পদ্মা পাড় খনন করে রাতভর মাটি পাচার, হুমকির মুখে চরভদ্রাসনের রাস্তা-ঘাট ও স্বপ্নের ব্লক বাঁধ
চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
১৮ মে, ২০২৬, 9:15 PM
পদ্মা পাড় খনন করে রাতভর মাটি পাচার, হুমকির মুখে চরভদ্রাসনের রাস্তা-ঘাট ও স্বপ্নের ব্লক বাঁধ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর বিভিন্ন পাড় এলাকায় বেকু মেশিন দিয়ে গভীরভাবে খনন করে রাতভর ট্রাকে ট্রাকে বালু-মাটি পাচারের অভিযোগ উঠেছে ভূমিখেকো চক্রের বিরুদ্ধে। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে উপজেলার রাস্তা-ঘাট ও নদী ভাঙ্গন কবলিত মানুষের আকাঙ্ক্ষার পদ্মা পাড়ের সিসি ব্লক বাঁধ।
উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের আরজখার ডাঙ্গী গ্রামের প্রধান পাকা সড়কসংলগ্ন এলাকায় বিশাল পুকুর আকৃতিতে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী জুলহাস সিকদার ওরফে জুলু মেম্বারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটার ফলে গ্রামের প্রধান সড়ক এবং শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা রক্ষা সিসি ব্লক বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
রোববার দুপুরে এ বিষয়ে জুলহাস সিকদার ওরফে জুলু মেম্বারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উপজেলার বিএনপি নেতা দীপু খানসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী ভুবনেশ্বর নদের পাড় বাঁধা মাটি ও পদ্মা পাড়ের বিভিন্ন এলাকার মাটি রাতভর শত শত ট্রাকে বিক্রি করছেন। প্রায় তিন বছর আগে খনন করা ভুবনেশ্বর নদের পাড়ের মাটিও বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে বেকু মেশিনের অভাবে তা বন্ধ থাকলেও আবার শুরু হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চলমান সরকারি খাল খনন কর্মসূচিতে উত্তোলিত নতুন মাটিও বিক্রির চেষ্টা চলছে। এ সময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন,
“শুধু আমার মাটি কাটার দিকেই নজর, অন্যদের দিকে কোনো খেয়াল নেই?”
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ সোবহান আক্ষেপ করে বলেন, “এ বছর যেভাবে মাসের পর মাস পদ্মা পাড় কেটে মাটি নেওয়া হয়েছে, তাতে বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। বহুবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে এখানে বাড়ি করেছি। এখন আবার বসতভিটা, রাস্তা ও বাঁধ হুমকির মুখে।”
আরেক বাসিন্দা নিজামদ্দিন শেখ বলেন, “এলাকাবাসীর বহুদিনের দাবি ছিল পদ্মা রক্ষা বাঁধ। এখন যদি মাটি কাটার কারণে সেই সিসি ব্লক বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে পুরো এলাকার মানুষের সর্বনাশ হবে। দ্রুত মাটি কাটা ও পাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পদ্মা পাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করা অনেকের জন্য লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের অভিযান চলাকালে কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও পরে আবারও শুরু হয় মাটি পাচার। উপজেলা সদর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রাতভর ট্রাকে ট্রাকে মাটি পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানান, “আরজখার ডাঙ্গী এলাকায় পদ্মা পাড়ে মাটি কাটার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে এসিল্যান্ডকে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে কাউকে না পাওয়া গেলেও বেকু মেশিনের মালামাল জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোসাইন বলেন, “কিছু লোক গভীর রাতে পদ্মা পাড় কেটে মাটি পাচার করে। রাতে পুলিশ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে জুলু মেম্বার প্রশাসনের চাপে আর মাটি কাটবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন।”
চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
১৮ মে, ২০২৬, 9:15 PM
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর বিভিন্ন পাড় এলাকায় বেকু মেশিন দিয়ে গভীরভাবে খনন করে রাতভর ট্রাকে ট্রাকে বালু-মাটি পাচারের অভিযোগ উঠেছে ভূমিখেকো চক্রের বিরুদ্ধে। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে উপজেলার রাস্তা-ঘাট ও নদী ভাঙ্গন কবলিত মানুষের আকাঙ্ক্ষার পদ্মা পাড়ের সিসি ব্লক বাঁধ।
উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের আরজখার ডাঙ্গী গ্রামের প্রধান পাকা সড়কসংলগ্ন এলাকায় বিশাল পুকুর আকৃতিতে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী জুলহাস সিকদার ওরফে জুলু মেম্বারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটার ফলে গ্রামের প্রধান সড়ক এবং শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা রক্ষা সিসি ব্লক বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
রোববার দুপুরে এ বিষয়ে জুলহাস সিকদার ওরফে জুলু মেম্বারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উপজেলার বিএনপি নেতা দীপু খানসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী ভুবনেশ্বর নদের পাড় বাঁধা মাটি ও পদ্মা পাড়ের বিভিন্ন এলাকার মাটি রাতভর শত শত ট্রাকে বিক্রি করছেন। প্রায় তিন বছর আগে খনন করা ভুবনেশ্বর নদের পাড়ের মাটিও বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে বেকু মেশিনের অভাবে তা বন্ধ থাকলেও আবার শুরু হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চলমান সরকারি খাল খনন কর্মসূচিতে উত্তোলিত নতুন মাটিও বিক্রির চেষ্টা চলছে। এ সময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন,
“শুধু আমার মাটি কাটার দিকেই নজর, অন্যদের দিকে কোনো খেয়াল নেই?”
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ সোবহান আক্ষেপ করে বলেন, “এ বছর যেভাবে মাসের পর মাস পদ্মা পাড় কেটে মাটি নেওয়া হয়েছে, তাতে বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। বহুবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে এখানে বাড়ি করেছি। এখন আবার বসতভিটা, রাস্তা ও বাঁধ হুমকির মুখে।”
আরেক বাসিন্দা নিজামদ্দিন শেখ বলেন, “এলাকাবাসীর বহুদিনের দাবি ছিল পদ্মা রক্ষা বাঁধ। এখন যদি মাটি কাটার কারণে সেই সিসি ব্লক বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে পুরো এলাকার মানুষের সর্বনাশ হবে। দ্রুত মাটি কাটা ও পাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পদ্মা পাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করা অনেকের জন্য লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের অভিযান চলাকালে কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও পরে আবারও শুরু হয় মাটি পাচার। উপজেলা সদর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রাতভর ট্রাকে ট্রাকে মাটি পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানান, “আরজখার ডাঙ্গী এলাকায় পদ্মা পাড়ে মাটি কাটার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে এসিল্যান্ডকে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে কাউকে না পাওয়া গেলেও বেকু মেশিনের মালামাল জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোসাইন বলেন, “কিছু লোক গভীর রাতে পদ্মা পাড় কেটে মাটি পাচার করে। রাতে পুলিশ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে জুলু মেম্বার প্রশাসনের চাপে আর মাটি কাটবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন।”