ঢাকা ২৫ মে, ২০২৬
শিরোনামঃ
বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী একটা সুন্দর স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দিতে চাই : সিইসি ঈদুল আযহায় বায়তুল মোকাররমে ৫টি জামাত শিক্ষার্থীদের স্বদেশ প্রেম চর্চার পাশাপাশি ইতিহাস জানা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী বিমান বাহিনী একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি ফিলিস্তিন বিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ আলবানিজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র ১০০ কোটি ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়

আওয়ামী ফ্যাসিস্ট-মুক্ত দেড়শ’ দিন আগামীকাল

#
news image

মহাকালের আবর্তে বিলীন হতে যাচ্ছে আরো একটি বছর অর্থাৎ ইংরেজি ২০২৪ সাল। বাংলা মতে, আজ রাত ১২টা পেরোলেই শুরু হবে ইংরেজি নববর্ষ ২০২৫। আর সেইসাথে ফ্যাসিস্ট শাসক মুক্ত প্রিয় বাংলাদেশ ১৫০তম দিনে পড়বে।

আজ মঙ্গরবার (৩১ ডিসেম্বর) আওয়ামী ফ্যাসিস্ট-মুক্ত বাংলাদেশের ১৪৯তম দিন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত অংশ গ্রহণমূলক নির্বাচনে (সাধারণ নির্বাচন)  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দ্বিতীয় বার সরকার গঠন করে। তবে, ওই সরকারের ৫ বছরের মেয়াদে নির্বাচিত ফ্যাসিজমের বীজ রোপিত হলেও অঙ্কুরিত হয়নি।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের মধ্যদিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (সম্প্রতি পতিত স্বৈরাচার) নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ফ্যাসিজমের রোপিত বীজ অঙ্কুরিত হয়। এ অঙ্কুর ধীরে-ধীরে বড় হতে থাকে এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতের ভোটে নির্বাচিত তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারের ৫ বছরের মেয়াদে ডালপালা গজিয়ে এ দেশে ফ্যাসিজম পাকাপোক্ত হয়ে ওঠে। ওই সরকারের পুরোমেয়াদেই আইনের শাসনের পরিবর্তে দেশে কায়েম হয় আওয়ামী লীগের দলীয় শাসন। 

পরে, ২০২৪ সালের ৭ জানুযারি ডামি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করলে, সবকিছুতেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার চিরস্থায়ী ক্ষমতার লোভ, দেশের মানুষ বিশেষ করে ছাত্রসমাজ ভালোভাবে নিতে পারেনি। বিশ্বের ক্ষমতাধর এবং একইসঙ্গে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বিশ্বাসী দেশগুলোও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া সরকার গঠন করায় আওয়ামী লীগের প্রতি বিরূপ হয়ে ওঠে। এর ফলে শেখ হাসিনার মসনদ আস্তে-আস্তে কাঁপতে থাকে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের কোটা বিরোধী (পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী) আন্দোলনে শেখ হাসিনার গদি বন-বন করে ঘুরতে থাকে। ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের (গণঅভুত্থান) মধ্যদিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার গদি উল্টে পড়লে, তিনি নিকটাত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যূত হয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, জনগণের মত প্রকাশের সুযোগ রাখলে যত খারাপ শাসকই হোক না কেনো, অন্তত তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হয় না। সিরিয়ার বাশার আল আসাদ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইউন সুক ইয়োল সাম্প্রতিককালে ক্ষমতা ছেড়েছেন। সিরিয়ার বাশার আল আসাদকে পালাতে হয়েছে অনির্বাচিত বলে। আর জনগণের ভোটে নির্বাচিত বলে ইউন সুক ইয়োল ইমপিচমেন্ট থেকে বেঁচেছেন। 

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনকালীন অবস্থা বিবেচনা করলে ইতালীয় সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, সাহিত্য সমালোচক, দার্শনিক এবং সংকেত বিশ্লেষক উমবের্তো একো’র ফ্যাসিজমকে ‘চিরন্তন’ বলাটা আক্ষরিক অর্থেই সঠিক। তিনি মনে করেন মুসোলিনি, হিটলাররা বিদায় হলেও ফ্যাসিজম বিলুপ্ত হয়নি। তাঁর ভাষায় ‘একটি উন্নত গণতান্ত্রিক সমাজেও কোনো না কোনো উপায়ে ফ্যাসিজমের কোনো না কোনো উপাদান থাকতে পারে।  এসব দেশে উন্নত মানের গণতন্ত্রের চর্চা হয়। কিন্তু বৈশিষ্ট্যগতভাবে এসব দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় বিপুল পরিমাণে ফ্যাসিজমের চর্চা চলে।’ বাংলাদেশে শেখ হাসিনার টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে তথাকথিত নির্বাচিত গণতন্ত্রের নামে কার্যকর ছিল একনায়কতন্ত্র।

বাসস ঢাকা :

৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪,  11:07 PM

news image

মহাকালের আবর্তে বিলীন হতে যাচ্ছে আরো একটি বছর অর্থাৎ ইংরেজি ২০২৪ সাল। বাংলা মতে, আজ রাত ১২টা পেরোলেই শুরু হবে ইংরেজি নববর্ষ ২০২৫। আর সেইসাথে ফ্যাসিস্ট শাসক মুক্ত প্রিয় বাংলাদেশ ১৫০তম দিনে পড়বে।

আজ মঙ্গরবার (৩১ ডিসেম্বর) আওয়ামী ফ্যাসিস্ট-মুক্ত বাংলাদেশের ১৪৯তম দিন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত অংশ গ্রহণমূলক নির্বাচনে (সাধারণ নির্বাচন)  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দ্বিতীয় বার সরকার গঠন করে। তবে, ওই সরকারের ৫ বছরের মেয়াদে নির্বাচিত ফ্যাসিজমের বীজ রোপিত হলেও অঙ্কুরিত হয়নি।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের মধ্যদিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (সম্প্রতি পতিত স্বৈরাচার) নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ফ্যাসিজমের রোপিত বীজ অঙ্কুরিত হয়। এ অঙ্কুর ধীরে-ধীরে বড় হতে থাকে এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতের ভোটে নির্বাচিত তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারের ৫ বছরের মেয়াদে ডালপালা গজিয়ে এ দেশে ফ্যাসিজম পাকাপোক্ত হয়ে ওঠে। ওই সরকারের পুরোমেয়াদেই আইনের শাসনের পরিবর্তে দেশে কায়েম হয় আওয়ামী লীগের দলীয় শাসন। 

পরে, ২০২৪ সালের ৭ জানুযারি ডামি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করলে, সবকিছুতেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার চিরস্থায়ী ক্ষমতার লোভ, দেশের মানুষ বিশেষ করে ছাত্রসমাজ ভালোভাবে নিতে পারেনি। বিশ্বের ক্ষমতাধর এবং একইসঙ্গে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বিশ্বাসী দেশগুলোও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া সরকার গঠন করায় আওয়ামী লীগের প্রতি বিরূপ হয়ে ওঠে। এর ফলে শেখ হাসিনার মসনদ আস্তে-আস্তে কাঁপতে থাকে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের কোটা বিরোধী (পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী) আন্দোলনে শেখ হাসিনার গদি বন-বন করে ঘুরতে থাকে। ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের (গণঅভুত্থান) মধ্যদিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার গদি উল্টে পড়লে, তিনি নিকটাত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যূত হয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, জনগণের মত প্রকাশের সুযোগ রাখলে যত খারাপ শাসকই হোক না কেনো, অন্তত তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হয় না। সিরিয়ার বাশার আল আসাদ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইউন সুক ইয়োল সাম্প্রতিককালে ক্ষমতা ছেড়েছেন। সিরিয়ার বাশার আল আসাদকে পালাতে হয়েছে অনির্বাচিত বলে। আর জনগণের ভোটে নির্বাচিত বলে ইউন সুক ইয়োল ইমপিচমেন্ট থেকে বেঁচেছেন। 

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনকালীন অবস্থা বিবেচনা করলে ইতালীয় সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, সাহিত্য সমালোচক, দার্শনিক এবং সংকেত বিশ্লেষক উমবের্তো একো’র ফ্যাসিজমকে ‘চিরন্তন’ বলাটা আক্ষরিক অর্থেই সঠিক। তিনি মনে করেন মুসোলিনি, হিটলাররা বিদায় হলেও ফ্যাসিজম বিলুপ্ত হয়নি। তাঁর ভাষায় ‘একটি উন্নত গণতান্ত্রিক সমাজেও কোনো না কোনো উপায়ে ফ্যাসিজমের কোনো না কোনো উপাদান থাকতে পারে।  এসব দেশে উন্নত মানের গণতন্ত্রের চর্চা হয়। কিন্তু বৈশিষ্ট্যগতভাবে এসব দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় বিপুল পরিমাণে ফ্যাসিজমের চর্চা চলে।’ বাংলাদেশে শেখ হাসিনার টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে তথাকথিত নির্বাচিত গণতন্ত্রের নামে কার্যকর ছিল একনায়কতন্ত্র।