বারহাট্টায় ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাচ্চা প্রসব, অদৃশ্য কারণে নিরব পুলিশ
রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, 2:30 PM
বারহাট্টায় ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাচ্চা প্রসব, অদৃশ্য কারণে নিরব পুলিশ
নেত্রকোনার বারহাট্টায় ধর্ষণের শিকার ১৪ বছরের প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাচ্চা প্রসব। তার বাড়ি উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর লামাপাড়া গ্রামে। মামলার করার তিন মাস পরও কোন এক অদৃশ্য কারণে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি ধর্ষকে। সুবিচারের দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার গত ৩ সেপ্টেম্বর বারহাট্টা থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর পুলিশ ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে চন্দ্রপুর লামাপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী পারুল আক্তার (৪৫) কে আটক করে। কিন্তু অভিযোগের ৩ মাস চলে গেলেও ধর্ষণের ঘটনার মূল অভিযুক্ত কিবরিয়া (২৪) কে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে ধর্ষক গ্রেফতার না হওয়ায় অসহায় গরীব পরিবারটি ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী মেয়ে ও নবজাতক শিশুটিকে নিয়ে পথে পথে ঘুরছে।
ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, ধর্ষক কিবরিয়া সিংধা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিমের আত্মীয় হওয়ায় উল্টো ভুক্তভোগীদের উপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, থানা পুলিশকে মূল অভিযুক্ত ধর্ষককে আটকের কথা বললে তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে ধর্ষককের সন্ধান দিতে বলে। তারা আরও জানান, আমরা গরীব মানুষ ধর্ষক কোথায় আছে এই তথ্য আমরা পুলিশকে কিভাবে দিব।
এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য গণমাধ্যমের পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের বারহাট্টা শাখার কেন্দ্র ব্যবস্থাপক সুরজিত কুমার ভোমিক। তিনি বলেন, এই নারকীয় ধর্ষণের দায় রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে। আমার জানা মতে উপজেলা জুড়ে একরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে কিন্তু বেশিরভাগ পরিবারই লোকলজ্জার ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতে আগ্রহী না। এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং আমাদের নারী প্রগতি সংঘে পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার মূল অভিযুক্ত ২নং আসামি কিবরিয়া প্রতিবেশী পারুল আক্তারের বাড়িতে আগেই অবস্থান করছিল। ঘটনার সময় পারুল আক্তার ভুক্তভোগীকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সে ঘরের বাহিরের সিটকিনি লাগিয়ে চলে যায়। তখন সুযোগ পেয়ে খালি ঘরে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত কিবরিয়া। বিষয়টি প্রথমে ভয়ে পরিবারকে জানায়নি ভুক্তভোগী। তবে পরিবর্তীতে ভুক্তভোগী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় বিষয়টি জানাজানি হয়। কিবরিয়া প্রথমে বিয়ের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে সবকিছু অস্বীকার করে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ঘটনার বিবরণে জানান, আমরা গরীব মানুষ ত্রিপলের ঘরে বসবাস করি। আমার স্বামী ভাড়ায় অন্যের অটোরিকশা চালিয়ে খুব কষ্ট করে সংসার চালায়। আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে কিবরিয়া (২৪) ধর্ষণ করে সর্বনাশ করেছে। ধর্ষণের মাসখানেক।পর থেকে মেয়ে কিছু খায় না, বমি বমি ভাব। পরে তাকে অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর অবশেষে সে তার মায়ের সাথে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে। পরবর্তীতে মামলা করলেও কোনা এক অদৃশ্য কারণে এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। গত সাত দিন আগে আমার মেয়ের একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেছে। আমি এখন আমার মেয়েকে ও দুধের শিশুটিকে নিয়ে কোথায় যাবো? অল্প বয়স হওয়ায় বাচ্চাটিকে তার বুকের দুধ খাওয়ানো সম্ভব না। আমার তো টাকাও নাই তাই নবজাতক শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখা জন্য বজার থেকে দুধ কিনে খাওয়ানোর মতো সামর্থও আমার পরিবারের নেই। আমার মেয়ের এমন সর্বনাশকরারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা জানান, কিবরিয়ার পরিবার প্রভাবশালী। আমি একজন দিনমজুর। ওদের সাথে আমি হয়তো পারব না। তবুও আমি আমার সহজ-সরল প্রতিবন্ধী মেয়ের উপরে হওয়া অন্যায়ের ন্যায় বিচার চাই।
মামলাটির দায়িত্বে থাকা এসআই মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। অভিযুক্ত আসামি কিবরিয়াকে আটকের সব রকম চেষ্টা অব্যাহত আছে।
রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, 2:30 PM
নেত্রকোনার বারহাট্টায় ধর্ষণের শিকার ১৪ বছরের প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাচ্চা প্রসব। তার বাড়ি উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর লামাপাড়া গ্রামে। মামলার করার তিন মাস পরও কোন এক অদৃশ্য কারণে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি ধর্ষকে। সুবিচারের দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার গত ৩ সেপ্টেম্বর বারহাট্টা থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর পুলিশ ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে চন্দ্রপুর লামাপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী পারুল আক্তার (৪৫) কে আটক করে। কিন্তু অভিযোগের ৩ মাস চলে গেলেও ধর্ষণের ঘটনার মূল অভিযুক্ত কিবরিয়া (২৪) কে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে ধর্ষক গ্রেফতার না হওয়ায় অসহায় গরীব পরিবারটি ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী মেয়ে ও নবজাতক শিশুটিকে নিয়ে পথে পথে ঘুরছে।
ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, ধর্ষক কিবরিয়া সিংধা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিমের আত্মীয় হওয়ায় উল্টো ভুক্তভোগীদের উপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, থানা পুলিশকে মূল অভিযুক্ত ধর্ষককে আটকের কথা বললে তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে ধর্ষককের সন্ধান দিতে বলে। তারা আরও জানান, আমরা গরীব মানুষ ধর্ষক কোথায় আছে এই তথ্য আমরা পুলিশকে কিভাবে দিব।
এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য গণমাধ্যমের পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের বারহাট্টা শাখার কেন্দ্র ব্যবস্থাপক সুরজিত কুমার ভোমিক। তিনি বলেন, এই নারকীয় ধর্ষণের দায় রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে। আমার জানা মতে উপজেলা জুড়ে একরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে কিন্তু বেশিরভাগ পরিবারই লোকলজ্জার ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতে আগ্রহী না। এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং আমাদের নারী প্রগতি সংঘে পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার মূল অভিযুক্ত ২নং আসামি কিবরিয়া প্রতিবেশী পারুল আক্তারের বাড়িতে আগেই অবস্থান করছিল। ঘটনার সময় পারুল আক্তার ভুক্তভোগীকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সে ঘরের বাহিরের সিটকিনি লাগিয়ে চলে যায়। তখন সুযোগ পেয়ে খালি ঘরে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত কিবরিয়া। বিষয়টি প্রথমে ভয়ে পরিবারকে জানায়নি ভুক্তভোগী। তবে পরিবর্তীতে ভুক্তভোগী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় বিষয়টি জানাজানি হয়। কিবরিয়া প্রথমে বিয়ের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে সবকিছু অস্বীকার করে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ঘটনার বিবরণে জানান, আমরা গরীব মানুষ ত্রিপলের ঘরে বসবাস করি। আমার স্বামী ভাড়ায় অন্যের অটোরিকশা চালিয়ে খুব কষ্ট করে সংসার চালায়। আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে কিবরিয়া (২৪) ধর্ষণ করে সর্বনাশ করেছে। ধর্ষণের মাসখানেক।পর থেকে মেয়ে কিছু খায় না, বমি বমি ভাব। পরে তাকে অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর অবশেষে সে তার মায়ের সাথে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে। পরবর্তীতে মামলা করলেও কোনা এক অদৃশ্য কারণে এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। গত সাত দিন আগে আমার মেয়ের একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেছে। আমি এখন আমার মেয়েকে ও দুধের শিশুটিকে নিয়ে কোথায় যাবো? অল্প বয়স হওয়ায় বাচ্চাটিকে তার বুকের দুধ খাওয়ানো সম্ভব না। আমার তো টাকাও নাই তাই নবজাতক শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখা জন্য বজার থেকে দুধ কিনে খাওয়ানোর মতো সামর্থও আমার পরিবারের নেই। আমার মেয়ের এমন সর্বনাশকরারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা জানান, কিবরিয়ার পরিবার প্রভাবশালী। আমি একজন দিনমজুর। ওদের সাথে আমি হয়তো পারব না। তবুও আমি আমার সহজ-সরল প্রতিবন্ধী মেয়ের উপরে হওয়া অন্যায়ের ন্যায় বিচার চাই।
মামলাটির দায়িত্বে থাকা এসআই মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। অভিযুক্ত আসামি কিবরিয়াকে আটকের সব রকম চেষ্টা অব্যাহত আছে।