ঝুঁকিতে ছোট ধলী ব্রিজ: দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিচ্ছিন্ন হতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থা
মোহাম্মদ উল্যা, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :
১৮ মে, ২০২৬, 9:22 PM
ঝুঁকিতে ছোট ধলী ব্রিজ: দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিচ্ছিন্ন হতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থা
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও ফেনীর সোনাগাজী সীমান্তবর্তী ছোট ফেনী নদীর ওপর নির্মিত ছোট ধলী ব্রিজ বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সেতুর নিচের অংশে ভাঙন ও মাটির ক্ষয় সৃষ্টি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
জানা যায়, মুসাপুর বাংলাবাজার সংলগ্ন ছোট ফেনী নদীর ওপর ২০১৭ সালে নোয়াখালী সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। রানা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। স্থানীয় জনগণের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগ সহজ করতে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতু নির্মাণের পর থেকেই এক শ্রেণির অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্র নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, সেতুর পিলারের আশপাশ থেকেও বালু উত্তোলন করা হয়েছে, যার ফলে পিলারের ভিত্তির নিচে মাটি সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নদীর তলদেশে বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত ও মাটির ক্ষয়ের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সেতুর স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর তলদেশ থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলন করলে সেতুর ভিত্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে সেতুর পিলারের চারপাশে বালিভর্তি জিওব্যাগ, বালু-সিমেন্ট মিশ্রিত বস্তা ফেলা, নদী তীর সংরক্ষণ এবং ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছোট ধলী ব্রিজটি শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়; এটি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এলাকার ফসল পরিবহন, গবাদিপশু আনা-নেওয়া, বাজার ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি নদীভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমিও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রকৌশলগত জরিপ, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান এবং স্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নদী তীরবর্তী এলাকায় নির্মিত সেতুর স্থায়িত্ব অনেকাংশে নির্ভর করে নদীর তলদেশের ভারসাম্যের ওপর। যখন সেতুর পিলারের আশপাশ থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হয়, তখন “স্কাওরিং” বা তলদেশ ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে। এটি সেতুর ভিত্তিকে দুর্বল করে এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ছোট ধলী ব্রিজ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবি। অন্যথায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মোহাম্মদ উল্যা, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :
১৮ মে, ২০২৬, 9:22 PM
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও ফেনীর সোনাগাজী সীমান্তবর্তী ছোট ফেনী নদীর ওপর নির্মিত ছোট ধলী ব্রিজ বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সেতুর নিচের অংশে ভাঙন ও মাটির ক্ষয় সৃষ্টি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
জানা যায়, মুসাপুর বাংলাবাজার সংলগ্ন ছোট ফেনী নদীর ওপর ২০১৭ সালে নোয়াখালী সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। রানা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। স্থানীয় জনগণের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগ সহজ করতে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতু নির্মাণের পর থেকেই এক শ্রেণির অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্র নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, সেতুর পিলারের আশপাশ থেকেও বালু উত্তোলন করা হয়েছে, যার ফলে পিলারের ভিত্তির নিচে মাটি সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নদীর তলদেশে বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত ও মাটির ক্ষয়ের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সেতুর স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর তলদেশ থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলন করলে সেতুর ভিত্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে সেতুর পিলারের চারপাশে বালিভর্তি জিওব্যাগ, বালু-সিমেন্ট মিশ্রিত বস্তা ফেলা, নদী তীর সংরক্ষণ এবং ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছোট ধলী ব্রিজটি শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়; এটি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এলাকার ফসল পরিবহন, গবাদিপশু আনা-নেওয়া, বাজার ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি নদীভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমিও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রকৌশলগত জরিপ, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান এবং স্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নদী তীরবর্তী এলাকায় নির্মিত সেতুর স্থায়িত্ব অনেকাংশে নির্ভর করে নদীর তলদেশের ভারসাম্যের ওপর। যখন সেতুর পিলারের আশপাশ থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হয়, তখন “স্কাওরিং” বা তলদেশ ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে। এটি সেতুর ভিত্তিকে দুর্বল করে এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ছোট ধলী ব্রিজ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবি। অন্যথায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সম্পর্কিত