ঢাকা ২৪ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
ইতিহাসের বৃহত্তম ফুটবল উৎসবের সমাপনী: স্পেনের সামনে আর্জেন্টিনা, প্রস্তুত নিউ ইয়র্ক ইরানি হামলায় জ্বলছে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্র ব্যবসায় আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বিসিসিসিআইয়ের সেমিনার: গুরুত্ব পেল এআই ও ব্লকচেইন চট্টগ্রামে বন্যায় ১৫ উপজেলা লণ্ডভণ্ড: ৭ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ঘরবাড়ি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি গাজীপুরে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শতভাগ ফিট ইয়ামাল, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের আগে স্বস্তিতে স্পেন দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার পার, ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু শাল্লায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতা তাফাজ্জুল গ্রেপ্তার কনেবাহী গাড়ি খাদে ,উৎসবের রাতেই বিষাদের ছায়া, নিহত ২ চরভদ্রাসনে হিউম্যান অ্যাপেল অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে ৫০০ বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

বদরগঞ্জে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা: ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ৩

#
news image

রংপুরের বদরগঞ্জে ভ্যানচালক আরিফুল ইসলাম (২৮) হত্যা মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। নিহত আরিফুলের বাবা রেজাউল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার রাতে বদরগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।
 
পুলিশ জানায়, মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ফিরোজ ওরফে ‘মার্ডার ফিরোজ’কে। ঘটনার রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামি জামাল বাদশা (২৪), সোহাগ বাবু (১৯) ও সোহেল রানাকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়।
 
এলাকাবাসীর দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে সক্রিয় দুটি কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর আগে গত বছর একই ধরনের বিরোধে প্রকাশ্যে কুপিয়ে লাভলু (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে পৌর শহরের বালুয়াভাটা এলাকার আম্বিয়ার মোড়ে আরিফুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি পৌর শহরের পাঠানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
 
বদরগঞ্জ থানা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বদরগঞ্জ পৌর শহরের শহীদ মিনার এলাকায় একটি ঢেউটিনের দোকান ভাড়া দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে টিন ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে দোকানঘরের মালিক ইশতিয়াক বাবুর দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জেরে টিন ব্যবসায়ী জাহিদুলের পক্ষ নেন কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মানিক, তাঁর ছেলে তানভির আহম্মেদ তমাল ও বদরগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সরওয়ার জাহান মানিক। আর দোকানঘরের মালিকের পক্ষ নেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী সরকার এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিক। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বছরের ৫ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে পৌর শহরে মহড়া চলে। একপর্যায়ে পৌর শহরের শহীদ মিনার এলাকায় কুপিয়ে লাভলুকে হত্যা করা হয়।
 
ওই ঘটনায় শফিকুল ইসলামসহ আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হন। নিহত ও আহত ব্যক্তিরা মোহাম্মদ আলী সরকারের অনুসারী বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ওই বছরের ৭ এপ্রিল লাভলুর ছেলে রায়হান কবির বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় কালুপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মানিক, তাঁর ছেলে তানভির আহম্মেদ তমাল, বদরগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সরওয়ার জাহান মানিকসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এদিকে শফিকুলসহ অন্যরা আহত হওয়ার ঘটনায় মনিরুজ্জামান নামের এক যুবক ১০৯ জনকে আসামি করে বদরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই ঘটনায় আহত কাঁচাবাড়ি গ্রামের শফিকুল ইসলামও তিন মাস ২০ দিন পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রংপুর আদালতে আগের মামলাগুলোর হাজিরা ছিল। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বদরগঞ্জে ফিরে আবারও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় আরিফুল ইসলামকে প্রতিপক্ষ ভেবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
 
নিহত আরিফুলের বাবা রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ছিল না। শুধু একই এলাকায় বাড়ি হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’
 
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ঘটনার রাতেই মামলা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত আরিফুল কোনো গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন না। ভুল-বোঝাবুঝির শিকার হয়ে তিনি নিহত হয়েছেন।

সবুজ আহম্মেদ, বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি :

০৬ মে, ২০২৬,  9:23 PM

news image

রংপুরের বদরগঞ্জে ভ্যানচালক আরিফুল ইসলাম (২৮) হত্যা মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। নিহত আরিফুলের বাবা রেজাউল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার রাতে বদরগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।
 
পুলিশ জানায়, মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ফিরোজ ওরফে ‘মার্ডার ফিরোজ’কে। ঘটনার রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামি জামাল বাদশা (২৪), সোহাগ বাবু (১৯) ও সোহেল রানাকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়।
 
এলাকাবাসীর দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে সক্রিয় দুটি কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর আগে গত বছর একই ধরনের বিরোধে প্রকাশ্যে কুপিয়ে লাভলু (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে পৌর শহরের বালুয়াভাটা এলাকার আম্বিয়ার মোড়ে আরিফুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি পৌর শহরের পাঠানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
 
বদরগঞ্জ থানা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বদরগঞ্জ পৌর শহরের শহীদ মিনার এলাকায় একটি ঢেউটিনের দোকান ভাড়া দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে টিন ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে দোকানঘরের মালিক ইশতিয়াক বাবুর দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জেরে টিন ব্যবসায়ী জাহিদুলের পক্ষ নেন কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মানিক, তাঁর ছেলে তানভির আহম্মেদ তমাল ও বদরগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সরওয়ার জাহান মানিক। আর দোকানঘরের মালিকের পক্ষ নেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী সরকার এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিক। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বছরের ৫ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে পৌর শহরে মহড়া চলে। একপর্যায়ে পৌর শহরের শহীদ মিনার এলাকায় কুপিয়ে লাভলুকে হত্যা করা হয়।
 
ওই ঘটনায় শফিকুল ইসলামসহ আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হন। নিহত ও আহত ব্যক্তিরা মোহাম্মদ আলী সরকারের অনুসারী বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ওই বছরের ৭ এপ্রিল লাভলুর ছেলে রায়হান কবির বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় কালুপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মানিক, তাঁর ছেলে তানভির আহম্মেদ তমাল, বদরগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সরওয়ার জাহান মানিকসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এদিকে শফিকুলসহ অন্যরা আহত হওয়ার ঘটনায় মনিরুজ্জামান নামের এক যুবক ১০৯ জনকে আসামি করে বদরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই ঘটনায় আহত কাঁচাবাড়ি গ্রামের শফিকুল ইসলামও তিন মাস ২০ দিন পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রংপুর আদালতে আগের মামলাগুলোর হাজিরা ছিল। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বদরগঞ্জে ফিরে আবারও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় আরিফুল ইসলামকে প্রতিপক্ষ ভেবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
 
নিহত আরিফুলের বাবা রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ছিল না। শুধু একই এলাকায় বাড়ি হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’
 
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ঘটনার রাতেই মামলা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত আরিফুল কোনো গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন না। ভুল-বোঝাবুঝির শিকার হয়ে তিনি নিহত হয়েছেন।