ঢাকা ২৪ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
ইতিহাসের বৃহত্তম ফুটবল উৎসবের সমাপনী: স্পেনের সামনে আর্জেন্টিনা, প্রস্তুত নিউ ইয়র্ক ইরানি হামলায় জ্বলছে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্র ব্যবসায় আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বিসিসিসিআইয়ের সেমিনার: গুরুত্ব পেল এআই ও ব্লকচেইন চট্টগ্রামে বন্যায় ১৫ উপজেলা লণ্ডভণ্ড: ৭ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ঘরবাড়ি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি গাজীপুরে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শতভাগ ফিট ইয়ামাল, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের আগে স্বস্তিতে স্পেন দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার পার, ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু শাল্লায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতা তাফাজ্জুল গ্রেপ্তার কনেবাহী গাড়ি খাদে ,উৎসবের রাতেই বিষাদের ছায়া, নিহত ২ চরভদ্রাসনে হিউম্যান অ্যাপেল অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে ৫০০ বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

বাবার ভিটায় চিরনিদ্রায় লেবাননে নিহত দিপালী

#
news image

দীর্ঘ এক মাস পর দেশে পৌঁছেছে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত বাংলাদেশি নারী শ্রমিক দিপালী আক্তারের (৩৪) মরদেহ। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ পৌঁছানো হয় পদ্মা নদীর তীরে। এরপর ট্রলার ও ঘোড়ার গাড়িতে দুর্গম চরাঞ্চল পাড়ি দিয়ে বাবার ভিটায় পৌঁছে দিপালীর নিথর দেহ। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই আহাজারিতে ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

শুক্রবার (৮ মে) সকালে ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলা-এর চরহরিরামপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরশালেপুর এলাকায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। নিহত দিপালী ওই এলাকার শেখ মোফাজ্জল ওরফে মুকার মেয়ে। গত ৮ এপ্রিল লেবাননের বৈরুতে একটি ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হন দিপালী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রফিক হারিরি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর থেকে মরদেহটি ওই হাসপাতালেই রাখা ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিপালীর মরদেহবাহী উড়োজাহাজ অবতরণ করে। সেখানে পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দিপালীর বাবা শেখ মুকা, বড় ভাই শেখ ওবায়দুল্লাহ ও ছোট বোন লাইজু আক্তার। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরকারি ব্যবস্থাপনায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে রাতেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন স্বজনরা। লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে পৌঁছায় রাত সাড়ে তিনটার দিকে। সেখানে ভোর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর সকাল ছয়টার দিকে ট্রলারে করে রওনা হয়ে তারা পৌঁছান চরভদ্রাসনের আদারচর ঘাটে। পরে ঘোড়ার গাড়িতে করে দিপালীর মরদেহ নেওয়া হয় পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের বাড়িতে।

সকাল ৯টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সেখানে ছুটে যান। জানাজা শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাবার ভিটার পাশেই দাফন করা হয় দিপালীকে।

নিহতের ছোট বোন লাইজু আক্তার বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বোনের লাশটা শেষবারের মতো দেখতে পারছি, এটাই এখন বড় সান্ত্বনা। পরিবারের অভাব ঘোচাতে ১৫ বছর আগে বিদেশে গিয়েছিল। কিন্তু এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে, কখনো ভাবিনি।”

ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী জানান, নিহতের খবর পাওয়ার পর থেকেই দূতাবাসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়। মরদেহ দেশে আনতে সক্ষম হওয়া গেছে এবং পরিবহন ও দাফন বাবদ পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে পরিবারকে আরও তিন লাখ টাকা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের মধ্যে বেড়ে ওঠেন দিপালী। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বয়স বাড়িয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান বিদেশে। ২০১১ সালে বৈধভাবে লেবাননের বৈরুতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে ২০১৮ সালে সাত বছর পর দেশে আসেন এবং তিন মাস অবস্থান করে আবার কর্মস্থলে ফিরে যান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে একই মালিকের কাছে কাজে যোগ দিতে লেবাননে ফিরে গিয়েছিলেন দিপালী।

লিয়াকত আলী লাভলু, চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি  :

০৮ মে, ২০২৬,  7:58 PM

news image

দীর্ঘ এক মাস পর দেশে পৌঁছেছে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত বাংলাদেশি নারী শ্রমিক দিপালী আক্তারের (৩৪) মরদেহ। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ পৌঁছানো হয় পদ্মা নদীর তীরে। এরপর ট্রলার ও ঘোড়ার গাড়িতে দুর্গম চরাঞ্চল পাড়ি দিয়ে বাবার ভিটায় পৌঁছে দিপালীর নিথর দেহ। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই আহাজারিতে ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

শুক্রবার (৮ মে) সকালে ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলা-এর চরহরিরামপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরশালেপুর এলাকায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। নিহত দিপালী ওই এলাকার শেখ মোফাজ্জল ওরফে মুকার মেয়ে। গত ৮ এপ্রিল লেবাননের বৈরুতে একটি ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হন দিপালী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রফিক হারিরি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর থেকে মরদেহটি ওই হাসপাতালেই রাখা ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিপালীর মরদেহবাহী উড়োজাহাজ অবতরণ করে। সেখানে পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দিপালীর বাবা শেখ মুকা, বড় ভাই শেখ ওবায়দুল্লাহ ও ছোট বোন লাইজু আক্তার। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরকারি ব্যবস্থাপনায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে রাতেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন স্বজনরা। লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে পৌঁছায় রাত সাড়ে তিনটার দিকে। সেখানে ভোর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর সকাল ছয়টার দিকে ট্রলারে করে রওনা হয়ে তারা পৌঁছান চরভদ্রাসনের আদারচর ঘাটে। পরে ঘোড়ার গাড়িতে করে দিপালীর মরদেহ নেওয়া হয় পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের বাড়িতে।

সকাল ৯টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সেখানে ছুটে যান। জানাজা শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাবার ভিটার পাশেই দাফন করা হয় দিপালীকে।

নিহতের ছোট বোন লাইজু আক্তার বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বোনের লাশটা শেষবারের মতো দেখতে পারছি, এটাই এখন বড় সান্ত্বনা। পরিবারের অভাব ঘোচাতে ১৫ বছর আগে বিদেশে গিয়েছিল। কিন্তু এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে, কখনো ভাবিনি।”

ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী জানান, নিহতের খবর পাওয়ার পর থেকেই দূতাবাসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়। মরদেহ দেশে আনতে সক্ষম হওয়া গেছে এবং পরিবহন ও দাফন বাবদ পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে পরিবারকে আরও তিন লাখ টাকা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের মধ্যে বেড়ে ওঠেন দিপালী। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বয়স বাড়িয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান বিদেশে। ২০১১ সালে বৈধভাবে লেবাননের বৈরুতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে ২০১৮ সালে সাত বছর পর দেশে আসেন এবং তিন মাস অবস্থান করে আবার কর্মস্থলে ফিরে যান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে একই মালিকের কাছে কাজে যোগ দিতে লেবাননে ফিরে গিয়েছিলেন দিপালী।