দৈনিক পল্লী বাংলা

গাজীপুরে পৈতৃক জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় পৈতৃক জমি দখল, নির্মাণকাজে বাধা এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে বিবাদী পক্ষ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পুলিশের কাছে পাল্টা অভিযোগ করার কথা জানিয়েছে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এলাকার বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম খান বাদী হয়ে গাছা থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মো. মোস্তফা (৪৫) তাঁর বোন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র মতে, গাছা থানাধীন জাঝর মৌজার ৩৪ শতাংশ জমি রেকর্ড ও ওয়ারিশ সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে নুরুল ইসলাম খানের পরিবার। উক্ত জমিতে সীমানা প্রাচীর ও নতুন নির্মাণ কাজ শুরু করলে বিবাদীরা তাতে বাধা দেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করলে ২০১৪ সালে আদালত নুরুল ইসলাম খানের পক্ষে রায় প্রদান করেন।বাদী নুরুল ইসলাম খান বলেন আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও গত ২২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেলে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। কোর্টের রায় ও খাজনা-খারিজসহ সব কাগজপত্র আমাদের নামে থাকা সত্ত্বেও মোস্তফারা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। প্রাণভয়ে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।ঘটনার বিবরণ দিয়ে সেখানে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিক সুমন জানান, কাজ করার সময় হঠাৎ বিবাদী পক্ষের লোকজন এসে তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে সীমানা গেটে তালা লাগিয়ে দেয়।চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বিবাদী মো. মোস্তফা বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এই জমি আমার বাবা কিনেছিলেন। তারা জোর পূর্বক ঘরবাড়ি তৈরি করতে গেলে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ জানাই। খবর পেয়ে পুলিশ এসে উভয় পক্ষকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিন খান জানান, কাগজপত্র অনুযায়ী জমির প্রকৃত মালিক নুরুল ইসলাম খানের পরিবার। তবে চাঁদা দাবি বা সরাসরি হামলার বিষয়ে তিনি কিছু দেখেননি বলে জানান।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাছা থানা পুলিশ জানায়, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গাজীপুরে পৈতৃক জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ