং পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তোলা। আমরা এমন এক প্রজন্ম তৈরি করতে চাই যারা চাকরি প্রার্থী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এবং পরিবর্তনের নেতৃত্বদানকারী হবে।"
অধিবেশনের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অধিবেশনে সিনেট সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, ওয়ারেস আলী মামুন, আবুল হোসেন খান ও জি এম সিরাজ, অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ ৭০ জন সিনেট সদস্য, সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অধিবেশনে অংশ নেন। সিনেট সদস্যগণ উপাচার্যের অভিভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বর্তমান প্রশাসনের সকল ইতিবাচক উদ্যোগ বাস্তবায়নে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
মোঃ ইকবাল হোসাইন :
২৭ জুন, ২০২৬, 8:25 PM
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন, যুগোপযোগী কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিনেট চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আযম উপস্থাপন করেন। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার প্রস্তাবিত মূল বাজেট এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য ৬৬৪ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন করা হয়।
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা এবং ঘাটতি বাজেট ধরা হয়েছে ১৮৩ কোটি ৯০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয় ৬২৫ কোটি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং ঘাটতি ৩৯ কোটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিনেট অধিবেশনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের ‘অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম’ চালুর মাধ্যমে ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি ও আইসিটি কোর্স বাধ্যতামূলক করাসহ সিলেবাস সংস্কার এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করতে ‘মাল্টি ল্যাংগুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউট’ (এমএলএলআই)-এর মাধ্যমে মানদারিন, জাপানিজ, কোরিয়ান, অ্যারাবিক, ইটালিয়ান, স্প্যানিশ ও ফ্রেঞ্চ ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে ২ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার প্রসারে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করা হচ্ছে বলেও উপাচার্য উল্লেখ করেন।
উপাচার্য ড. আমানুল্লাহ তাঁর অভিভাষণে বলেন, "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব কেবল ডিগ্রি প্রদান নয়; বরং পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তোলা। আমরা এমন এক প্রজন্ম তৈরি করতে চাই যারা চাকরি প্রার্থী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এবং পরিবর্তনের নেতৃত্বদানকারী হবে।"
অধিবেশনের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অধিবেশনে সিনেট সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, ওয়ারেস আলী মামুন, আবুল হোসেন খান ও জি এম সিরাজ, অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ ৭০ জন সিনেট সদস্য, সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অধিবেশনে অংশ নেন। সিনেট সদস্যগণ উপাচার্যের অভিভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বর্তমান প্রশাসনের সকল ইতিবাচক উদ্যোগ বাস্তবায়নে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।