ঢাকা ০১ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল অভিনেতা জাহের আলভী রিমান্ড শেষে কারাগারে দেশে ফিরতে বাধা দিচ্ছে ভেনেজুয়েলা সরকার : মাচাদো জুলাই মাসেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের মূল্য ঢাবিতে ন্যানোটেকনোলজি গবেষণায় এএফএম মেশিনের ব্যবহার নিয়ে প্রশিক্ষণ জার্মানির রেকর্ড স্পর্শ করল ব্রাজিল গণমাধ্যমে তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে মাদ্রাসাছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু, বজ্রপাতে আহত-২  মুন্সীগঞ্জে আধুনিক কৃষি ও পুষ্টি নিরাপত্তায় ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত

কালিয়াকৈরে বাণিজ্য মেলার নামে কোটি টাকা লোপাট: পরিচালক লাপাত্তা

#
news image

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার আড়ালে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেলার লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে গত পাঁচ দিন ধরে লাপাত্তা রয়েছেন মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ মাহবুব আলম। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মেলার সমাপনী মালামাল আটক করেছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ মাহবুব আলম কালিয়াকৈর উপজেলার বড় গোবিন্দাপুর এলাকার মৃত শহিদুল হকের ছেলে।
এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার মাকিষবাথান এলাকায় ‘কালিয়াকৈর হাইটেক মডেল টাউন’ মাঠে ‘এসআরটিসি সৈয়দপুর ট্রেডিং কোম্পানি’র আয়োজনে গত ২৮ মে থেকে এক মাসব্যাপী এই শিল্প ও বাণিজ্য মেলা শুরু হয়, যা শেষ হয় গত ২৮ জুন। মেলা চলাকালীন মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপক মাহবুব আলম মোটা অঙ্কের লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি এবং মেলা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু মেলা শেষ হওয়ার আগেই গত ২৫ জুন রাত ৮টার পর থেকে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ বা লাপাত্তা হয়ে যান। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।
মাহবুবের লাপাত্তা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে অর্থ বিনিয়োগকারী ভুক্তভোগীদের মাঝে হাহাকার ও চরম হতাশা নেমে আসে। এই ঘটনায় খোকন মিয়া নামের এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়াও মৌখিকভাবে থানায় আরও একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মেলা প্রাঙ্গণে অভিযান চালিয়ে সমাপনী মালামাল জব্দ করে পুলিশ।
অভিযানকালে মেলাস্থলে উপস্থিত মাহবুবের ছোট বোনের জামাই ও মেলার দোকানদার সোহেল রানা মাহবুবের লাপাত্তা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি দাবি করেন, “আমি নিজেও মাহবুবের কাছে টাকা পাই। তবে মেলা কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়া হোক এবং দোকানদারদের মালামাল যেন পুলিশ আটকে না রাখে।” সোহেল রানার মতো মেলায় অংশ নেওয়া আরও অনেক দোকানদারও মেলা কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের পাওনা টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী খোকন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেলার পার্টনারশিপ ও লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে মাহবুব আমার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছে। শুধু আমি নই, আমার মতো বহু মানুষের কাছ থেকে সে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে মেলা শেষ হওয়ার আগেই পালিয়ে গেছে। টাকা ফেরতের আশায় আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ মালামাল জব্দ করেছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেলার মূল আয়োজক ‘এসআরটিসি সৈয়দপুর ট্রেডিং কোম্পানি’র মালিক সৈয়দপুর রহমান বলেন, “আমরা দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে সুনামের সাথে মেলার আয়োজন করে আসছি। মাহবুব মূলত বিভিন্ন মেলায় মাইকিংয়ের কাজ করত। সে যে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে, তা মেলার ম্যানেজার নাজমুলের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। কিন্তু মানুষ কিসের ভিত্তিতে তাকে টাকা দিয়েছে তা আমার জানা নেই। উল্টো আমি নিজেই মাহবুবের কাছে ৬ লক্ষ টাকা পাই।” প্রতারণার শিকার সবাইকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন এই আয়োজক।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, “বাণিজ্য মেলার অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ মেলাস্থলের মালামাল জব্দ রেখেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

মো: মাসুদুর রহমান, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) :

৩০ জুন, ২০২৬,  8:17 PM

news image

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার আড়ালে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেলার লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে গত পাঁচ দিন ধরে লাপাত্তা রয়েছেন মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ মাহবুব আলম। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মেলার সমাপনী মালামাল আটক করেছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ মাহবুব আলম কালিয়াকৈর উপজেলার বড় গোবিন্দাপুর এলাকার মৃত শহিদুল হকের ছেলে।
এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার মাকিষবাথান এলাকায় ‘কালিয়াকৈর হাইটেক মডেল টাউন’ মাঠে ‘এসআরটিসি সৈয়দপুর ট্রেডিং কোম্পানি’র আয়োজনে গত ২৮ মে থেকে এক মাসব্যাপী এই শিল্প ও বাণিজ্য মেলা শুরু হয়, যা শেষ হয় গত ২৮ জুন। মেলা চলাকালীন মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপক মাহবুব আলম মোটা অঙ্কের লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি এবং মেলা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু মেলা শেষ হওয়ার আগেই গত ২৫ জুন রাত ৮টার পর থেকে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ বা লাপাত্তা হয়ে যান। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।
মাহবুবের লাপাত্তা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে অর্থ বিনিয়োগকারী ভুক্তভোগীদের মাঝে হাহাকার ও চরম হতাশা নেমে আসে। এই ঘটনায় খোকন মিয়া নামের এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়াও মৌখিকভাবে থানায় আরও একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মেলা প্রাঙ্গণে অভিযান চালিয়ে সমাপনী মালামাল জব্দ করে পুলিশ।
অভিযানকালে মেলাস্থলে উপস্থিত মাহবুবের ছোট বোনের জামাই ও মেলার দোকানদার সোহেল রানা মাহবুবের লাপাত্তা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি দাবি করেন, “আমি নিজেও মাহবুবের কাছে টাকা পাই। তবে মেলা কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়া হোক এবং দোকানদারদের মালামাল যেন পুলিশ আটকে না রাখে।” সোহেল রানার মতো মেলায় অংশ নেওয়া আরও অনেক দোকানদারও মেলা কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের পাওনা টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী খোকন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেলার পার্টনারশিপ ও লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে মাহবুব আমার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছে। শুধু আমি নই, আমার মতো বহু মানুষের কাছ থেকে সে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে মেলা শেষ হওয়ার আগেই পালিয়ে গেছে। টাকা ফেরতের আশায় আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ মালামাল জব্দ করেছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেলার মূল আয়োজক ‘এসআরটিসি সৈয়দপুর ট্রেডিং কোম্পানি’র মালিক সৈয়দপুর রহমান বলেন, “আমরা দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে সুনামের সাথে মেলার আয়োজন করে আসছি। মাহবুব মূলত বিভিন্ন মেলায় মাইকিংয়ের কাজ করত। সে যে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে, তা মেলার ম্যানেজার নাজমুলের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। কিন্তু মানুষ কিসের ভিত্তিতে তাকে টাকা দিয়েছে তা আমার জানা নেই। উল্টো আমি নিজেই মাহবুবের কাছে ৬ লক্ষ টাকা পাই।” প্রতারণার শিকার সবাইকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন এই আয়োজক।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, “বাণিজ্য মেলার অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ মেলাস্থলের মালামাল জব্দ রেখেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”