ফাতেমার মৃত্যুর পর খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘির কুমির অপসারণ
সৈয়দ ওবায়দুল হোসেন, খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো চিফ :
০৩ জুন, ২০২৬, 7:39 PM
ফাতেমার মৃত্যুর পর খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘির কুমির অপসারণ
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘির আলোচিত মাদী কুমিরটি অবশেষে অপসারণ করা হয়েছে। আট বছর বয়সী শিশু ফাতেমার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বয়রাস্থ বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
সকাল থেকেই বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাজার এলাকায় অবস্থান নেন। বেলা ১১টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বিশেষ কৌশলে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে দুপুর ১২টার দিকে কুমিরটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে সেটিকে খুলনার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় মাজার কর্তৃপক্ষ ও বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
গত সোমবার (১ জুন) রাতে মাজার সংলগ্ন দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল করতে নেমে কুমিরের হামলার শিকার হয় আট বছর বয়সী ফাতেমা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি শিশুটিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজন রাতভর উদ্ধার অভিযান চালায়। প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা পর মঙ্গলবার ভোরে দিঘি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই দিঘির কুমিরটি অপসারণের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কুমিরটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিঘিপাড়ের বাসিন্দা কুলসুম বেগম বলেন, “খান জাহানের আমলের কুমির শান্ত ছিল। কিন্তু এই কুমিরকে আমরা অনেক ভয় পেতাম। দিঘিতে নামতেও সাহস হতো না।”
কুমির বিশেষজ্ঞ আজাদ কবির জানান, প্রায় ৬০০ কেজি ওজনের মাদী কুমিরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, “শিশুটির মৃত্যুর ঘটনার পর জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিরটিকে অপসারণ করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।”
সৈয়দ ওবায়দুল হোসেন, খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো চিফ :
০৩ জুন, ২০২৬, 7:39 PM
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘির আলোচিত মাদী কুমিরটি অবশেষে অপসারণ করা হয়েছে। আট বছর বয়সী শিশু ফাতেমার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বয়রাস্থ বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
সকাল থেকেই বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাজার এলাকায় অবস্থান নেন। বেলা ১১টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বিশেষ কৌশলে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে দুপুর ১২টার দিকে কুমিরটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে সেটিকে খুলনার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় মাজার কর্তৃপক্ষ ও বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
গত সোমবার (১ জুন) রাতে মাজার সংলগ্ন দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল করতে নেমে কুমিরের হামলার শিকার হয় আট বছর বয়সী ফাতেমা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি শিশুটিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজন রাতভর উদ্ধার অভিযান চালায়। প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা পর মঙ্গলবার ভোরে দিঘি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই দিঘির কুমিরটি অপসারণের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কুমিরটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিঘিপাড়ের বাসিন্দা কুলসুম বেগম বলেন, “খান জাহানের আমলের কুমির শান্ত ছিল। কিন্তু এই কুমিরকে আমরা অনেক ভয় পেতাম। দিঘিতে নামতেও সাহস হতো না।”
কুমির বিশেষজ্ঞ আজাদ কবির জানান, প্রায় ৬০০ কেজি ওজনের মাদী কুমিরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, “শিশুটির মৃত্যুর ঘটনার পর জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিরটিকে অপসারণ করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।”