ফটিকছড়িতে মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষককে গণপিটুনি
কামাল উদ্দীন চৌধুরী, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :
১০ মে, ২০২৬, 7:42 PM
ফটিকছড়িতে মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষককে গণপিটুনি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে অভিযুক্তকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে না দিয়ে স্থানীয়ভাবে ‘বিচার’ করায় এলাকায় সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হেফাজত আমির মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর এলাকায় এমন ঘটনা সংঘটিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইমামনগর গ্রামে অবস্থিত বায়তুল করিম মহিলা মাদ্রাসায়। অভিযুক্ত মো: মারুফ (২৫) ওই মাদ্রাসার শিক্ষক এবং একই এলাকার বাসিন্দা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশুটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার (৮ মে) রাতে মাদ্রাসা পরিচালকের কক্ষে স্থানীয় কয়েকজন সমাজপতি ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে একটি শালিসী বৈঠক হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষক অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলে উপস্থিত কয়েকজন দাবি করেন। এরপর উত্তেজিত লোকজন তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং গাছের ঢাল দিয়ে মারধর করেন। শালিসে তাকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কারেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা করা হয়নি এবং অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়নি বলে জানা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক বলেন, শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা উচিত হয়নি। এতে অপরাধের সুষ্ঠু বিচার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদ্রাসাটিতে এর আগেও কিছু শিশু শিক্ষার্থীকে নাজেহাল ও অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও, একটি মহল তা ধামাচাপা দিয়েছে।মাদরাসার পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
মাদ্রাসার পরিচালক বলেন, বিষয়টি নিয়ে রবিবার (১০ মে) শুরা সদস্যদের বৈঠকে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে সচেতন মহল বলছে, শিশু নির্যাতনের অভিযোগে আইনগত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় শালিস নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
কামাল উদ্দীন চৌধুরী, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :
১০ মে, ২০২৬, 7:42 PM
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে অভিযুক্তকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে না দিয়ে স্থানীয়ভাবে ‘বিচার’ করায় এলাকায় সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হেফাজত আমির মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর এলাকায় এমন ঘটনা সংঘটিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইমামনগর গ্রামে অবস্থিত বায়তুল করিম মহিলা মাদ্রাসায়। অভিযুক্ত মো: মারুফ (২৫) ওই মাদ্রাসার শিক্ষক এবং একই এলাকার বাসিন্দা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশুটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার (৮ মে) রাতে মাদ্রাসা পরিচালকের কক্ষে স্থানীয় কয়েকজন সমাজপতি ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে একটি শালিসী বৈঠক হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষক অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলে উপস্থিত কয়েকজন দাবি করেন। এরপর উত্তেজিত লোকজন তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং গাছের ঢাল দিয়ে মারধর করেন। শালিসে তাকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কারেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা করা হয়নি এবং অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়নি বলে জানা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক বলেন, শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা উচিত হয়নি। এতে অপরাধের সুষ্ঠু বিচার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদ্রাসাটিতে এর আগেও কিছু শিশু শিক্ষার্থীকে নাজেহাল ও অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও, একটি মহল তা ধামাচাপা দিয়েছে।মাদরাসার পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
মাদ্রাসার পরিচালক বলেন, বিষয়টি নিয়ে রবিবার (১০ মে) শুরা সদস্যদের বৈঠকে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে সচেতন মহল বলছে, শিশু নির্যাতনের অভিযোগে আইনগত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় শালিস নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সম্পর্কিত