গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সোহেল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি: নিয়োগ না থেকেও নিয়ন্ত্রণে সব !
গাজীপুর প্রতিনিধি :
১৯ মে, ২০২৬, 8:04 PM
গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সোহেল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি: নিয়োগ না থেকেও নিয়ন্ত্রণে সব !
গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে এক রহস্যময় ব্যক্তির প্রভাব ও দাপট নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তার নাম সোহেল রানা। সরকারি কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। দলিল লেখক থেকে শুরু করে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন— কে এই সোহেল? আর কোথায় তার খুঁটির জোর?
অভিযোগ রয়েছে, গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সোহেল রানার প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে, অনেক সময় তাকে অফিসের মূল নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তির ভূমিকায় দেখা যায়। কোন দলিল আগে সম্পন্ন হবে, কার ফাইল আটকে থাকবে কিংবা কার কাজ দ্রুত হবে— এসব বিষয়েও তার পরোক্ষ হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মারিয়ালী এলাকায় সোহেল রানার বাড়ি। একই এলাকায় রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স ভবন অবস্থিত হওয়ায় তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের ভাষ্যমতে, বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী পরিচয়ে এলাকায় তার দাপট এখন আকাশচুম্বী। একসময় আর্থিকভাবে অনটন ও দুর্বল থাকলেও বর্তমানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক পরিচালিত অভিযানের পরও প্রকাশ্যে রেজিস্ট্রি অফিসের নানা কর্মকাণ্ডে সোহেলের হস্তক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন দলিল লেখক ও দালালচক্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। অফিসে আসা সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের (ঘুষ/চাঁদা) অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না বলে জানিয়েছেন অনেকে।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় পুরো অফিস ব্যবস্থাকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন সোহেল রানা। এমনকি নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু সরকারি কর্মচারীও তার প্রভাব ও হুমকির কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ জনমনে তীব্র ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন— একজন অনিয়োগপ্রাপ্ত বহিরাগত ব্যক্তি কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসে এত প্রভাব বিস্তার করেন ? তার পেছনে মূল গডফাদার কারা? কোন শক্তির বলে তিনি এতটা বেপরোয়া ?
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে এসব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি অফিসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য ও সিন্ডিকেট বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।
গাজীপুর প্রতিনিধি :
১৯ মে, ২০২৬, 8:04 PM
গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে এক রহস্যময় ব্যক্তির প্রভাব ও দাপট নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তার নাম সোহেল রানা। সরকারি কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। দলিল লেখক থেকে শুরু করে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন— কে এই সোহেল? আর কোথায় তার খুঁটির জোর?
অভিযোগ রয়েছে, গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সোহেল রানার প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে, অনেক সময় তাকে অফিসের মূল নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তির ভূমিকায় দেখা যায়। কোন দলিল আগে সম্পন্ন হবে, কার ফাইল আটকে থাকবে কিংবা কার কাজ দ্রুত হবে— এসব বিষয়েও তার পরোক্ষ হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মারিয়ালী এলাকায় সোহেল রানার বাড়ি। একই এলাকায় রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স ভবন অবস্থিত হওয়ায় তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের ভাষ্যমতে, বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী পরিচয়ে এলাকায় তার দাপট এখন আকাশচুম্বী। একসময় আর্থিকভাবে অনটন ও দুর্বল থাকলেও বর্তমানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক পরিচালিত অভিযানের পরও প্রকাশ্যে রেজিস্ট্রি অফিসের নানা কর্মকাণ্ডে সোহেলের হস্তক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন দলিল লেখক ও দালালচক্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। অফিসে আসা সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের (ঘুষ/চাঁদা) অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না বলে জানিয়েছেন অনেকে।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় পুরো অফিস ব্যবস্থাকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন সোহেল রানা। এমনকি নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু সরকারি কর্মচারীও তার প্রভাব ও হুমকির কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ জনমনে তীব্র ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন— একজন অনিয়োগপ্রাপ্ত বহিরাগত ব্যক্তি কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসে এত প্রভাব বিস্তার করেন ? তার পেছনে মূল গডফাদার কারা? কোন শক্তির বলে তিনি এতটা বেপরোয়া ?
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে এসব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি অফিসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য ও সিন্ডিকেট বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।